কাপাসিয়ায় গৃহবধূ গণধর্ষণ: হাতেনাতে ধরা খেলো নারীখেকু রাসেল মোক্তার

বিশেষ প্রতিনিধি গাজীপুরের কাপাসিয়ার সাফাইশ্রী এলাকায় আলোচিত নারীখেকু ছাত্রদলের চিহ্নিত ক্যাডার মোক্তার রাসেল মোল্লাসহ ৩ জনকে গৃহবধূ গণধর্ষণের সময় হাতেনাতে ধরে ফেলে এলাকাবাসী। এ সময় ধৃত তিনজনকে কিছু উত্তম মধ্যম দেয়। খবর পেয়ে মোক্তার রাসেল মোল্লার বাবা মোক্তার মফিজ মোল্লা মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনে।

গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় হাতেনাতে ধৃতরা হলো, কাপাসিয়া দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি মোক্তার মফিজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে মোক্তার রাসেল মোল্লা (৩৫), কাপাসিয়ার আদালতপাড়া এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মোক্তার সোহেল (৩৫) ও মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে কাপাসিয়া উপজেলা রোড ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সবুজ (৩৫)। এলাকাবাসী জানায়, কাপাসিয়ার সাফাইশ্রী গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে ফারুকের সাথে সখ্যতা গড়ে রাসেল মোক্তার, সোহেল মোক্তার ও সবুজ তার বাড়ি আসা যাওয়া করতো। এমনকি ফারুকের বাড়িতে বসে সকলে মিলে ইয়াবা সেবন করত। পাশাপাশি ইয়াবার চালান এনে বন্টনও করতো বলে এলাকাবাসী বহুদিন যাবত জেনে আসছে।

এদিকে ফারুকের বাড়িতে আসা যাওয়ার সুবাদে ফারুকের সুন্দরী স্ত্রীর দিকে কুনজর দেয় রাসেল মোক্তার, সোহেল মোক্তার ও সবুজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১০-১২ জন এলাকাবাসী বলেন, গতকাল সোমবার (২৪ আগষ্ট) রাত ১১ টার দিকে রাসেল মোক্তার, সোহেল মোক্তার, সবুজ মিলে ফারুকের বাড়িতে যায়। সেখানে তারা সবাই মিলে এক সাথে বসে ইয়াবা সেবন করে। এক পর্যায়ে রাসেল মোক্তার, সোহেল মোক্তার, সবুজ ফারুকের সুন্দরী স্ত্রীকে ঝাঁপটিয়ে ধরে। এ সময় ফারুকের স্ত্রী ডাক চিৎকার করলে এলাকার ২০-২৫ জন মানুষ ছুটে আসেন।

এলাকাবাসী এসে তাদেরকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এদিকে কাপাসিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে ফোনে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো প্দক্ষেপ নেননি। অভিযোগ উঠেছে রাসেল মোক্তার কাপাসিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে নিয়মিত মোটা অংকের মাসোহারা দিয়ে আসছে। অপরদিকে দীর্ঘদিন ধরে কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় রাসেল মোক্তার তার অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। জোর করে অন্যের জমি দখল, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের হয়রানিসহ সকল অপরাধ করে বেড়ায়। শুধু তাই নয়, রাসেল মোক্তার সাফাইশ্রী এলাকায় তার দলবল নিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। এই করোনা কালে রাসেল মোক্তার ও সোহেল মোক্তার মিলে মুক্তিযোদ্ধা কাশেম সিকদারের ছেলে তুহিন সিকদারকে দিনে দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে আটকিয়ে মারধর করে টাকা পয়সা মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় তুহিন সিকদার কাপাসিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলেও রহস্যজনক কারণে থানার ওসি রফিকুল ইসলাম মামলা নেননি। অপরদিকে রাসেল মোল্লা, সোহেল মোক্তার মোটরসাইকেল নিয়ে সাফাইশ্রী এলাকায় মহড়া দিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করে বেড়ায়। কাপাসিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে হঠাৎ রাসেল মোক্তার আমাকে ফোন দেয়। কিন্তু এসব কিছুই বলেনি। তবে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন আমাকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ পাঠানোর আগেই রাসেল মোক্তারসহ অন্যদের ছাড়িয়ে নেয়া হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

প্রধান শিক্ষক এখন গরু খামারের কেয়ারটেকার

তাসনীমুল হাসান মুবিন,স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহের ত্রিশালের আলহেরা একাডেমী এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক …

error: Content is protected !!