ফুলপুরে সংস্কারের অভাবে ৭ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে

এস,এম,শামীম(ফুলপুর) ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ– ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৩নং ভাইটকান্দি ইউনিয়নের খঁড়িয়া নদী ঘাট ধারাকপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ কি. মি. রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে ৭ গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৩/৪ হাজার মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের এই রাস্তা দিয়ে ছোট বড় ও বিভিন্ন মাঝারি ধরনের যানবাহন চলাচলের একমাত্র অবলম্বন জরাজীর্ণ এই রাস্তাটি।

সরজমিনে দেখা গেছে, কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল কাঁচা রাস্তাটি স্হানে স্হানে ছোট বড় গর্ত দু পাশের অনেক জায়গা ভেঙ্গে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে মৃত্যু কূপে।
এমন পরিস্থিতিতে চলাচলে মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।


বিপাকে পড়ছেন সিএনজি, মোটর সাইকেল অটো রিক্সা ভ্যানসহ চলাচলকারী বাহনের যাত্রীরা।
জুতা খুলে হাতে নিয়ে দিতে হচ্ছে পথ পাড়ি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতাল, কলেজসহ কয়েক হাজার মানুষ বর্ষাকালে এই কাঁচা রাস্তা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাতায়াত করে থাকে গন্তব্যস্থলে।
আর স্বিকার হতে হয় অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে।

ধারাকপুর গ্রামের অাবুল কালাম নামে একজন বলেন, ভাইটকান্দি ইউনিয়নের খঁড়িয়া ঘাট ও ধারাকপুর বাজারে পাঁকা রাস্তা না থাকায় উপজেলা সদরে যাতায়াতে জনগণের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পাঁকা রাস্তা নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার লোকজন ফুলপুরে সরাসরি কাঁচামাল ব্যবসায়ীক-বানিজ্য যোগাযোগ করতে পারছেন না। এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী, তারা কৃষি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করণের উপর নির্ভরশীল।এজন্য তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার কৃষি পণ্য উপজেলা শহরে বাজারেজাত করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কৃষকরা তাদের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রামভাদ্রপুর গ্রামের মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, শুকান মৌসুমে রাস্তা-ঘাট কিছুটা স্বাভাবিক থাকায় ছেলে মেয়েরা ঠিক মত স্কুল কলেজ বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে পারলেও পারলে ও বর্ষা মৌসুমে বেশি ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। আমাদের এই এলাকা থেকে ফুলপুর উপজেলার দূরুত্ব তেমন বেশি নয়, এত স্বল্প দূরুত্ব হওয়া সত্যেও বিপদে আপদে বা বিশেষ জরুরী প্রয়োজনেও দীর্ঘ সময় অতিক্রম করে তার ওপর অতিরিক্ত টাকা খরচ করে পৌছতে হয় উপজেলা সদরে।

রাস্তার দূরাবস্তার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্হা সহজ না হওয়ার কারণেই আমাদের চরম কষ্ট করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ৩নং ভাইটকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন,
খড়িয়া নদীর উপর বীজের দুপাঁশে কিছুদিন আগে নিজেদের অর্থায়নে ৫০থেকে ৬০ হাজার টাকার মাটি কেটে গর্ত টি ভরাট সহ রাস্তায় উন্নয়নে কিছু কাজ করা হয়েছিল, বৃষ্টির কারণে তা আবার নষ্ট হয়ে গেছে।উল্লেখিত প্রায় ৩কি.মি.কাঁচা রাস্তাটি পাঁকা করনের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি খঁড়িয়া ঘাট থেকে ধারাকপুর বাজার পর্যন্ত পাঁকা রাস্তা নির্মাণ করা হলে লোকজনের উৎপাদি পণ্য- উপজেলা সদরে থেকে পণ্য নিয়ে অাসা সহজ হত।

তাই গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি মহোদয় ও ফুলপুর উপজেলা এলজিডি মহোদয়গণদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার জন্য।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

খুলনার দাকোপে বেড়িবাঁধ ভেঙে ২টি ইউনিয়ন প্লাবিত, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, খুলনা সদর প্রতিনিধিঃ খুলনার দাকোপ উপজেলা ঢাকী নদীর তীরে অবস্থিত পানখালী ও …

error: Content is protected !!