ভূমির প্রস্তাবিত নিয়োগ বিধিতে ব্যাপক বৈষম্য, ব্যাখ্যা চেয়েছে আইন মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত খসড়া বিধিমালায় বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। সেখানে ১৬তম ও ১৭তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ১১তম ও ১২ তম গ্রেডে আনার প্রস্তাব করা হলেও ১৪তম গ্রেডের প্রধান সহকারী- কাম-হিসাবরক্ষক এবং ১৬ তম গ্রেডে কর্মরত নাজির-কাম-ক্যাশিয়ার, সার্টিফিকেট পেশকার, ক্রেডিট চেকিং-কাম-সায়রাত সহকারী, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, সার্টিফিকেট সহকারী, মিউটেশন-কাম-সার্টিফিকেট সহকারীদের পদোন্নতির কোন সুযোগ রাখা হয়নি।

এতে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের চরমভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির পদ অফিস সহায়ক, প্রসেস সার্ভার ও চেইনম্যান থেকে পদোন্নতি বন্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে সার্ভেয়ারদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আদালতে ছয়টি রিট মামলা থাকলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ এবং ভূমি সহকারী ও ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ নামে পৃথক দুটি বিধিমালার খসড়া প্রণয়ন করে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠানো হয়।

ভেটিংয়ে একই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী সংক্রান্ত পৃথক দুটি বিধিমালা প্রণয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, দুটি বিধিমালা একত্রিত করে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা গেলে বিধিমালা স্বচ্ছ ও সহজবোধ্য হতে পারে। এতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রতিটি পদের বিপরীতে পদ সংখ্যা বেতন-স্কেল ও গ্রেড উল্লেখ থাকা আবশ্যক হলেও তা করা হয়নি। ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা থেকে কানুনগো পদে পদোন্নতির কথা বলা হলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালায় ওই দুটি পদের উল্লেখ নেই।

এছাড়া উচ্চ আদালতের ছয়টি রিট পিটিশন মামলায় কোন আদেশ দেওয়া হয়ে থাকলে তা আমলে নেওয়া হয়েছে কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আরও বেশকিছু বিষয়ের অসামঞ্জস্য তুলে ধরে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের এই পর্যবেক্ষণ ছাড়াও প্রস্তাবিত বিধিমালা আরও কিছু গরমিল ও অসামঞ্জস্য রয়েছে, যা কর্মকর্তা কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিব বরাবর লিখিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিধিমালায় তহসিলদার, সহকারী তহসিলদারদের পদবি বিধি বহির্ভূতভাবে পাল্টিয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা করা হয়েছে। তাদের বেতন গ্রেড যথাক্রমে ১৬তম ও ১৭তম হলেও তা ১১তম ও ১২তম গ্রেডে দেখানো হয়েছে। The Recruitment Rule for the Upazila Revenue Officers and Staff (Management Side) Rules,1985 অনুযায়ী নাজির-কাম-ক্যাশিয়ার, সার্টিফিকেট পেশকার, ক্রেডিট চেকিং-কাম-সায়রাত সহকারী, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, সার্টিফিকেট সহকারী, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারীর বেতন স্কেল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার স্কেলে এবং ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল একধাপ নিচে ছিল। ২০১৩ সালের একটি প্রশাসনিক আদেশে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের যথাক্রমে ১৬তম এবং ১৭তম গ্রেড হতে ১১তম এবং ১২তম গ্রেডে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়। পরবর্তীতে মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে উক্ত আদেশ স্থগিত করা হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ভূমি প্রশাসন সহকারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জনাব লিটন চন্দ্র হালদার বলেন, একই অফিসের আওতাধীন নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীদের বেতন স্কেল সমতা বিধান না করে উচ্চ স্কেলধারী কর্মচারীর অপেক্ষা বৃদ্ধি করলে কর্মচারীদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হবে, মাঠ প্রশাসনে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে এতে রাজস্ব আদায় ব্যাহত হবে অধিকন্তু এতে কর্মচারী বান্ধব সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হবে। তিনি প্রজাতন্ত্রের অন্য কর্মচারীদের ন্যায় পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করে ভূমি অফিসের কর্মচারীদের জন্য একটি অভিন্ন ও যুগোপযোগী নিয়োগ বিধি প্রণয়নের দাবী জানান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

দেশের সকল থানার ওসির নাম্বার

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর সরকারি মোবাইল নাম্বারসমূহ: ডিএমপি, ঢাকা: ১) …

error: Content is protected !!