কেরানীগঞ্জে অন্যের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে

ঢাকার কেরানীগঞ্জে সায়মা চৌধুরী বিথী নামে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননীকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য ও কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা কাজী সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে।

বিথীর পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে ব্যবসায়ী আনিসুর রহমানের সাথে পারিবারিক ভাবেই বিয়ে হয় বিথীর। এরপরে একে একে তিনটি সন্তান হয় তাদের । বড়ো মেয়ে ফিওনার বয়স ১৪ বছর, মেঝো ছেলে আলাফ এর বয়স ১১ বছর এবং ছোট ছেলে সাইফান এর বয়স ২ বছর। সব কিছু মিলিয়ে সুখে শান্তিতে ভালোই দিন কাটছিলো তাদের। রাজধানী ঢাকার জুড়াইন কালা মিয়ার বাজার এলাকায় আনিসুর রহমানের পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করতেন তারা। বিথীর বাবার বাড়ি কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নে দোলেশ্বর এলাকায়।

কিন্তু হঠাৎ করেই সব কিছু এলোমোলো করে দিয়ে গত ৯ ই আগষ্ট রাত্রে ছোট ছেলে সাইফানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় বিথী। ঐ দিন রাতে আনিসুর রহমান বিথীর মোবাইল ফোনে বিথী ও সুলতান মাহমুদের কিছু আপত্তিকর ম্যাসেজ দেখতে পান। ম্যাসেজগুলো দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে বিথীর সাথে সুলতান মাহমুদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ম্যাসেজগুলো সম্পর্কে বিথীকে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর দিতে পারে না সে। পরে আনিসুর রহমান কোন কথা না বাড়িয়ে বাসার ছাদে চলে যান। এ সুযোগে বিথী সন্তানকে নিয়ে রাত ১০ টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপরে নিচে নেমে বিথীকে খোজাখুজি করে না পেয়ে রাত ১ টার দিকে রাজধানীর কদমপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন তিনি। পর দিন সুলতান মাহমুদের পারিবারিক সুত্রে জানা যায় বিথী আওয়ামীলীগ নেতা সুলতান মাহমুদের সাথেই আছে। এরমাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ও বিথী আর সুলতান মাহমুদের অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরাল হয়।

খোজ নিয়ে জানা যায়, বিথীর বাবার বাড়ি কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নে হওয়ায় সুলতান মাহমুদের সাথে আগে থেকেই সখ্যতা ছিলো বিথীর। মাস দুয়েক আগে সুলতান মাহমুদের স্ত্রী করোনায় মারা যাওয়ার পরে তাদের দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং নিয়মিত মোবাইলে যোগাযোগ হতে থাকে। সুলতান মাহমুদ বিত্তশালী হওয়ায় সে বিথীকে বিলাশী জীবনের প্রলোভন দেখায়। বিথীও তার টোপে পা দিয়ে বড়ো মেয়ে ও মেঝো ছেলে কে রেখে ছোট ছেলে সাইফান কে সঙ্গে নিয়ে সুলতান মাহমুদের কাছে চলে যায।

এ ঘটনায় কোন্ডা ইউনিয়নে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না। সরেজমিন কোন্ডা ইউনিয়নের দোলেশ^র এলাকায় গিয়ে কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুলতান মাহমুদ তার প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় ও আরো ২টা মেয়েকে বিয়ে করেছিলো, পরে টাকা পয়শা দিয়ে ঐ মেয়েদের বিদায় করে দিয়েছে। তার স্ত্রীর মৃত্যু নিয়েও প্রশ্ন তুলছে অনেকে। এলাকাবাসীর দাবী এ ঘটনার সুষ্ঠ সমাধান করা হোক। অন্যথায় এলাকায় সামাজিক অবক্ষ্যয় বেড়ে যাবে অনেক।

এদিকে বিথীর চলে যাওয়ায় ভেঙে পরেছে পুরো পরিবার। বড়ো মেয়ে ফিওনার ও মেঝো ছেলে আলাফ তাদের মায়ের এমন আচরন মেনে নিতে পারছে না কিছুতেই। বিথীর বাবা মা মেয়ের এমন কান্ডে বাকরুদ্ধ হয়ে অসুস্থ হয়ে পরেছেন।

বিথীর স্মামী আনিসুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি আমার ছোট ছেলেকে ফিরত চাই, আর এ ঘটনার সুষ্ঠ একটা সমাধান চাই। এর সমাধান না হলে আজকে আমার সংসার ভেঙেছে কালকে আরেক জনের সংসার ভাঙবে। আমি চাই না আমার মতো আর কারো সাজানো গোছানো সংসার নষ্ট হোক।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য কাজী সুলতান মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যাক্তিগত নাম্বারে একাধিক বার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।#

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

টিভি কেনার সময় লাইসেন্স ফি বাধ্যতামূলক করতে চায় সংসদীয় কমিটি

টেলিভিশন সেট কেনার সময়ে লাইসেন্স ফি আদায়ের বাধ্যবাধকতা চায় সংসদীয় কমিটি। লাইসেন্স ফি পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট …

error: Content is protected !!