খুপরি ঘরে জীবন কাটে ভিক্ষুক মালেখার! কথা রাখে না কেউ

এস,এম,শামীম, ফুলপুর(ময়মনসিংহ)ঃ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৭নং রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের ধন্তা(কুলোয়াকান্দা) গ্রামের বৃদ্ধ ভিক্ষুক বিধবা  মালেখা বেগম (৬৩) স্বামীর রেখে যাওয়া      শেষ সম্বল  আড়াই শতাংশ জায়গা থাকলেও  কাগজে মোড়ানো ছোট্র  একটি ভাঙ্গা খুপরি ঘর ছাড়া নেই থাকার মত একটি বাসস্থান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি-বাড়ি, মানুষের দুয়ারে-দুয়ারে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করে দিনাতিপাত করেন। কখনও কখনও চুলাই জ্বলে না আগুন, হাত পেতে ভিক্ষা করে যা পান তাই দিয়ে কোন ক্রমে খেয়ে না খেয়ে চলে জীবন।

ঘর মেরামত করার মত নেই কোন সাধ্য তার। সারা দিনের ক্লান্ত দেহ নিয়ে রাতে ঘুমাতে গেলে ভাঙ্গা চালার ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো উকি মারে তার দু’চোখের পাতায়।ঘরে নেই বিদ্যুৎ বাতি বা আলোর ব্যবস্হা, জীবন কাটছে অসহায় দুর্বিপাকে। এই বৃষ্টির দিনে সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি পরে,  কাঁথা-বালিশ জড়ো করে এক কোনে বসে থেকে জেগে জেগে  কাঁটাতে হয় সারাটি রাত । শীতের সময়ও  একই যন্ত্রণা, ঘরের ফাঁক দিয়ে ঘন কুয়াশা শরীলকে বরফ বানিয়ে দিয়ে যায়।  বললেন,আমার এই কষ্টের শেষ কোথায়? কারো কি নজরে পরে না আমায়? দু’চোখে দেখেও দেখেনা কেউ আমায়!

জানালেন  ১২ বছর আগে  স্বামী মারা গেছেন সড়ক দূর্ঘটনায়। রেখে গিয়েছিলেন একটি মেয়ে সন্তান, তাকেও বিয়ে দিয়েছেন অনেক কষ্ট করে। মেয়েরও  সন্তানাদি হয়েছে। মেয়ে জামাইয়ের অবস্থাও বেশি ভালো না  দিন চলে না তাদেরই আমায় কি দেখবে।
স্বামী বেঁচে থাকলে হয়তো এমন দিন দেখতে হতো না আমায়।

এ সব কথা বলে দু’চোখে অশ্রু নিয়ে কাঁন্নায় ভেঙ্গে পরেন ৬৩ বছরের ভিক্ষুক বিধবা মালেখা বেগম।
গত প্রায় ৩ বছর ধরে অনেকেই শুধু আশা দিয়ে যাচ্ছে, যে একটি ঘর করে  দিবেন। এখনো আশায় আছি, কিন্তু পেলাম না কোন ঘর। সবাই শুধু দেওয়ার কথা বলতে পারে, কিন্তু কেউ দিতে পারে না।

তিনি অারো জানান, ফুলপুরের তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থা নামের একটি সংগঠন ১০টাকা কেজি  চাউলের একটি কার্ড করে দিয়েছেন।অনেক দিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছেন একটি ঘর করার অনুদান কারো কাছ থেকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোক  নিয়ে এসেছেন আমার ভাঙ্গা ঘর দেখাতে  কিন্তু সবাই শুধু আশা দিয়ে গেছে। কেউ আর পরে খবরও  নিলনা।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে, ফুলপুর “তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তপু রায়হান রাব্বি বলেন, আমি বিধবা  মালেখা বেগমের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি ২০১৮ সালের জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে। কত জনের কাছে গিয়েছি একটি ঘর ও একটি বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরও অবহিত করা  হয়েছে। ঘর দিবে বলে আমাকে অনেকেই আশাও দিয়েছে, কিন্তু আজও কেউ সহায়তার জন্য এগিয়ে আসে নি। দুঃখ প্রকাশ করে জানালেন সত্যিই এটা দুঃখ জনক ব্যপার। আমি কিছুই করতে পারছি না!

ফুলপুর ব্লাড ডোনার্সের সাংগঠনিক সম্পাদক তাসনোভা নাসিন নিশু বলেন, আমি নিজে সরেজমিনে গিয়ে দেখে এসেছি উনি প্লাস্টিকের বস্তা, কাপড় ও পলিথিনে গেড়া ভাঙ্গা ঘরে থাকেন। যদি এই গরীব অসহায় মহিলাটি সরকারি ঘর না পান, তাহলে কে পাবে ঘর? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কত জনকেই তো বাসস্হানের ব্যবস্হা করে দিচ্ছেন। তাহলে উনি কেন গরীব হয়েও এইটুকু সুবিধা পাচ্ছে না।

মালেখা বেগম আফসোস করে বলেন, এই বুড়ো বয়সে আমার আর আশা বোধ হয় পূর্ণ হইবো না আমার মৃত্যু লিখা আছে এই ভাঙ্গা ঘরে, আমার মরণও হইবো ভাঙ্গা ঘরে থেকেই।

এখনও তবু  উনি হাল ছাড়েন নাই,আশায় বেধে আছেন বুক,জানালেন সাহায্যর জন্য ব্যবস্হা করে দেওয়ার কথা। গরীবের ‘মা’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ ফুলপুর- ময়মনসিংহের নির্বাচিত সংসদ সদস্য গৃহায়ন গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহাম্মেদ এমপি ও সকল ধন বিত্তবানদের কাছে ভিক্ষুক বিধবা মালেখার জন্য এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

রাকিবুল হাসান সুমন,ত্রিশাল ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাটি ভরাট …

error: Content is protected !!