কেরানীগঞ্জে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে গৃহবধুর আত্মহত্যা ; স্বজনদের দাবী হত্যাকান্ড

ঢাকার কেরানীগঞ্জে কোন্ডা ইউনিয়নে বাক্তারচর গ্রামে শাহিনূর বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধু নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে মারা যায় সে। ঘটনার পর থেকে শশুড় বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। তবে নিহতের ভাইয়ের দাবী তাকে হত্যা করা হয়েছে।

সরেজমিন রবিবার বিকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাড়ি খালি, সবগুলো রুম তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। পরিবারের কোন লোকজন না পাওয়ায় আশেপাশের প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১২-১৩ বছর আগে নজরুল ইসলাম ভুট্টুর সাথে শাহিনূরের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ১০ বছরের একটি ছেলে ও ৮ বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। ভুট্টু দীর্ঘদিন যাবৎ কুয়েত প্রবাসী ছিলো। গত মার্চ মাসে সে দেশে চলে আসে। ভুট্টুর মা বানু বেগমের সাথে স্ত্রী শাহিনূরের কখোনোই ভালো সম্পর্ক ছিলো না। কিছুদিন আগে বানু বেগমের মার বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা পান। বানু বেগম সেই টাকা তার সন্তানদের মধ্যে বাটোয়ারা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় কয়েকজন মিলে বানু বেগমের টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে, ৩ ছেলে ও এক মেয়ে ৩ লাখ করে টাকা পাবে । এবং সবাই তার মাকে ১ মাস করে যার যার কাছে রাখবে। এই সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নিলেও শাহিনূর মেনে নেয় নি। সে মজলিসে সবার সামনে বলে তার টাকার দরকার নাই, প্রয়োজনে আত্মহত্যা করবে তাও বানু বেগমকেও ১ মাস করে খাওয়াবে না। এ কথা শোনার পরে ভুট্টু সবার সামনে শাহিনূরকে চর থাপ্পড় মারে এবং ঘড়ে চলে যেতে বলে। শাহিনূর সাথে সাথে নিজের ঘরে এসে গেইট লাগিয়ে দিয়ে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরে তার ডাক চিৎকারে আশে পাশের লোকজন এসে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় শাহিনূরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে । তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরে রবিবার সন্ধ্যায় শাহিনূর মারা যায়।
এদিকে শাহিনূরের মৃত্যুতে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে তার স্বজনরা। শাহিনূরের ভাই মো: কাসেম বলেন, তার ভগ্নিপতি ভুট্টু একজন জুয়াড়ী । কুয়েতে জুয়া খেলে সব নষ্ট করে দেশে এসেছে। দেশে আশার পরে জুয়া খেলার টাকার জন্য তার বোনকে নিয়মিত চাপ দিতো। এ পর্যন্ত কয়েকবার টাকা জোগাড় করে দেয়াও হয়েছে। কিন্তু তার পরেও আরো টাকা চাইতে থাকে ভুট্টু। টাকা দিতে না পারায় কথা কাটাকাটির জেড়ে গত বুধবার ভুট্টু নিজে শাহিনূরের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে আশে পাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার বোন ৩ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলো, এক বারের জন্য শশুর বাড়ির কেও হাসপাতালে দেখতে যায় নি। এ ঘটনার জন্য সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন নিহতের পরিবার।
দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ জামান বলেন, মৃত্যুর ঘটনাটি নিহতের স্বজনা আমাদের অবহিত করেছে। লাশ দাফনের পরে তারা থানায় এসে মামলা দায়ের করবে।#

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে ট্রাফিক সচেতনতা র‍্যালী

”মুজিব বর্ষের শপথ, সড়ক করবো নিরাপদ” এই স্লোগান নিয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উদ্যোগে জাতীয় নিরাপদ …

error: Content is protected !!