বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে বাঘার দুর্গম চর

 

আনোয়ার হোসেন, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃরাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার এক বিচ্ছিন্ন চরের নাম চকরাজাপুর। এই চরটি নিয়েই চকরাজাপুর ইউনিয়ন। এর আয়তন প্রায় ৪৬ বর্গ কিলোমিটার। পরিবার প্রায় সাড়ে তিন হাজার, লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার। পদ্মার বুকে পলিমাটিতে গড়া এই জনপদ বেশ প্রাচীন। নদীর ওপারে থাকায়, বিদ্যুৎসহ অনেক সুবিধাই অধরা এই চরগুলোতে। তাই দুর্বিসহ কাটে তাদের জীবন। তবে এই দুর্বিসহ জীবন তাদের পাল্টে যেতে চলেছে। তাদের এই দুর্গম চরে যাবে বিদ্যুৎ। বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে তাদের দুর্গম চর। তারা কখনও ভাবেনি তাদের বাড়িতে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে। তবে তাদের কল্পনাকে ছাড়িয়ে এবার তাদের বাড়িতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ।

পদ্মার একটি শাখা নদী পার করে ৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে দুর্গম চরটিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ লাইন। নাটোর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২ ইতিমধ্যেই পদ্মার শাখা নদীতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানোর কাজ শুরু করেছে। গত ২৩শে ফেব্রুয়ারী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করেছেন।

পদ্মার এই দুর্গম চরে বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে ভেবে এই দুর্গম চরের বাসিন্দাদের মনে বয়ছে আনন্দের হাওয়া। এতদিন সোলার সিস্টেম ব্যবহার করে দুধের স্বাধ ঘোলে মিটিয়েছেন তারা। সোলারে বেশি ভোল্টেজের ফ্যান,টিভি,ফ্রীজ কিছুই ব্যবহার করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন চরের বাসিন্দারা। তবে এবার বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেই যাবতীয় বৈদ্যুতিক সুবিধার পণ্য কিনবেন বলেও জানিয়েছেন তারা। বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে জেনেই আনন্দে দিশেহারা হয়ে উঠেছেন চরের মানুষ। কৃষিনির্ভর এই চরের কৃষকরাও অধীর অপেক্ষায় বিদ্যুতের জন্য। কেননা, বিদ্যুৎ আসলে কমবে চাষাবাদের খরচ তৈরি হবে নানা সম্ভবনা।

বিদ্যুুৎ এর ব্যাপারে চরের স্থানীয় সচেতন বাসিন্দা আকবর আলী জানান, আমি কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি আমাদের চরে বিদ্যুৎ আসবে। ছেলে-মেয়েরা বিদ্যুতের স্বচ্ছ আলোয় পড়াশুনা করতে পারবে। ঝলমলে আলোয় আলোকিত হবে আমাদের দুর্গম চর। চরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, চরে দুটি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের কেউ হারিকেন, আবার কেউ সৌর বিদ্যুতের আলোয় পড়াশোনা করে। তবে আর কিছু দিনের মধ্যেই তারা বিদ্যুতের আলোয় পড়াশোনা করতে পারবে। এটা আমরা কখনও কল্পনাও করিনি। বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে আমাদের কল্পনাও ছাড়িয়ে গেল।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বাঘা জোনাল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ধন্যবাদ প্রদান করে তিনি বলেন,তারা চকরাজাপুরবাসীর স্বপ্ন পূরণে খুবই দ্রুততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন,আমার ইউনিয়নে মাত্র এক কিলোমিটার পাকা রাস্তা। কাঁচা রাস্তা ৪০ কিলোমিটার। গ্রামের সংখ্যা ১৫টি। এসব গ্রামের মানুষ কখনও ভাবেননি যে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ আসবে। কখনও কেউ কল্পনাও করেননি। কিন্তু তাদের বাড়িতেই এবার বিদ্যুৎ আসছে।

চরে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর বাঘা জোনাল অফিস এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) সুবির কুমার দত্ত বলেন, আমরা দ্রুত সংযোগ দেয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। প্রয়োজনীয় ২৬.১৪২ কিলোমিটার এর মধ্যে ২৪.৩১৬ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করতে পেরেছি। অল্প কিছু মিটার স্থাপন এবং তার লাইন টানার কাজ অবশিষ্ট আছে।কিছুদিনের মধ্যেই লাইন নির্মাণ শেষ হবে আশা করছি। লাইন নির্মাণ শেষ হলেই অতি দ্রুত সংযোগ প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

প্রেমিকের সাথে সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় বাবার ওপর অভিমান করে মেয়ের আত্মহত্যা

এস,এম,শামীম(ফুলপুর)ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ- ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার পুড়াপুটিয়া গ্রামে রোববার বিকালে নিজ বসত ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে, …

error: Content is protected !!