ভারতে তরুণীর মৃত্যু : বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না সাংবাদিকদের

 

ভারতে উত্তরপ্রদেশের হারথসে নির্যাতনের শিকার হয়ে এক তরুণীর মৃত্যুতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। নির্যাতিতার গ্রামে সংবাদমাধ্যমকেও কার্যত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বারবার শ্বাসরোধের চেষ্টা, আর তাতেই চোট লাগে ঘাড়ে। সার্ভিক্যাল স্পাইনের সেই ক্ষতই হাথরসের এ তরুণীর মৃত্যুর কারণ। তবে চূড়ান্ত রিপোর্টে ধর্ষণের উল্লেখ মাত্র নেই। গোপনাঙ্গে ক্ষতের কথা বলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই ক্ষত কিসের? নেই তারও কোনো ব্যাখ্যার।

ময়নাতদন্তের এই রিপোর্টকে অবলম্বন করেই চড়ি ঘোরাচ্ছে যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ। সেখানের এডিজি আইনশৃঙ্খলা দাবি করেছেন, অকারণে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে জাতপাতের অশান্তি তৈরি করতে চাইছে একদল লোক।

আর এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সকাল থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তরপ্রদেশের আলোচনার কেন্দ্রে থাকা হাথরস। এদিন সকালেই হাথরসে আটকানো হয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে। ঠেলে ফেলে দেওয়া হয় সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়ানকে। শুধু তাই নয়, নির্যাতিতার গ্রামে সংবাদমাধ্যমকেও কার্যত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না কোনো সাংবাদিককে।

সংবাদমাধ্যমকে আটকানোর সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাতেই দেখা যাচ্ছে, গ্রামে ঢোকার মূল রাস্তায় বিশাল পুলিশ বাহিনী দিয়ে ব্যারিকেড করে দেয়া হয়েছে। অন্য একটি মেঠোপথ ধরে এক মহিলা সাংবাদিক ও ক্যামেরা প্রতিনিধি নির্যাতিতার বাড়ির দিকে এগোতে গেলেও তাদের আটকে দেওয়া হয়।

ফলে স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন উঠছে, হাথরসের ওই গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে আদতে কী গোপন করতে চাইছে যোগী সরকার?

হাথরসের জেলাশাসকের শাসানির ভিডিও এবং নির্যাতিতার বাবার আচমকা কথা বদল নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে উত্তরপ্রদেশের তরুণীর মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে। আর প্রশ্ন উঠছে বলেই এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ হাথরসের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা শুরু করেছে।

নোটিশ পাঠানো হয়েছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনকে। এসিএস হোম, এডিজি, হাথরসের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে আদালত।

বিতর্কের সূত্রপাত বৃহস্পতিবারের একটি ভাইরাল ভিডিও থেকে। তাতে দেখা যায়, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের প্রতি ক্ষোভ উগরে সিবিআই তদন্তের দাবি করছেন নির্যাতিতার বাবা। কিন্তু তার কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্যাতিতার বাবার স্বাক্ষরিত বয়ান প্রকাশ্যে আসে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে কথা বলে, আশ্বাস পেয়ে যারপরনাই সন্তুষ্ট তিনি। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তদন্ত নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই। তাই তার মেয়ের খুন-ধর্ষণ নিয়ে কোনো প্রতিবাদ বা ধর্নার প্রয়োজন নেই।

কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই বয়ান বদলের কারণ কী? ভিডিওটি শেয়ার করেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। অভিযোগ তোলেন, নির্যাতিতার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এই বয়ানে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে হাথরাসের জেলাশাসক প্রবীণ লস্কর নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন, পরোক্ষ শাসানি দিচ্ছেন।

সেখানেই জেলাশাসককে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘সংবাদমাধ্যমের অর্ধেক তো আজই চলে গেছে, বাকি অর্ধেক কাল চলে যাবে। শুধু আমরাই তোমাদের সঙ্গে থাকব। এবার তোমার ব্যাপার, তুমি বয়ান বদল করবে কি না!’ ভিডিওটি শেয়ার করে কংগ্রেস নেতার প্রশ্ন, ‘এটা শাসানি ছাড়া আর কী?’

যদিও ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। টুইটে লিখেছেন, ‘তার সরকার সব মা ও বোনেদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উত্তরপ্রদেশে মা ও কন্যাদের ক্ষতি করার কথা যারা চিন্তাও করবে, তাদের ধ্বংস অনিবার্য। তাদের এমন শাস্তি দেয়া হবে যে ভবিষ্যতে তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ভিক্ষায় পাওয়া লটারিতে জিতল ৫০ লাখ টাকা!

ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন চলত গৃহহীন চার ব্যক্তির। রাস্তাই তাদের ঘর, অনেকটা ভবঘুরে জীবন তাদের। এর …

error: Content is protected !!