খুলনায় মাদ্রাসা ছাত্র  হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসির আদেশ

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, খুলনা সদর প্রতিনিধি: খুলনার রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের মাদ্রাসা ছাত্র ও মুদি দোকানদার মোঃ মুসা শিকদার  হত্যা মামলায় ৪আসামিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় খুলনা জেলা ও দায়রা জজ মোঃ মশিউর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামিকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামিরা হলেন রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের বনি আমিন সিকদার (২০) আব্দুর রহিম (২১) রাজু শিকদার(২০) ও নুহ শেখ (২০) মামলায় দায় থেকে খালাস পেয়েছেন দুইজন মোহাম্মদ জসিম শিকদার (৪৯)ও সিরাজ সিকদার(৫২)   রায় ঘোষণার সময় ৬ জন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

খুলনায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট ইনামুল হক জানান আসামিদের মৃত্যু পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে বলা হয়েছে ৩০২/ ৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা পাশাপাশি বনি আমিন সিকদার আব্দুর রহিম শিকদার রাজু শিকদার ও নুহ শেখকে ৩৬৪/৩৪ ধারায় ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ৬ আসামির মধ্যে ৪ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

মামলার বিবরণে বলা আছে ২০১৮ সালের ২০সেপ্টেম্বর প্রক্স্য উপজেলার আঠারোবেকি নদীতে আলিপুর গ্রামের মুদি দোকানদার ও মাদ্রাসা ছাত্র মোঃ মুসা শিকদারেরগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। মোদি দোকানে বাকি খাওয়া ও গুলতি মারা নিয়ে একদিন আগেই বিরোধ হয়েছিল এই বিরোধ ও মারামারি জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ২০১৮সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে হত্যার  অভিযোগে মামলা করেন মুসার বাবা মুস্তাকিম সিকদার। মামলায় ৪জনের নাম দেয়া হয় এরা হলেন বনি আমিন সিকদার আব্দুর রহিম রাজু শিকদার ও নুহ শেখ। আদালতের বিচারক এ মামলাটি তদন্ত করে  মামলাটি তদন্ত করে নথিভূক্ত করার জন্য রুপসা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন ।

২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি থানায় মামলাটির নথিভূক্ত হয় (রুপসা থানা মামলা নম্বর ১২ তারিখ ১৫/০১/২০১৯) মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয় জেলের উপ-পরিদর্শক (এসআই)  মুক্ত রায় চৌধুরী মামলাটি তদন্ত করে এজাহারভুক্ত ৪ জনের সাথে যুক্ত হওয়া ২জন হলেন মো জসিম শিকদারও সিরাজ শিকদার। আসামিরা সবাই রূপসা উপজেলার গ্রামের ইলাইপুর গ্রাৃের বাসিন্দা। ২০১৯ সালের ১৪ই অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় জেলা জজ আদালতে। বিচারক খুলনার সিনিয়র দায়রা জজ মোঃ মশিউর রহমান চৌধুরী এ মামলার শুনানি ২৪জনের মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। মামলাটি রাষ্ট্র পক্ষে  পরিচালনা করেন পিপি এনামুল হক ও পিপি এম ইলিয়াস খান। আসামিপক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ ফরহাদআব্বাস ও নিরঞ্জন ঘোষ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

সোনাইমুড়ীতে স্কুল ছাত্রীকে শ্লীলতাহনীর অভিযোগে থানায় মামলা

সোনাইমুড়ীতে স্কুল ছাত্রীকে শ্লীলতাহনীর অভিযোগে থানায় মামল নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে এক স্কুল ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে সোনাইমুড়ী …

error: Content is protected !!