পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে রাজবাড়ীর গোদার বাজারে ফের ভাঙন

 

শেখ রনজু আহাম্মেদ রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে দ্বিতীয় দফায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে রাজবাড়ীতে।

শুক্রবার বিকেল থেকে ভাঙ্গন দেখা দেয় রাজবাড়ী শহরের গোদার বাজার এলাকায় এতে মুহুর্তেই নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে শহর রক্ষা বাধের স্থায়ী পাইলিং এর ৫০ মিটার এলাকা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মার পানি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। পানি বৃদ্ধির ফলে তীব্র স্রোতের কারনে এই ভাঙ্গন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার সকালে গোদার বাজার এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, সেখানে উৎসুক কয়েক শত জনতা দারিয়ে পদ্মার আগ্রাসী রুপ দেখছে। মুহুত্বের ঘুর্ননে ভেঙ্গে পরছে জিনিয়াস ইটভাটার সংলগ্ন মাটি।

এ সময় জিনিয়াস ইটভাটার পরিচালক মোঃ আলিফ বলেন, এই ইট ভাটাটি এলাকার অত্যন্ত পুরাতন ইট ভাটা। এখানে দিন রাত করে কাজ করে দুই শতাধীক শ্রমিক। ভাঙ্গনের কারনে শনিবার সকাল থেকে তৈরিকৃত ইটগুলো সরিয়ে নিতে হচ্ছে। যেভাবে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে তাতে দুই চার দিনের মধ্যেই আমাদের ভাটাটি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। তখন ভাটা শত শত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পরবে।

গোদার বাজার এলাকার বাসিন্দা হামিদ মোল্লা বলেন, এক সময় যে পদ্মা ছিলো কয়েক মাইল দুরে ভাঙ্গনের কারনে সেই প্রমত্তা পদ্মা এখন ঘরের কোনে। ভাঙ্গনে আতঙ্কে যেন নির্ঘুম রাত কাটে পদ্মা পারের হাজারো মানুষের। ভাঙ্গনের কারনে এখনও ঝুকিতে আছে বিদ্যালয়, মসজিদ, শহররক্ষাবাধসহ বহু স্থাপনা।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আতিউর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নটি বাংলাদেশের দ্বীতীয় বৃহত জেলা যার তিনভাগের দুইভাগ গিলে খেয়েছে সর্বনাশা পদ্মা। ভাঙ্গনের কারনে হাজার হাজার পরিবার বসতী হারা হয়েছে। অনেকে শহর রক্ষা বাধের উপর বসবাস করছে। নতুন করে পানি বৃদ্ধি ও ভাঙ্গনের কারনে ভাঙ্গন এখন শহর রক্ষা বাধের ছুই ছুই অবস্থা। জরুরী ভিত্তিতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানান তিনি।

এ ব্যপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ( পাউবো’) রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আহাদ বলেন, গত সোমবার থেকে রাজবাড়ীতে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। সোম এবং মঙ্গলবারের ভাঙ্গনে রাজবাড়ীর গোদার বাজারে জেলা একমাত্র বিনোদন স্পট নদীতে বিলিন হয়েছে। এরপর আবার শুক্রবার থেকে নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে নদীতে প্রচন্ড স্রোতের তৈরি হয়েছে। যে কারনে শহর রক্ষা বাধ্যে স্থায়ী প্রকল্পের অন্তত ৫০ মিটার এলাকা ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এরই মধ্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে কাজকে আরো জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা দিনরাত ভাঙ্গন ঠেকাতে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

“মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার” এ স্লোগান কে সামনে রেখে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উদ্দ্যোগে …

error: Content is protected !!