আগে লেখাপড়া পরে রাজনীতি – গোলাম রাব্বানী

মোঃ মাসুদ

বছর দেড়েক আগের কথা, ৩৮ তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক দুই স্নেহের অনুজ, Sakil Bhuiya ও Morshedul Hasan Rupom। সরাসরি রাজনীতির মাঠের বাইরে, প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে প্রশাসনেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক কর্মীদের সমধিক প্রয়োজন। ভাইবার আগে তাই দলীয় কর্মসূচিতে সময় কম দিয়ে ভালোভাবে লেখাপড়ার তাগিদ দিলাম আর মনের তাগিদেই পিএসসির ততকালীন চেয়ারম্যান মহোদয় (আজকে সাবেক হয়েছেন), সাদিক খান স্যারকে একটা ফোন করলাম।

বিনয়ের সাথে সালাম ও পরিচয় দিয়ে বললাম, স্যার, একটু দেখা করতে চাই, যদি আপনার সুবিধামতো ৫ মিনিট সময় দিতেন। সালামের জবাব দেয়ার সময় স্যারের সুরটা যেমন নরম ছিলো, পরিচয় জানার পর বেশ কঠিন স্বরেই বললেন, তিনি ব্যস্ত, দেখা করার সময় দিতে পারবেন নাহ। যা বলার যেন ফোনেই বলি। আমি পূর্বের ন্যায় অধিক বিনীতভাবে বললাম, স্যার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুইটা ছেলে রিটেনে টিকেছে, সামনে ভাইবা… ব্যাস! স্যার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললেন, তুমি এসব বলতে আমাকে ফোন দেয়ার সাহস পেলে কিভাবে, কোন তদবির-টদবির আমার কাছে চলবে না!

স্যারের কথায় আশাহত হয়ে জাস্ট এটুকু বললাম, “স্যার, আমরা রাজনীতি করি। সুপারিশ করা তো আমাদের কাজ। মানুষ একান্ত প্রয়োজনে, আশা নিয়ে আমাদের কাছে আসে। আর দীর্ঘদিন সংগঠন করা দুইটা ছেলের জন্য সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে একটু সুপারিশ আমি করতেই পারি, রাখা না রাখা আপনার ব্যাপার। আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করার জন্য দুঃখিত, বলে ফোন রেখে দিলাম।

পরদিন গণভবনে গিয়ে জানলাম, আমার কথা নাকি স্যারের ইগোতে লেগেছে, তাই তিনি আমার নামে নালিশ করেছেন! আর প্রত্যাশিতভাবেই ছাত্রলীগের সেই দুই ছোটভাই ভাইবায় বাদ!

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার নিয়োগের সময়, ২০০ টি পদের বিপরীতে বিভিন্ন মেডিকেলে ছাত্রলীগের পদধারী মাত্র ৬ জনের নাম দিলাম ভিসি স্যারকে, তিনি একজনকেও রাখেন নাই! অথচ, ভিসি স্যারের ছেলে, রেজিস্ট্রার মহোদয়ের মেয়ের জামাইসহ গোটা বিশেক সেখানে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগ পেয়েছে। এটা নিয়ে কথা বলাতে তিনিও নালিশ করেছেন আপার কাছে! এমন হয়তো আরো কয়েকটা নালিশ গিয়েছে গণভবনে, যার সবই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের জন্য কথা বলাতে বা তাদের প্রতি কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে। ব্যক্তি প্রয়োজনে, আমার কোন কাজ বা আচরণে আপার কাছে নালিশ যায় নাই, এটা দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি।

ছাত্রলীগের সাথে একযুগের অধিক পথচলায়, নিজ অভিজ্ঞতা থেকে হলফ করে বলছি, ছাত্রলীগ করে সরকারি চাকরিতে নূন্যতম সুবিধা কোন সহযোদ্ধা পায়নি, অন্তত আমার চোখে পরে নাই। মেহেদী হাসান মোল্লা ভাই, রিফাত জিকো ভাই, মামুনুর রশিদ ভাই, সায়েম খান ভাইয়ের মতো মেধাবী অর্ধশত ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা দুইবার তিনবার বিসিএস ভাইবা দিয়ে চাকরি পায় নাই!

অথচ, বিএনপির রামরাজত্বে সেই ২৭ তম কলঙ্কিত বিসিএসে এক বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে ৫৪ জন পুলিশ ও এডমিন ক্যাডার হয়েছিলো তারেক জিয়ার ডিজায়ারে!

যাইহোক, হতাশা গল্প আর দীর্ঘায়িত করতে চাই নাহ, রিটেনে টিকলে ভাইবায় দেখবো, বিভিন্ন সময়ে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের এসব আশ্বাস, ফাঁকা বুলি ছাড়া কিছু না, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেটা অনেক আগেই বুঝে গেছে।

তাই, ছাত্রলীগের বর্তমানদের উদ্দেশ্যে বলছি, চাকরিতে ছাত্রলীগ করার কারণে নূন্যতম সুবিধা পাবে নাহ, বরং পরিচয় দিলে স্বাভাবিক প্রাপ্যতা থেকেও বঞ্চিত হবার সম্ভাবনা বেশি! লেখাপড়ার কোন বিকল্প নেই। আগে লেখাপড়া, পরে রাজনীতি!!

শুভ রাত্রি – বলে এইভাবে নিজের ব্যক্তিগত ফেইজবুক আইডি থেকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারন সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ৪ দালালের কারাদন্ড

  শেখ রনজু আহাম্মেদ রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃদেশের ব্যাস্ততম ২১ জেলার প্রবেশদ্বার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া …

error: Content is protected !!