ফুলপুরে সংস্কারের অভাবে বিলীন প্রায় মাড়াদেওরা বিলের খাল

 

এস,এম,শামীম(ফুলপুর) ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ-
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের মাড়াদেওড়া গ্রামের বয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মাড়াদেওরা খালটি এখন বিলীন হওয়ার পথে। এক সময় এই খালটি ছিল এলাকার অনেক মানুষের জীবিকার উৎস।

খালের দু’পাশ দখল হয়ে যাওয়া সহ ভরাট হয়ে গেছে তলদেশ। ভরাট হয়ে যাওয়ায় বছরের বেশিরভাগ সময়ই খালে পানি থাকে না। খালের কোন কোন জায়গা দখল করে করা হয়েছে ব্যক্তিগত মাছ চাষের ব্যবস্হা।
সেই সাথে খালের বুকে চলছে চাষাবাদ।

একসময় মাড়াওদেরা, শিববাড়ী,চাঁনপুর, মোকামিয়া, বালিচান্দা গ্রামের উপচে পড়া পানি এই খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বালিচান্দা বিলে প্রবাহিত হতো,এতে বিপুল এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত থাকতো। সারা বছর নাব্যতার কারণে তীব্র গরমে এই খালে গ্রামের ছোট ছেলে মেয়েরা সাঁতার কাটতো। সময়ের বিবর্তনে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এমন দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। তৎকালীন জিয়াউর রহমানের দেশ পরিচালনা কালে, এই খালটি খনন করা হয়েছিল, এরপর থেকে এই খালটি বাঁচানোর জন্য কোন সরকারই এগিয়ে আসেনি।

এ বিষয়ে ভাইটকান্দি ইউনিয়নের মাড়াদেওরা গ্রামের হয়যত আলী জানান, মাড়াদেওড়া খালটি ভরাট হওয়ায় বর্ষাকালে অল্পতেই খালটি উপচে পড়ে, ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহের সুযোগ না থাকায় মাড়া বিলটি কচুরীপানায় ঢেকে থাকে,এই খালের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী ফসলের জমিতে কচুরীপানা ছড়িয়ে পড়ে,এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

এক সময় মাড়াদেওড়া খালটি ৫০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত ছিল, বর্তমানে তা সংকোচিত হয়ে ৫ থেকে ১০ ফুটে দাঁড়িয়েছে।
প্রভাবশালীদের দখলে থাকা পুকুর করে ব্যক্তিগত মাছ চাষ করা, এই খালের জমি গুলো পুনরুদ্ধার করে খনন করা হলে নদীর মাছের উৎস হিসাবে আবারো ফিরে পাবে পুরনো ঐতিহ্য।
সেই সাথে এলাকার মৎস্যজীবীদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ভাইটকান্দি মাড়াদেওরা গ্রামের আবুল খায়ের বাদল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছেন,তাই বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব শরীফ আহম্মেদ এমপি মহোদয় যদি আমাদের এই মাড়াদেওরা খাল খননের ব্যবস্হার জন্য একটু নজর দেন, তাহলে ভাইটকান্দি ইউনিয়ন ও সিংহেশ্বর ইউনিয়নের অনেক লোকের উপকারে আসবে।

এ ব্যাপারে ভাইটকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন আহাম্মদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই খালটি পুনরায় খনন করা হলে, দখলকৃত স্হানগুলো উদ্ধারের পাশা পাশি এলাকার জলাবদ্ধতার নিরসন হবে। বোরো আবাদে এলাকার চাষীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। সেই সাথে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

“মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার” এ স্লোগান কে সামনে রেখে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উদ্দ্যোগে …

error: Content is protected !!