বাজেট নিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া,যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি

অপূর্ব চৌধুরী, জবি প্রতিনিধিঃ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ অর্থবছরের পাসকৃত বাজেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।একই সাথে বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়ন দাবি করেছে শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাজেটের বিভিন্ন খাত নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত ব্যক্ত করছেন।

গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২তম সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় বাজেট সম্পর্কিত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এবারের বাজেটে চিকিৎসা, শিক্ষা,ছাত্রবৃত্তি ও পরিবহন খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।মূল বাজেটের পরিমাণ (রাজস্ব) ১৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে গবেষণা খাতে বরাদ্দ মূল বাজেটের মাত্র ২%।অপরদিকে ছাত্রীহল চালুর কথা বলা হলেও বাজেটে হল সম্পর্কিত কোন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি টাকা।

শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা উন্নত করার লক্ষ্যে স্থাপিত হচ্ছে নতুন মেডিকেল সেন্টার।পিসিআর ল্যাব স্থাপন বাবদ ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা,জিনোম ল্যাব স্থাপন বাবদ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যায় বাবদ ৩০ লাখ টাকা,যন্ত্রপাতি ও ল্যাবরেটরি স্থাপন বাবদ ২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ বিগত বছরগুলোর তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা৷ তারা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যায় করার জন্য।

শিক্ষাবৃত্তির জন্য আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেটি অপ্রতুল বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। করোনা পরবর্তী সময়ে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বাসা ভাড়া,খাবার খরচসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন খরচ চালাতে হিমশিম খাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ তাই শিক্ষার্থীদের দাবি শিক্ষাবৃত্তিতে আরও বেশি বরাদ্দের প্রয়োজন ছিল। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় দেখানো ১৮ কোটি টাকা নামে বেনামে বিভিন্ন ফী হিসেবে আরোপিত করার শঙ্কাও প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

পরিবহন খাতে মোট বাজেটের পরিমাণ ৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা৷শিক্ষার্থীদের ধারণা পরিবহন খাত নিয়ে প্রশাসনের নতুন কোন পরিকল্পনা থাকায় এখানে বিশাল বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য (দুপুরে খাবার প্রদান) ১ কোটি টাকা,শিক্ষা উপকরণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়বাবদ ৯ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ১ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

তবে বাজেট কেবল পাস নয় পাশাপাশি এর যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০১৪_১৫ সেশনের শিক্ষার্থী মোঃ সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতসমূহে সঠিকভাবে ব্যবহারে প্রশাসনের আন্তরিকতা জরুরি। আশাকরি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রাখবো আগামীতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করার জন্য।

নাট্যকলা বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সোমা বলেন,প্রতি বছরই বাজেটে ৭-১৫ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ হয় হয় । ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে বিগত বছরের বাজেটের চেয়ে টাকার অংক বেশি বৃদ্ধি হলেও করোনা মহামারীর এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর হলবিহীন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তা নিতান্তই স্বল্প। এই বাজেটে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কোন বরাদ্দ নেই, গবেষণা খাতে মাত্র ২ কোটি টাকা বরাদ্দ (গত বছর ১ কোটি ৭০ লক্ষ ছিল) যা করোনা মহামারী তেও প্রশাসন কে গবেষণামুখী করে তুলতে পারেনাই। এছাড়া যে ১৮ কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় দেখানো হয়েছে এর অর্থ এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও নামে বেনামে ফি শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপ করে দেওয়া হবে। প্রতি বছর বাজেট বৃদ্ধি হলেও বাস্তবায়নের ঘাটতি দেখা যায়। তাই এই অর্থবছরের বাজেট কিছুতেই শিক্ষা কিংবা শিক্ষার্থীবান্ধব হতে পারে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

জবির খেলার মাঠে ডিএসসিসির মার্কেট নির্মাণের প্রতিবাদ শিক্ষক সমিতির

 জবি প্রতিনিধি:  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মার্কেট নির্মাণের …

error: Content is protected !!