টাঙ্গাইলে যৌতুকের টাকা না দেয়ায় গৃহবধুকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা এনে না দেওয়ায় জোড় পূর্বক হ্যাক্সিসল খাওয়ায়ে গৃহবধু রাফিজা সুলতানাকে (৩৩) হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. ফয়সাল আহামেদ তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

সোমবার সন্ধ্যায় কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গাতে এ ঘটনা ঘটে। রাফিজা সুলতানা ধনবাড়ী উপজেলার দড়িবিয়াড়া গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাক সরকারের মেয়ে ও কালিহাতী উপজেলার হাওড়া পাড়া গ্রামের মো. ফয়সাল আহামেদের স্ত্রী। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 

রাফিজা সুলতানা জানান, ২০১৭ সালের ৫ মে চার লাখ টাকা দেনমোহর ধার্যে রেজিষ্ট্রি কাবিন মুল্যে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার পিতা ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ছেলেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা মুল্যেও একটি মোটর সাইকেল যৌতুক হিসেবে দেয়া হয়। বিয়ের এক বছর পর ডিপিএসের মাধ্যমে টাকা জমানোর কথা বলে ১০ ভরি স্বর্ণ বিক্রি করে তাদের বাড়িতে দুটি ঘর নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার কিনের দেওয়ার আশ্বাস দেয় ফয়সাল। কিন্তু এখনও গৃহবধুকে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার কিনে দেয়া হয়নি। ইদানিং এলেঙ্গাতে বাসা করার জন্য জায়গা ক্রয় করার জন্য যৌতুক হিসেবে আরো পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পাড়ায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ফয়সাল ও তার পরিবার। তাদের শত অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে গৃহবধুকে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাফিজাকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ৭ আগস্ট মীমাংসা করার জন্য বসলে ফয়সাল আহামেদ পাঁচ লাখ টাকা না দিলে তার স্ত্রীকে বাড়ি নিবে না বলে জানিয়ে দেয়। এ দিকে গত সোমবার কৌশলে ফারিজা সুলাতাকে ফয়সাল আহামেদসহ তার পরিবারের লোকজন এলেঙ্গা ফয়সালের বোনের বাড়িতে নিয়ে বেধরক মারধর করে। এক পর্যায়ে ফয়সাল আহামেদ, ফয়সালের বাবা মো. ইসমাইল হোসেন, তার বড় ভাই রনজু মান্নান ও ভাবি মোছা. কুসুমসহ আরো কয়েকজন জোড় পূর্বক রাফিজা সুলতানাকে হেক্সিসল খাওয়ায়ে হত্যার চেষ্টা করে।

 

তাৎক্ষনিক ৯৯৯ ফোন করলে গৃহবধুর ফোন কেড়ে নেয় অভিযুক্তরা। পরে রাফিজা সুলতানার অবস্থা অবনতি হলে অভিযুক্তরা তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে রেখে পালিয়ে যায়। অন্য রোগির স্বজনদের মোবাইল ফোন দিয়ে যোগাযোগ করে রাফিজা তার বাবার বাড়িতে বিষয়টি জানায়। তার বাবার বাড়ির লোকজন হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারদেও সহযোগিতায় চিকিৎসা করাতে থাকে। মঙ্গলবার সকালে তার অবস্থা অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থান্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা জীবন মৃত্যুর সন্নিকটে।

রাফিজা সুলতানা বলেন, ‘যৌতুকের দাবিতে আমাকে দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করেছে ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যরা। যৌতুকের জন্য হ্যাক্সিসল জোড় পূর্বক আমাকে খাওয়ায়ে হত্যা করতে চেয়েছিলো। ৯৯৯ ফোন করায় হত্যা করতে পারেনি। আমি ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি। এর পর যৌতুকের জন্য কোন গৃহবধুকে নির্যাতন সহ্য করতে না হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

সদরঘাটে পা পিছলে পুলিশের এসআই’র মৃত্যু

ঢাকার সদরঘাটে টার্মিনালের পল্টুন থেকে পা পিছলে নদীতে পড়ে পুলিশের এক এসআই’র মৃত্যু হয়েছে। নিহত …

error: Content is protected !!