বাবা-মা ভারসাম্যহীন, মেধাবী রনির একাদশে ভর্তি অনিশ্চিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশসেরা রাজশাহী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে মেধাবী শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম রনি। কিন্তু ভর্তি হতে এসেও অর্থের অভাবে ভর্তি হওয়া হয়নি তার।

রবিউল ইসলাম রনিনওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের অনাথ শিমলা এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পথে পথে ঘুরছেন। স্বামী-সংসার নিয়ে ভাবতে ভাবতে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন তার মা রহিমা বিবি।

নানান টানাপোড়েনের ভেতরেই উপজেলার কালীগ্রাম দোডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রনি এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়ায় আবেদন করে রাজশাহী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বিবেচিত হয়েছে রনি।

রোববার থেকে শুরু হয়েছে ভর্তি প্রক্রিয়া। খবর পেয়ে প্রতিবেশীর সহায়তায় রোববার রাজশাহী পৌঁছায় রনি। কিন্তু ভর্তির জন্য নির্ধারিত খরচ জোগাড় না হওয়ায় ভর্তি হতে পারেনি। ফাইল হাতে ঘুরে ফিরে ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে।

রবিউল ইসলাম রনির ভাষ্য, বড় দুই বোনের পর একমাত্র ভাই সে। বিয়ের পর দুই বোন স্বামীর সংসারে। বাড়িতে কেবল বাবা-মা আর সে।

বাবা ভারসাম্যহীন হওয়ায় পথেঘাটে ঘুরেই সময় কাটিয়ে দেয়। সংসার নিয়ে নানান চিন্তা থেকে এক সময় তার মাও ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। চাচাদের সহায়তায় তাদের সংসার চলছে। চাচা এবং শিক্ষকদের সহায়তায় মাধ্যমিকের গণ্ডি পেয়েছে সে। এখন বাধা উচ্চমাধ্যমিক।

এখন আটকে আছে তার ভর্তি। কোনরকমে ভর্তি হতে পারলেও রাজশাহীতে থাকা-খাওয়া এবং পড়ালেখার খরচ আসবে কোত্থেকে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই তার। সহায়তা পেলে পড়ালেখা শেষ করে মানুষেরমত মানুষ হতে চায় রনি। একই সাথে অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা করাতে চায়।

রনির চাচা সুলতান আলী জানান, তারও তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ। বসতভিটা ছাড়া কোন সহায়-সম্পত্তি নেই। আয়ের আলাদা কোন উৎসও নেই। তবুও যেটুকু পেরেছেন সহায়তা করেছেন।

এতোদিন এক ভাইয়ের বাড়িতে রেখে তার পড়ালেখা চালিয়ে নিয়েছি আমরা। কিন্তু এখন চাইলেও আমরা আর তাকে সহায়তা করতে পারছেননা।

এবিষয়ে কালীগ্রাম দোডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছার রহমান বলেন, রবিউল ইসলাম অতন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতেও বৃত্তি পায় রনি।

তার পারিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা অনেক সময় তার পড়ালেখায় সাহায্য করেছি। শুনেছি সে রাজশাহী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এটি খুবই আনন্দের সংবাদ। তার পড়ালেখার পথ সুগম করতে সবার সহায়তা প্রয়োজন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

জবির পাঁচ রোভারের ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণ শুরু

অপূর্ব চৌধুরী, জবি প্রতিনিধিঃবাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জনকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় …

error: Content is protected !!