রক্তাক্ত স্মৃতিতে “লালপুরের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা”

সজিবুল ইসলাম হৃদয়ঃ মানুষের মন ও চিন্তা ভাবনা জনভেদে আলাদা আলাদা। কারো মন চায় খেলাধুলা করতে, কেউ চায় গান-বাজনা করতে, আবার কেউ চায় কবিতা গল্প ইতিহাস লিখতে। তবে পাকশী রেলওয়ে কলেজের প্রভাষক সাদ অাহমেদ একটু আলাদা। ছাত্র অবস্থা থেকেই স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য, স্থাপত্য ও শিল্পকলা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রান্তিক ইতিহাস উদঘাটনের প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল তার।

ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে তিনি লালপুরের বিভিন্ন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। তুলে ধরেছেন বাংলা ও বাঙালির অস্তিত্বের ইতিহাস, বাঙালির যুগে যুগে বঞ্চিতের ইতিহাস। লিখেছেন ১৯৭১ সালের অগ্নিযুূদ্ধের ইতিহাস। তারই ধারাবাহিকতায় নাটোরের লালপুর উপজেলার মেদিনীপুর জমিদার (এমজেট) কোম্পানি কতৃক কৃষকদের উপর অত্যাচার, নির্যাতন, অান্দোলন সংগ্রাম সফলতার ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধ ও পাক বাহিনীর নির্মম গণহত্যার ইতিহাস নিয়ে “লালপুরের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা” নামে গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা বিষয়ক গ্রন্থটির প্রথম অধ্যায়ে তুলে ধরেছেন, ১৮৬০ থেকে ১৯২১ সাল পযন্ত লালপুর তথা এই সময়ের মেদিনীপুর জমিদার কোম্পানি কর্তৃক কৃষকদের উপর অত্যাচার, নির্যাতন, আন্দোলন সংগ্রাম সফলতার ইতিহাস গৌরবের অধ্যায় আলোচিত হয়েছে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের (অগ্নিযুদ্ধ) স্বদেশী আন্দোলনের বিপ্লবীদের সম্পর্কে বর্ণনা হয়েছে।

এবং বইটি ২ টি অধ্যায়ে ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর সময়ে অত্র এলাকার তথা নাটোর মহাকুমার লালপুর থানার ৩২৭ বর্গ কি.মি. এলাকা জুড়ে বিস্তারিত ও ব্যপক করে মুক্তিযুদ্ধ ও পাক বাহিনীর নির্মম গণহত্যার ইতিহাস রচিত হয়েছে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের পাক বাহিনীর দোশর, রাজাকার ও পিচ কমিটির নির্মমতার ভয়াল চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া গ্রন্থটির মধ্যে ততকালীন সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিচয় পাওয়া যায়।

স্থানীয় ইতিহাস, স্থাপত্য ও শিল্পকলা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষক সাদ অাহমদ জানান, গ্রন্থটি এলাকা ভিত্তিক প্রথম মৌলিক গবেষণা ও জাতীয় গ্রন্থের তালিকাভুক্ত। এই গ্রন্থে হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান ঘটনাক্রম গবেষণা করে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে মূল্যবান দূর্লভ ছবি উদ্ধার ও অতি প্রাচীন দূর্লভ ছবির সন্নিবেশ করা হয়েছে।

এছাড়া তিনি জানান, শীঘ্রই বইটির ২য় গন্থ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। যেখানে অনেক অারো তথ্য ও প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপিত হবে। যে কোন পাঠকেরই বইটি কালের বিবর্তনে ইতিহাস সংগ্রহে রাখা উচিত।
নতুন প্রজন্ম জানুক, স্বাধীনতা শুধু চারটি বর্ণের সমাহার নয়। এর পেছনে আছে কতমানুষের আত্মত্যাগ, নির্যাতন ও দীর্ঘশ্বাস। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

এদিকে, রোববার (৯ আগষ্ট ) লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাহিত্যিক আব্দুর রশিদ মাষ্টারের হাতে “লালপুরের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা” বই তুলে দেন বইটির লেখক সাদ আহমদ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

আওয়ামীলীগ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুবিতে আনন্দ মিছিল

কুবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আনন্দ মিছিল করেছে …

error: Content is protected !!