নকলায় বাল্যবিবাহ বন্ধ করলেন এসিল্যান্ড, ৭০হাজার টাকা জরিমানা

রাইসুল ইসলাম রিফাত, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরেপুর জেলার নকলা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী মেজিস্ট্রেট কাউছার আহাম্মেদ এর হস্তক্ষেপে ১৬ বছর বয়সী ১০ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুদূর রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে আগত বর মিজানুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা এবং নকলা পৌরসভাধীন কুর্শাবাদাগৈড় এলাকার কনের বাবা ও ঘটককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নকলা পৌরসভাধীন কুর্শাবাদাগৈড় এলাকায় পুলিশ বিভাগের বেশ কয়েকজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় এ বাল্যবিবাবহ বন্ধ করা হয়।

জানা গেছে, বাল্যবিবাবহ বন্ধ করার পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী মেজিস্ট্রেট কাউছার আহাম্মেদ বরকে ৫০ হাজার টাকা এবং কনের বাবা ও বিয়ের ঘটককে ১০ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকাসহ মোট ৭০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন এবং জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে ৭ দিনের কারাদন্ডাদেশ দেন। তাছাড়া মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবেন না মর্মে কনের অভিভাবকের কাছ থেকে এবং এ ধরনের কোন প্রকার অপরাধ করবেন না মর্মে বরের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

এলাকার কোন ছেলে-মেয়েদের প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে যেন বিবাহ না হয়, সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে মেয়ের পরিবারের সদস্য ও উপস্থিতিদের মৌখিক অঙ্গীকার করান ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কাউছার আহাম্মেদ। তিনি বলেন, নকলা উপজেলাকে শেরপুর জেলার প্রথম বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এ উপজেলায় বাল্যবিবাহতো দূরের কথা, বাল্যবিবাহ সম্পর্কিত কোন আয়োজনকেও বরদাস্ত করা হবেনা। নকলায় বাল্যবিবাহ সম্পর্কিত কোন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের অভিভাবক ও বরসহ আয়োজকদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে কঠুর হুশিয়ারী দেন তিনি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী মেজিস্ট্রেট কাউছার আহাম্মেদ আরও জানান, বাল্যবিবাহ সম্পর্কিত যেকোন ঘটনা নিরোধ করার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগসহ বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাগন সদা তৎপর রয়েছেন।

 

এলাবাসীদের অনেকে জানান, মিজানুর রহমান দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মধ্যম ও নিন্ম আয়ের পরিবারের মেয়েদের খোঁজ করে বিয়ে করা তার পেশা। বিয়ের পরে কৌশলে ওইসকল মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে বলে জানান তারা। আবার কেউ কেউ বলেন, মিজান অবৈধ কোন ব্যবসার সাথে জড়িত থাকতে পারে। তাই সে নিজের এলাকায় বিয়ে না করে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিয়ে করে সেখানে তার সঙ্গ তৈরী করে। কিছুদিন পর পর অন্যত্র চলে যায়, আবার ফিরে আসে, তখন তার সঙ্গের দল বেশ বড় হয়। এতে এলাকাবসীর সন্দেহ, মিজানের অন্য কোন অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

টাঙ্গাইলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরায় ১৮ জেলের কারাদন্ড

  নাসির উদ্দিন,টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ সরকারের নিষেধাজ্ঞা অনমান্য করে যমুনা নদী থেকে ইলিশ মাছ ধরায় …

error: Content is protected !!