বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধে চালু হয়েছিল ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ

 

১৯৭৫-এর এই দিনেই জাতির পিতার হত্যার বিচার বন্ধ করতে, বাংলাদেশে জারি করা হয়েছিলো মানবতাবিরোধী ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। এ কারণে, বিচার হীনতার সংস্কৃতি আঁধারে ঠেলে দেয় পুরো জাতিকে। অবশেষে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে কুখ্যাত এই অধ্যাদেশকে বাতিল ঘোষণা করলে, রাষ্ট্র ফিরে পায় বিচারের অধিকার।

১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট সপরিবারে হত্যা করা হয় স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
ইতিহাসের নিকৃষ্টতম এই হত্যাযজ্ঞের বিচারের পথ বন্ধ করতে ৭৫ এর ১৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের হাত ধরে ক্ষমতায় আসা খন্দকার মোশতাক।

এতে বলা হয় ৭৫ এর ১৫ আগষ্টের হত্যাকান্ডে জড়িত অথবা পরিকল্পনার সাথে যুক্ত কারো বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা করা যাবে না।
এমন কি সুপ্রিম কোর্ট কিংবা কোর্ট মার্শালেও তাদের বিচার করা যাবে না। অফিসে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পথও রুদ্ধ করা হয় ঐ মানবতা বিরোধী অধ্যাদেশে।
পরবর্তীতে সংবিধানে উল্লেখিত হত্যাকান্ডের বিচার প্রাপ্তির মৌলিক অধিকার খর্ব করে, আদেশটিকে আইনে পরিণত করে জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই সংসদে পাশ হয় মানবতা বিরোধী ইনডেমনিটি আইন।
এই আইনের দোহাই তুলে শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কৃত করা হয় খুনীদের। সংসদেও প্রতিনিধিত্ব করে হত্যাকারীরা।
১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর কুখ্যাত ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার। খুলে যায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারের পথ। কলঙ্কমুক্ত হয় রাষ্ট্র ও পুরো জাতি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে কেরানীগঞ্জে ৪০ জনকে জেল জরিমানা

এরশাদ হোসেনঃ ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার অকারনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ …

error: Content is protected !!