করোনাকালে আ.লীগের ৫২২ নেতা কর্মী মারা গেছেন: প্রধানমন্ত্রী

করোনাকালীন আওয়ামী লীগের ৫২২ জন নেতা-কর্মী মৃত্যুবরণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এত বড় আত্মত্যাগ আর কোন দল কিন্তু করেনি।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সাংগঠনিক শক্তি হচ্ছে সব চেয়ে বড়। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি রয়েছে সেটা করোনা মোকাবেলায় যখন মাঠে নেমেছে, তখনই প্রমাণিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ মানুষের পাশে রয়েছে এবং মানুষের পাশেই থাকবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি জনগণকে এটাই বলতে চাই, জনগণের সংগঠন হলো আওয়ামী লীগ এবং এই আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে আছে। যেটা এবার দুর্যোগ, করোনা মহামারীর সময়েও প্রমাণ হয়েছে। কারণ, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই আমাদের একমাত্র সম্বল, সেটাই আমাদের শক্তি।

তিনি এ সময় দলের নেতা-কর্মীদের সবসময় জনগণের পাশে থাকারও পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে করোনা, তারমধ্যে এলো ঘূর্ণিঝড় (আম্পান) এবং বন্যা, সবমিলিয়ে সারাদেশের মানুষ একটা দুর্বিসহ অবস্থার মধ্যে ছিল। কিন্তু সে সময় আমাদের দল এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যেক এলাকায় জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মানুষের পাশে ছিল। যারা হাত পাততে পারেন না এমন সব মানুষদের কাছে এসব নেতা-কর্মীরা রিলিফ পৌঁছে দিয়েছে, চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া, এমনকি মৃতদেহ সৎকারেও অংশ নিয়েছে।

এসবের খবর গণমাধ্যমগুলোতে না এলেও তার কাছে সেই তথ্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এজন্য দল এবং সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী এবং প্রশাসনে থাকা ব্যক্তিবর্গসহ সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপিসহ প্রত্যেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করায় তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সকলে একযোগে এভাবে আন্তকিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকে তিনি নজীরবিহীন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমার মনে হয়, একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল বলেই মানুষ এই সহযোগিতা পেয়েছে। এ জায়গায় অন্য কেউ থাকলে কত মানুষ যে মারা যেত, মানুষের কত যে দুরবস্থা আর কত যে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হোত তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

দেশের বিভিন্ন এনজিওর করোনাকালীন কোন ভূমিকা না থাকার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশেতো গরিব মানুষকে সেবা করার অনেক রকম প্রতিষ্ঠান, অনেক রকম কার্যক্রম আমরা দেখি। কিন্তু এই করোনাকালীন সময়ে তাদের কোন কার্যক্রম আমরা দেখি নাই। এটা হলো বাস্তবতা। তখন সবাই ঘরে, মানুষের পাশে আর কেউ নাই। তবে, মানুষের পাশে আওয়ামী লীগ থেকেছে কারণ এটা জনগণের সংগঠন।

তিনি ফসল তোলায় সারাদেশে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোয় পুনরায় ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি যখনই ছাত্রলীগকে নির্দেশ দিয়েছি কৃষকদের কাছে যেতে হবে, ধান কাটতে সাহায্য করতে হবে। বিনা দ্বিধায় তারা ছুটে গেছে।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে আমাদের আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব লীগ এবং কৃষক লীগসহ সবাই মাঠে নেমে গেছে। হাওড় অঞ্চলে ধান কাটতে লোক পাঠানো এবং তাদের থাকা খাওয়াসহ সব ধরনের ব্যবস্থা আমার নির্দেশে করেছে স্থানীয় প্রশাসন- তাদেরকেও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

করোনাকালীন বিভিন্ন স্থানে সশরীরে যাওয়া না গেলেও তার সরকারের করে দেয়া ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি-জামায়াতের আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার পুনরায় কঠোর সমালোচনা করেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, করোনাভাইরাস সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তিনি যখন কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন তখন তাদের সরকারি নিয়মের বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে দ্রুত কাজ করতে বলেছেন। কারণ দেশের মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য সেগুলো খুব জরুরি ছিল। আমাদের কাজ করতে হবে, আমাদের বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে, আমাদের জনগণকে চিকিৎসা দিতে হবে, আমাদের জনগণের কাছে যেতে হবে, এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি বিষয়ে সব নিয়ম অনুসরণ করার দরকার নেই। কেউ যদি কারও জন্য কোনো সমস্যায় পড়েন, সেটা আমরা দেখব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে দুই হাজার চিকিৎসক ও তিন হাজার নার্সের পাশাপাশি কিছু টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়েছে। আমি অর্থ ও জনপ্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে বসতে বলেছি। এসব চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগে আমি সিদ্ধান্ত দিয়েছি এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাগজে সাইন করেছি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের আরও চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান দরকার হওয়ায় সরকার এ বিষয়ে কিছু নীতি শিথিল করে। তিনি জানান, মহামারির শুরুতে যত দ্রুত সম্ভব সরকার জেলা পর্যায় পর্যন্ত হাসপাতালগুলোকে অক্সিজেন সরবরাহ ও আইসিইউ ব্যবস্থাসহ প্রস্তুত করে তুলে।

তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহায়তার জন্য সব সরকারি সংস্থা এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে তাদের সমন্বিত আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান। ‘শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের জন্যই জনগণ সহযোগিতা পেয়েছে, যদি অন্য কোনো দল (ক্ষমতায়) থাকত তবে অসংখ্য মানুষ মারা যেত, তারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে পড়ত’, বলেন তিনি।

বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তাদের দুর্ভোগ লাঘবে চেষ্টা করেছে, এমনকি তাদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ বিমান পাঠিয়েছে।

‘তারা এ মাটির সন্তান, আমরা তাদের মানুষ হিসেবে দেখি, আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা বিদেশে তাদের প্রণোদনা দিয়েছি,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন যে সরকার প্রয়োজন থাকা সবাইকে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার জন্য দেশের কৃষকদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ জন্যই দেশ খাদ্য সংকটে পড়েনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

টাঙ্গাইলে ইউপি উপ-নির্বাচনে নৌকার জয়

  নাসির উদ্দিন,টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের …

error: Content is protected !!