সোনালী দিন ফিরেছে দেশের মৎস্য খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। নতুন প্রজাতির মাছ চাষ করার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পুরনো প্রজাতির মাছও ফিরে এসেছে।কমে আসছে মাছ আমদানির পরিমাণ।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের হাওর-বাঁওড়, জলাশয়, খাল-বিল,ডোবা ও নালা এখন হরেক প্রজাতির মাছে পরিপূর্ণ। এদেশের বিভিন্ন জলাশয়ে প্রায় ৫৩৫ টি অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। বৈচিত্র্যময়তা ফিরে এসেছে মাছ চাষেও। চাষকৃত মাছের উৎপাদন বিগত কয়েকবছরে বৃদ্ধি পেয়েছে বহুলাংশে। যার ফলে ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ শীর্ষে এবং চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বিশ্বে পঞ্চম।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী দেশে বর্তমানে মাছ উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় বিদেশ থেকে মাছ আমদানির পরিমাণ অনেকাংশে কমে এসেছে।২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় ৮৮ হাজার টন মাছ আমদানি করা হয়। পরবর্তী অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল ৭৮ হাজার টন।সামুদ্রিক মাছ অধিক হারে আমদানি করা হয়।এসব মাছের মধ্যে রয়েছে শিং,মাগুর,রূপচাঁদা প্রভৃতি মাছ।

জানা যায়, ময়মনসিংহ, নওগাঁ,কুমিল্লাসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে মাছ চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।এসব এলাকায় মাছের অবাধ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে মাছের উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।প্রযুক্তির ব্যবহার মাছ উৎপাদন সহজলভ্য করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের পরিমাণ প্রায় ৩৯ লাখ ২৮ হাজার হেক্টর। বদ্ধ জলাশয়ের পরিমাণ ৭ লাখ ৯৭ হাজার হেক্টর ও সামুদ্রিক জলাশয়ের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার হেক্টর। দেশে স্বাদুপানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৬৪ প্রজাতির মাছ বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়।১৯৮৩-৮৪ সালে উন্মুক্ত জলাশয়ের মাছ আহরণ প্রায় ৬২ শতাংশ হলেও ২০১৭-১৮ তা কমে এসে দাঁড়ায় মাত্র ২৮ শতাংশে। অপরদিকে বদ্ধ জলাশয়ের মাছ আহরণের পরিমাণ তিনগুণ বেড়ে হয়েছে ৫৬ শতাংশ।

গবেষণায় দেখা যায় বদ্ধ জলাশয় এবং পুকুরগুলোকে বিজ্ঞানভিত্তিক মাছ চাষের আওতায় আনার ফলেই মাছের উৎপাদন বেড়েছে। পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় বেশকিছু মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ফলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় মাছের উৎপাদনও।গত সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটি (একনেক) অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ২০২ কোটি ৪ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে।মৎস্য অধিদপ্তর ২০২০ থেকে জুন ২০২৪ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে মাঠ পর্যায়ে মাছের পোনা বিতরণ করা হচ্ছে।এসব পোনা বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকহারে চাষ করা হচ্ছে৷ ফলে বাণিজ্যিকভাবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন চাষীরাও।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে কেরানীগঞ্জে ৪০ জনকে জেল জরিমানা

এরশাদ হোসেনঃ ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার অকারনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ …

error: Content is protected !!