যমুনা নদীতে ভাসমান নৌকায় জুয়ার আসর

 

নাসির উদ্দিন,টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃটাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে ভাসমান নৌকায় অভিনব কায়দায় শতশত লোকের সমাগমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা চললেও জানে না প্রশাসন। যমুনা নদীতে নৌকা ভাসিয়ে সেখানে চলছে রমরমা ভাসমান জুয়ার আসর। অনেকটা জাকজমক ভাবেই দিনের পর দিন ভাসমান নৌকায় চালানো হচ্ছে এ অবৈধ কার্যক্রম। ঢাকাসহ সারাদেশের জুয়াড়িরা নিরাপদ আস্তনা ভেবে এই যমুনা নদীতে ভাসমান জুয়ার আসরে আসছে। শুধু জুয়াই নয়, সেখানে অবাদে চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কুঠিবয়ড়া হতে গাবসারার রামপুর পর্যন্ত চরাঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে জুয়াড়িদের নিরাপদ স্থানে ভাসমান জুয়া খেলা চলছে। ইঞ্জিন চালিত ছোট ছোট নৌকাযোগে জুয়াড়িরা মধ্যে নদীতে যাচ্ছে। সেখানে থাকা জুয়ার নৌকা অপেক্ষা করছে তাদের নিতে। এরপর নিরাপদ স্থানে নৌকা ভাসিয়ে দিয়ে তাতেই চলে জুয়া খেলা। আর এই খেলা নজরদারী করতে জুয়াড় বোর্ড পরিচালনাকারীরা তাদের নিজস্ব লোকবল গোবিন্দাসী ঘাট থেকে গোপালপুর উপজেলার নলীন পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত রেখেছে খোঁজ খবর রাখার জন্য। আর তাতে জুয়াড় বোর্ড পরিচালনা করছে জুয়াড় হামলা মামলার জামিনে থাকা প্রধান আসামি ফজল মন্ডল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, আয়োজকরা প্রভাবশালী। সেইসাথে প্রশাসন ও ক্ষমতাবানদের সাথে তাদের যোগসাজশ থাকায় তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননা তারা। প্রতিনিয়তই দিনে দুপুরে যমুনা নদীতে ভাসমান ওই নৌকায় চলছে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা আর মাদক সেবন।

এ বিষয়ে গোবিন্দাসী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল মান্নান জানান, যমুনা নদীর বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব হতে গোপালপুরের নলীন পর্যন্ত নৌ পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করে। এরমধ্যে কোথাও নদীতে ভাসমান নৌকায় জুয়া খেলার কোন খবর নেই। তবে থানার অধীন বিভিন্ন নদীর শাখা-প্রশাখা বা খালগুলোতে হয়তবা জুয়া খেলা চলতে পারে।

ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রাশিদুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীতে ভাসমান নৌকায় জুয়া খেলার কোন তথ্য নেই। তবে সিরাজগঞ্জের সীমানায় জুয়া খেলার খবর পাওয়ার পর সেখানকার থানা পুলিশের মাধ্যমে সেটার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী যমুনা ঘাট সংলগ্ন কাঁশবনে জুয়ার আসরের সচিত্র সংবাদ সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায় জুয়াড়িরা। এতে চার সাংবাদিক সহ ৬ জন আহত হয়। ওই রাতেই ডিবিসি নিউজ এর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি সোহেল তালুকদার বাদী হয়ে জুয়াড়ি ফজল মন্ডলকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখহ অজ্ঞাত শতাধিক জুয়াড়ির বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ফজল মন্ডলকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা করে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

দূর্গাপুজা উপলক্ষে সেক্যুলার বাংলাদেশ মুভমেন্ট এর সৌজন্যে উপহার সামগ্রী বিতরণ

  দিপক রায়,পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় শারদীয় দূর্গা পুজা উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত অসহায় মানুষদের …

error: Content is protected !!