কেরানীগঞ্জে ফুটপাত দখল করে প্রভাবশালী নেতার চাঁদাবাজি

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী এলাকায় জেলা পরিষদ মাকের্টের সামনের রাস্তায় উপর ফুটপাত ও তিনটি ব্রীজ দখল করে ছোট ছোট দোকান বসিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৬ লাখ টাকার বেশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ফুটপাত দখল করায় পথচারীদের রাস্তায় চলাচল করতে প্রতিনিয়ত সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মার্কেটের সামনে ফুটপাতে দোকান বসানোর কারনে নানান সমস্যার মুখে পড়ছে ব্যবসায়ীরা। লক্ষ লক্ষ টাকা বিনোয়গ করে তাদের ব্যবসায়ীক ক্ষতি হচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী ওই নেতার ভয়ে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছে না।

সরেজমিনে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর জেলা পরিষদ  মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুইপাশে হকাররা ফুটপাতে দোকান বসিয়ে দোকানদারী করছে। অনেক হকারই পথচারীদের চলাচলের পথ আটকিয়ে দোকান  বসিয়েছে। এতে করে প্রায়ই ফুটপাতের রাস্তা দিয়ে
পথচারীদের পারাপারে সমস্যা হচ্ছে। পথ চলতে গিয়ে বাধার সৃষ্টি হলে মাঝে মাঝেই পথচারীদের সাথে হকারদের কথা কাটাকাটি হয়। হকাররা তাদের ময়লা আবর্জনা পাশেই শুভাঢ্যা খালে ফেলছে। দিনের বেলায় ফুটপাতে কম সংখ্যক দোকান বসলেও সন্ধ্যার পরে পুরো রাস্তা জুড়েই জমে উঠে ফুটপাতের দোকান। কোন ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই স্থানীয় ওই নেতার সেল্টারে যে যেমন খুশি তেমন ভাবে দোকানের পশরা সাজিয়ে বসে ।


একাধিক হকারের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে প্রায় (৪০০) চার শতধিকের বেশি দোকান রয়েছে। প্রতিটি হকারের কাছ থেকে জায়গার ভাড়া ও ১টি বাতির বিদ্যুৎ সংযোগ বিল বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ২০০০ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। তারা আরো জানান, বিশেষ কোন দিন আসলে, যেমন ঈদ, পুজা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দিবস আসলে মিজানকে আলাদা ভাবে ২০০-৩০০ টাকা প্রতি হকরদের বাধ্যতামূলক দিতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এদের ক্ষমতার কাছে জিম্মি হয়ে পরেছি। আমরা ১০-১২ লাখ টাকা এডভান্স দিয়ে এবং ৪০/৫০ হাজার
টাকা দোকান ভাড়া দিয়ে যে মাল ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি করি একই মাল তারা ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি করে ফেলে। ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের তো কোন খরচ নাই। দিন দিন আমাদের ক্রেতা কমে যাচ্ছে। আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। ফুটপাতের ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্রæত পদক্ষেপ নেয়ার আহŸান জানাচ্ছি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রভাবশালী নেতা মিজানুর রহমান কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক শাখা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক পদে রয়েছেন। একসময় জাতীয় পার্টির কেরানীগঞ্জের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন মিজান। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার তৎকালীন সেচ্ছাসেবক লীগ সাধারন সম্পাদক মো: মিলনের হাত ধরে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশ করে মিজান। পরবর্তীতে মিলনের মৃত্যুর পর মিলনের পরিচয় ও সুনাম ব্যবহার করে কালিগঞ্জ এলাকায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে মিজান।

এরপরে ২০১০ সালে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস মালিক সমবায় সমিতির সভাপতির পদটি বাগিয়ে নেন তিনি। এরপরে ২০১৩ সালে কৌশলে নির্বাচন ছাড়াই সভাপতি থেকে নিচে নেমে সাধারন সম্পাদক পদে এবং পরের বার ২০১৬ সালে সহ- সভাপতির পদ নেন তিনি। ২০১৪ সালে মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক পদ ব্যবহার করে কৌশলে তার নিজের লোকজন দিয়ে রাস্তার দুই পাশের ফুটপাত দখল করে নেন। এরপর থেকেই নিয়মিত চলছে তার চাঁদাবাজি। ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে জড়িয়ে ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এফবিসিসিআই সদস্য (সদস্য নাম্বার ১৪১৬) পদ নেন । পরবর্তীতে নানান ভাবে তদবীর করে এফবিসিসিআই সদস্য হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসাবে বিদেশ ভ্রমন করার পরে ফুটপাত দখলসহ চাঁদাবাজিতে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে মিজান।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস মালিক সমিতির সভাপতি স্বাধীন শেখ জানান, ফুটপাতে হকারদের দোকান থাকুক তা আমরা চাই না। ফুটপাতে হকারদের কারনে আমাদের ব্যবসায়ীদের অনেক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ন এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অনেক লোক যাতায়ত করে কিন্তু এ হকারদের কারনে প্রায় ই ঝামেলা হয়। রাস্তা দখল হয়ে যাওয়ার কারনে অনেক সময় মূমূর্ষ রোগী ঠিক মতো নেয়া কঠিন হয়ে যায় । স্কুল কলেজের মেয়েরা ঠিক মতো হাটতে পারে না। মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান এ ফুটপাত নিয়ন্ত্রন করে। বছর খানেক আগে আমরা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে উদ্দ্যোগ নিয়ে সমস্ত ফুটপাত উঠিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আবার প্রভাব খাটিয়ে ফুটপাত বসানো হয়। এ ব্যাপারে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সহযোগীতাকামনা করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে প্রথমে তিনি ফুটপাত থেকে টাকা উঠানোর ব্যাপারটা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে বলেন এই টাকা কি আমি খাই নাকি? এই এলাকার আওয়ামীলীগের অনেক গরিব নেতাকর্মীরারা ফুটে হকারি করে ব্যবসা বানিজ্য
করছে। আমি কি তাদের ফেলে দিতে পারি ?#

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ব্যবস্থা না নিলে মার্চে মশার ঘনত্ব চরমে পৌঁছাবে

রাজধানীতে গত বছরের এই সময়ের তুলনায় মশার ঘনত্ব বেড়েছে চার গুণ। আর মশা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ …

error: Content is protected !!