অনিশ্চয়তায় এইচএসসি পরিক্ষার্থীরা, পরিক্ষা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সজিবুল ইসলাম হৃদয়ঃকরোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পৃথিবীটা আজ স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব পরিমণ্ডলের অর্থনৈতিক চাকা ও গণমানুষের জনজীবন । এমন পরিস্থিতির এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গোটা বিশ্ব হিমশিমখেয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। সমগ্র বিশ্ব যখন প্রাদুর্ভাব কমিয়ে আনার ভাবনায় মগ্ন তখন আমাদের দেশে আলোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরিক্ষা নিয়ে।

যদিও করোনা সংক্রমণের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার গত ২২ মার্চ এবছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরিক্ষা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। দীর্ঘ দুই মাস লকডাউনের পর অফিস-কারখানা-যানবাহন চালু করে কিছু বিধি-নিষেধ শিথিল করা হলেও এই পাবলিক পরীক্ষার ব্যাপারে এখোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। তবে ২৫ অাগষ্টের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে করোনা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় পরিক্ষা নিয়ে অনিশ্চিয়তায় রয়েছে ১৩ লক্ষের বেশি পরিক্ষার্থী।

এমতাবস্থায় এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এইচএসসি ও সমমানের পরিক্ষার্থীরা। এবিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জয় বলেন, করোনা শনাক্ত সংখ্যা দুই অংক ও মৃত্যু সংখ্যা শূন্য প্রায় না অাসার অাগে এইচএসসি পরিক্ষা নেওয়া মানে করোনার সাথে মধুর সন্ধি তৈরি করা ছাড়া আর কিছুই নয়। করোনা পরিস্থিতি আমাদের দেশে এখনো অনুকূলে আসেনি । প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে রোগীর সংখ্যা। আমাদের দেশের হিসেবে অনুযায়ী প্রতিদিন গড় মৃতের সংখ্যা ৩৫ জনেরও বেশি । আক্রান্তের হারও সন্তোষজনক নয়। ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্তের হার । আক্রান্তের হার দুই সংখ্যায় আর মৃতের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় এলে বোঝা যাবে মহামারী নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। এখনো আমাদের গন্তব্যের চাকা করোনায় অনিশ্চিত হয়ে আছে। এমন অনিশ্চিত গন্তব্যে গিয়ে আমার, আপনার, আমাদের সুন্দর জীবন করোনার কাছে সমর্পণ করতে রাজি নই। রাজি নই এমন গন্তব্যে আমাদের কোমলমতী শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যতের মোহে ডুবিয়ে তাদের জীবন করোনার কাছে বিলিয়ে দিতে । তাই পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে তবেই এইচএসসি পরিক্ষা নেওয়া হোক অন্যথায় নয়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অারেক পরিক্ষার্থী শাম্মি অাক্তার জানান, করোনাকালীন সময়ে যদি পরিক্ষা নেওয়া হয় তাহলে লক্ষ, লক্ষ শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। পরিক্ষা চলাকালীন যদি একজন শিক্ষার্থীর করোনা পজিটিভ হয় তাহলে তার সংস্পর্শে বাকি যারা থাকবে তাদের মাঝেও এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়বে, তাদের থেকে আবার অন্যদের ছড়াবে। ফলে আমার সোনার দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। পিতামাতা হবে সন্তানহারা। তাই করোনা পরিস্থিতিতে পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ার অাগে এইচএসসি পরিক্ষা না নেওয়ার দাবি জানাই।

যশোর বোর্ডের পরিক্ষার্থী অাতিক শাহরিয়ার জানান, আমরা যেমন অটো পাশ চাই না, তেমনি জীবনের বিনিময়ে পরিক্ষাও চাই না। যখন শনাক্ত সংখ্যা নগণ্য ছিলো তখন পরিক্ষা নেয় নি তাহলে হাজার হাজার শনাক্তের সময় এইচএসসি পরিক্ষা হবে তা ভাবতেই পারি না। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার পর্যন্ত পরিক্ষা স্থগিত রাখা হোক।

তবে রাজশাহী বোর্ডের পরিক্ষার্থী নাফিউল ইসলাম আকাশ বলেন, এই করোনা ক্রান্তিলগ্নে দীর্ঘ ৫ মাস পরিক্ষা স্থগিত রয়েছে। এতে করে আমরা শিক্ষাথীরা পড়াশোনা থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছি। অনেকের এতে করে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে। আর এমনিতেই গণ পরিবহন, দোকানপাট সবকিছুই খুলে দিছে। তাই সবদিকে বিবেচনা করে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে এইচএসসি পরিক্ষা নেওয়া যেতে পারে।

এছাড়া ঢাকা বোর্ডের পরিক্ষার্থী নাফিসা তাবাসসুম জানান, ভালোই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ইচ্ছা ছিল, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য চেষ্টা করবো। কিন্তু পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় পড়াশোনা আর ঠিকভাবে করা হচ্ছে না। সব কিছু মিলিয়ে একটা চিন্তার মধ্যে আছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

জবির খেলার মাঠে ডিএসসিসির মার্কেট নির্মাণের প্রতিবাদ শিক্ষক সমিতির

 জবি প্রতিনিধি:  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মার্কেট নির্মাণের …

error: Content is protected !!