আমি সাংবাদিক পেটানো লোক’: দেশ রূপান্তর প্রতিনিধিকে হুমকি

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলাধীন কাঁকড়া নদীর কারেন্টেরহাট বালুমহালের সংবাদ সংগ্রহে গেলে সাংবাদিককে হুমকি দিয়েছেন ইজারার দায়িত্বে থাকা আতিকুর রহমান শাহ। নতুন কাঁকড়া ব্রিজ, রেল ব্রিজ এবং কারেন্টের হাট ডিগ্রি কলেজ মাঠের পাশে সাতটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে দেশ রূপান্তর প্রতিনিধিকে হুমকি দেন তিনি।

বালুমহালটি দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নামে ইজারা নেয়া বলে জানা যায়। তবে এর দেখাশোনা করছেন যুবলীগ নেতার ভাই আজো শাহ এবং আতিকুর রহমান শাহ।

সাধারণ মানুষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার সরেজমিন বালুমহালের তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এর দায়িত্বে থাকা আতিকুর রহমান শাহ এ প্রতিবেদককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারার হুমকি দেন। এর আগেও অনেক সাংবাদিককে তিনি মেরেছেন বলে জানান।

এলাকায় তাদের প্রভাব বিস্তারের কারণে বালুমহাল নিয়ে কেউ সংবাদ প্রকাশ করতেও পারে না বলে জানা যায়।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জন্য চিরিরবন্দর উপজেলার কাঁকড়া নদীর কারেন্টেরহাট বালুমহালটি সরকারি ইজারা পান দিনাজপুর শহরের আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি। তবে এ ঘাটটির দায়িত্বে রাখা হয় ইজারাদার যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনের ভাই আজো শাহ ও হাজী আতিকুর রহমান শাহকে।

স্থানীয়রা জানান, কাঁকড়া নদীর কারেন্টের হাট সংলগ্ন নতুন ব্রিজ এবং কারেন্টের হাট ডিগ্রি কলেজের মাঠ ঘেঁষে দুই পাশে মোট সাতটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে দুটি জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ ও প্রতিষ্ঠানসহ বাজার এলাকা। এছাড়া বালু নিয়ে ১০ চাকার অবৈধ বড় বড় ট্রাক চালানোর ফলে সরকারি রাস্তাসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে করে ওই এলাকার মানুষ পড়েছে ভোগান্তিতে।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং বালুমহাল ইজারা প্রদান ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন অনুযায়ী, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন, ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ।

তবে সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে কাঁকড়া নদীর ওপর একটি রেল ব্রিজ, সরকারের নতুন একটি সড়ক ব্রিজ ও একটি কলেজসহ কারেন্টেরহাট বাজারটি হুমকির মুখে পড়েছে একাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে।
শনিবার কাঁকড়া নদীর কারেন্টেরহাট বালুমহালের ছবি তুলে বালুমহালের দায়িত্বে থাকা আতিকুর রহমান শাহর কাছে ইজারার মালিক এবং ঘাট সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

এতেই খেপে যান আতিকুর রহমান। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘অফিসে যান, অফিসে সব কিছু আছে। এখানে আপনাকে কৈফিয়ত দিতে হবে এরকম কোনো ম্যানুয়ালে আছে আমার? আপনি সাংবাদিক হইছেন তা কী হইছে’?

এত উত্তেজিত হচ্ছেন কেন বললে তিনি আরো রেগে গিয়ে বলেন, ‘তুই এগুলো আমার কাছ থেকে নিবি কেন? সরকারি অফিস আছে না? সরকারি অফিসে গিয়ে নে! এখানে কার লোম ছেড়ার জন্য আসছিস? তুমি আমাকে চেনো? আমি সাংবাদিককে পেটানো লোক। আমি এর আগে সাংবাদিককে মেরেছি! শুনে দেখিস! সেখানে কেস পর্যন্ত হইছে। তুমি কে তোমাকে উত্তর দিব কেন? এখানে তোকে কৈফিয়ত দিতে হবে কেন? এখানে ফাজলামো করার জন্য আসছেন! তুমি এখানে আসছ কেন? তুমি সাংবাদিক হয়েছো বলে আমি হাতে চুড়ি পরে থাকব না! পারলে আমার বিরুদ্ধে পেপারিং করে দিস যা! তোকে আমি দেখে নিব!’

কাঁকড়া নদীর বালুমহালের ইজারাদার যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে এবিষয়ে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত একাধিক নম্বরে কল করা হলেও সব বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিরিরবন্দরের সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইরতিজা হাসান বলেন, ‘এর আগেও এ ঘাট মালিককে জরিমানা করা হয়েছিল। তাদের সর্তক করে দেওয়া হয়েছে যাতে ড্রেজার মেশিন না চালায়। কিন্তু তারা কথা শোনেননি। বিষয়টা আমি ইউএনও স্যারের সঙ্গে আলাপ করে দেখি। যা ব্যবস্থা নিতে বলে সেটা নেব। ’

জানতে চাইলে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘আপনাকে এভাবে বলা ঠিক হয়নি। আপনি থানায় অথবা ইউএনও অফিসে একটা অভিযোগ দিতে পারেন। আমরা ব্যবস্থা নিব। এর বাইরেও আমরা বিষয়টা দেখতেছি। তাদের বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নেওয়ার আমরা নেব। ’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

হাওরে উদ্বোধন করা হলো ভাসমান পথ পাঠাগার

  কবি ও মরমি সাধকের সাধন সংগীতের এক বিশাল ভান্ডার সুনামগঞ্জ জেলা। হাওর বাওড়,পাহাড় নদী …

error: Content is protected !!