রাজবাড়ীতে হড়াই নদীর উন্মুক্ত জলাশয়ে প্রভাবশালীদের বাঁশ ও জালের বাঁধ

শেখ রনজু আহাম্মেদ রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ স্থাণীয় কৃষকের সুবিধার্থে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ডহর পাঁচুরিয়ার হড়াই নদীর জলাশয়টি পূণঃখনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ( পাউবো)।
খনন শেষ হলে সম্প্রতি জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে এ নদীতে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের উদ্দ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। যা বড় হলে স্থাণীয় জনসাধারণের মধ্যে আমিষের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে। কিন্তু তা ভোগ করছে কিছু সংখ্যক প্রভাবশালী মহল। এ নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষক ফসল ফলাবে সরকারের চিন্তা চেতনার মধ্যে এটাও ছিল। কিন্তু কৃষিখাতে ব্যবহার তো দুরের কথা. এর কাছে না যেতে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে বলে জানায় অনেকেই।
এ ঘটনায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ভূক্তভোগী মোকছেদ শেখ, মোয়াজ্জেম দেওয়ান, আব্দুর রউফ মিয়া ও আকবর শেখ বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট বংকুর গ্রামের মজিবর রহমান ওরফে মজিবর চৌকিদার, লোকমান মন্ডল ও আটদাপুনিয়া গ্রামের বজলু মন্ডল ও কাশেম মন্ডলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। খুব শিগগিরি নদীটি দখলমুক্ত করে বাঁধ অপসারণ করা না হলে কৃষিখাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন ভূক্তভোগীরা।
কয়েক কিলোমিটার এ হড়াই নদীর দুই পাশে অগণিত কৃষি পরিবার ও কৃষি জমি রয়েছে। এ নদীতে রয়েছে স্লুইচ গেইট যা শুষ্ক মৌসুমে আটকে রেখে জমিতে সেচের কাজ করছে কৃষকরা। এ বছরের বন্যায় বেশ পানি হয়ে তলিয়ে গেছে। শত শত বিঘা জমির এখনই যদি পানি সরে না যায় তাহলে এ এলাকায় পিঁয়াজের চাষ ব্যহত হবে।
ডহরপাঁচুরিয়া এলাকার কিছু সংখ্যক প্রভাবশালী জাল এবং পলিথিন দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকে দিয়েছে। মাঠ থেকে পানি বের হতে পারছে না। কৃষকগণ বলতে গেলে বাঁধদাতারা বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতিসহ প্রাননাশের হুমকিও দেয় বলে তারা জানান।
হড়াই নদীর দুইপাশে বন্যার পানি চলে যাওয়ার সাথে সাথে পিঁয়াজ, রসুন, কালীজিরা, মেথি, ধনিয়াসহ বিভিন্ন প্রকার মসলা জাতীয় ফসলের চাষ করা হয়। এবার প্রভাবশালীদের বাঁধের কারণে এখন পর্যন্ত পানি সড়ছেনা। ফলে ফসল চাষে ব্যহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বলতে গেলেই প্রাণনাশের হুমকি।
এনিয়ে একটি বাঁধের মালিক ও বহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ মোঃ মজিবর রহমান শেখ বলেন, ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে কয়েকজনকে সাথে নিয়ে আমি এই বাঁধটি নির্মাণ করেছি। যদি কেউ সরিয়ে দিতে বলে আমি সরিয়ে দেব। তবে কারো সাথে হুমকি ধামকি দেওয়া হয়নি।
অপর বাঁধটির কোনো মালিকগণকে পাওয়া না গেলেও তাদের একজন শ্রমিক বলেন, এ নদীর মালিক জেলা প্রশাসন। তারা দেখবেন, কোনো এলাকাবাসী অপসারনের দাবী জানাতে পারে না। তবে নদী পারের জমিতে না পুকুর কাঁটবে তা দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়।
প্রশাসনের নিকট এই এলাকার কৃষকদের দাবী দুই এক দিনের মধ্যে বাঁধ অপসারণ করে পানি নিস্কাশণের ব্যাবস্থা না করলে এ মাঠে পিঁয়াজ, রসুন, কালজিরা, ধনিয়াসহ কোনো ফসলের চাষ করা সম্ভব হবে না।
বালিয়াকান্দি উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রবিউল হক বলেন, এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। এখন তিনি যে নির্দেশনা দিবেন তার উপর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

দেশের সকল থানার ওসির নাম্বার

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর সরকারি মোবাইল নাম্বারসমূহ: ডিএমপি, ঢাকা: ১) …

error: Content is protected !!