থামছে না স্বজনদের চোখের পানি

তাসনীল মুবিনঃ নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচজন মারা গেছেন। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬। রোববার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে এ পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

দগ্ধ ৩৭ জনের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি আছেন বাকি ১১ জন। এদের মুখ, শ্বাসনালিসহ শরীরের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় ৪ জনকে আইসিইউতে নেয়া হয়েছে।

এদিকে প্রিয়জনের সর্বশেষ খবর পেতে দগ্ধদের স্বজনরা বার্ন ইন্সটিটিউটের বাইরে দিন-রাত প্রতীক্ষার প্রহর পার করছেন। কিছু সময় পরপরই ভেতর থেকে আসে মৃত্যুর খবর। শুরু হয় কান্না আর আহাজারি।

লাশ দাফনের জন্য বাড়িতে নেয়ার পর সেখানেও চলে মাতম। ভিড় জমান স্বজনসহ প্রতিবেশীরা। বুকে পাথর চাপা দিয়ে জানাজা শেষে মৃতের দাফন সম্পন্ন করেন অভিভাবকরা। মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ মামলা করেছে।

মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে মসজিদে একটি অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন নেয়া হয়েছিল। বিষয়টির সত্যতা পেয়েছেন ঘটনাস্থলে যাওয়া ডিপিডিসির কর্মকর্তারা।

লাশের সারিতে রোববার যোগ হওয়া পাঁচজন হলেন- শামিম হাসান (৪৫), জুলহান উদ্দিন (৩০) মো. আলি মাস্টার (৫৫), মনির (৩০) ও আবুল বাশার মোল্লা (৫১)। এর মধ্যে শামিম মারা যান শনিবার রাত আড়াইটায়।

অন্য চারজন রোববার মৃত্যুবরণ করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের লাশ কফিনে করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন ১১ জন।

তাদের সবার শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। এর মধ্যে ৪ জন রয়েছেন আইসিইউতে। এরা হলেন- ফরিদ (৫৫), শেখ ফরিদ (২১), মো. কেনান (২৪), নজরুল ইসলাম (৫০), সিফাত (১৮), আবদুল আজিজ (৪০), হান্নান (৫০), আবদুস সাত্তার (৪০), আমজাদ (৩৯), মামুন (২৩) এবং ইমরান।

বার্ন ইন্সটিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় তাদের প্রত্যেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতদের দেখতে রোববার ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে আসেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এ ঘটনায় কারও অবহেলার প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান জানান, আহতদের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।

চিকিৎসার জন্য ওষুধপত্রসহ সব বিষয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। অন্যদিকে পোড়া রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দেশের সব হাসপাতালে ব্যবস্থা রাখার দাবি জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে কোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

রোববার সন্ধ্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ পরিদর্শনে এসে তিনি একথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান।

বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, এখানে এমন আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে যেগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমি জোরালো দাবি জানাব, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় বিস্ফোরণ ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সে সময় মসজিদে থাকা অর্ধশতাধিক মানুষের সবাই কমবেশি দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে যে ৩৭ জনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল, তাদের ২৬ জন ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

খুলনায় কাল থেকে সাতদিনের লকডাউন

মোঃআশরাফুল ইসলাম খুলনা সদর প্রতিনিধিঃ খুলনায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে …

error: Content is protected !!