জ্বর,স্বর্দি কাশির রোগী বেড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

 

রাসেদ রূপগঞ্জ, নারায়নগঞ্জঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে রোগীদের মাঝে স্বর্দি, কাশি ও জ্বরাক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশী। সম্প্রতি উপজেলায় স্বর্দি, কাশি ও জ্বরাক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

স্বর্দি, কাশি ও জ্বরাআক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মাঝে উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ দিনে উপজেলায় করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার অনেক কমে গেছে। এখানকার সকল নমুনা গাজী পিসিয়ার ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে ১’শ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় ৭ হাজার ২৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মাঝে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩৩৩ জন। করোনা অক্রান্তে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্বর্দি, কাশি ও জ্বরসহ নানা রোগ নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মাঝে কোন প্রকার সচেনতা লক্ষ্য করা যায়নি। রোগীদেরকে সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষা করে গাদাগাদি করে লাইনে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া অনেকের মুখে ছিল না মাষ্ক। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মাঝে বেশিরভাগই রোগীই স্বর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত। সকলেই স্বর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসেন। কারো মাঝেই করোনা ভীতি লক্ষ্য করা যায়নি।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা গুলোতে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের প্রচন্ড গরমে বেশিরভাগ মানুষই সর্দি, কাশি, জ্বরসহ নানা রোগে ভোগছে। তবে জ্বরে আক্রান্ত হলেও করোনা পরীক্ষার ব্যপারে কারো মাঝে সচেতনতা দেখা যায়নি। বেশিরভাগই জ্বরাক্রান্তসহ করোনা উপসর্গ নিয়েও রাস্তা ও বাজারঘাটে চলাচল করছে বলে জানা যায়। অসচেতনতার কারণে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

কথা হয় মুড়াপাড়া এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে তিনি বলেন, আমার ও আমার ছেলে মিরাজ (৫) গত ৫ দিন ধরে স্বর্দি, কাশি ও জ্বরে ভোগছি। তাই হাসপাতালে এসেছি চিকিৎসা নিতে।

কাঞ্চন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধা আমেনা বেগম বলেন, গত ৪ দিন ধইরা জ্বরে ভোগতাছি। ফার্মেসী থেইকা ঔষধ কিনাও জ্বর সারে নাই তাই আইজকা বড় ডাক্তার দেহাইতে আইছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, হাসপাতালের স্বর্দি, কাশি ও জ্বরে রোগী বাড়ছে। বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। বেশির রোগীর তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রী থেকে ১০৪ ডিগ্রী। আগের থেকে করোনার নমুনা পরীক্ষা হার অনেক কমেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা সংগ্রহ করে গাজী পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়।

এ ব্যপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুমন কুমার বনিক জানান, রূপগঞ্জ উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটা কমেছে। তবে বেশকিছুদিন ধরে উপজেলায় স্বর্দি, কাশি ও জ্বরের রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের মানুষের মাঝে সচেতনতা কমে গেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

যশোরে চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদঘাটন, অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৬

হৃদয় এস সরকার:  যশোর শহরের চাঞ্চল্যকর শাওন ওরফে টুনি শাওন হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। …

error: Content is protected !!