বেকারত্ব দুর করার লক্ষ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাঝে আনন্দ পাই – আলহাজ্ব এরশাদ আলী

দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এরশাদ আলী ১৯৬৮ সালের ২ মে রাজশাহীর বাঘা থানার চক রাজাপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহীর তিন্নি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং রাজশাহী কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। পরে রাজশাহী কলেজ থেকে বিকম পাস করেন।

জীবনের নানা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সমাজের বেকারত্ব দূর করতে। একের পর এক গড়ে তুলছেন বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান। সেখানে হাজার মানুষের কর্মের সংস্থান করছেন। এসব কাজের মধ্যেই তিনি জীবনের প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পান। আলহাজ্ব এরশাদ আলী একান্ত সাক্ষাতকারে তার জীবনের নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। নিচে তা তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: আপনি বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম। আপনার জীবনের এই সফলতার পেছনের গল্প কি?

মো. এরশাদ আলী: আমার জীবনের সফলতার পেছনে অনেক কষ্টের স্মৃতি রয়েছে। রাজশাহীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিয়েছিলাম আমি। আমার পূর্ব পুরুষেরা বড় বড় নৌকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন বন্দরে ব্যবসা বাণিজ্য করতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে পদ্মা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এক সময় চরম অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কেটেছে আমার পরিবারের। সেই সময় গুলোতে অত্যন্ত পরিশ্রম করেছি। কলেজে পড়ার সময় সংসারের খরচ জোগাতে রিকশার ব্যবসা শুরু করি। শতাধিক রিকশার মালিক ছিলাম। অনেকেই আমার রিকশা চালিয়ে জীবন নির্বাহ করেছে। আমি নিজেও অনেক সময় রিকশা চালিয়েছি। এর পাশাপাশি রিকশা চালকদের খাবার সরবরাহ করেছি।

সেখান থেকে যে আয় হয়েছে তা দিয়ে আরও রিকশা কিনেছি। আমার জীবনের মোড় ঘোরে বিয়ের পর। ১৯৯২ সালে রাজশাহী শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ নসিম উদ্দিনের দ্বিতীয় মেয়ে মো. নাসরিন বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। এরপর রিকশার ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে রাজশাহী শহরে শ্বশুরের রড-সিমেন্টের ডিলারের ব্যবসা দেখাশোনা শুরু করি। এরপর আমার এক ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকি। আর ব্যবসার পুঁজি সংগ্রহের জন্য অন্য তিন ভাইকে বিদেশে পাঠায় অর্থ উপার্জন করতে। তারা ১০ থেকে ১৫ বছর বিদেশে থেকে ব্যবসায় অর্থের জোগান দিয়েছে। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এখন আমার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশন, এরশাদ অ্যান্ড সন্স লিমিটেড, রড তৈরির প্রতিষ্ঠান ‘জংডা রি রোলিং মিলস লিমিটেড’, শাহ মকদুম ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি (এর বহরে রয়েছে পণ্যবাহী দেড় শত ট্রাক) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই ট্রেডার্স। এসকল প্রতিষ্ঠানে এক হাজারের বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনার ব্যবসার সফলতার জন্য কোনো ধরনের স্বীকৃতি পেয়েছেন কী?

মো. এরশাদ আলী:  ন্যায়ের পথে থেকে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করায় মির সিমেন্ট কোম্পানি থেকে ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৭ সালে আমাকে এ্যাওয়ার্ড দিয়েছে। এছাড়া একাধিক ব্যক্তিগত গাড়িও উপহার দিয়েছে। সেনাকল্যান এ্যলিফেন্ট ব্যান্ড সিমেন্ট বিক্রিতে একাধিক বার প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করায় প্রতিষ্ঠানটি একাধিক এ্যাওয়ার্ড, মোটর সাইকেল ও দেশ বিদেশে ভ্রমণের বিমান টিকিট দিয়েছে। এছাড়া এবি ব্যাংক থেকে ২০১২-১৩ সালে সেরা গ্রাহক হিসেবে এ্যাওয়ার্ড দিয়েছে। ২০১৭ সালে বিএসআরএম কোম্পানির রড বিক্রয়ে বাংলাদেশের মধ্যে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করি। তারা ইউরোপসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে ভ্রমণের সুবিধা দেয়। এছাড়া আমাদের সিস্টার কনসার্ন মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের মাধ্যমে পদ্মাসেতু প্রকল্পে ২০১৬ সাল থেকে সুনামের সঙ্গে পাথর সাপ্লাই দিয়ে আসছি। ভালো মানের পাথর দেওয়ার কারণে চাইনা মেজর ব্রিজ কোম্পানি মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সকে একমাত্র সেরা পাথর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সনদ প্রদান করেছে।

প্রশ্ন: ব্যবসা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় কি ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন?

মো. এরশাদ আলী:  অত্যন্ত কষ্টের বিষয় হচ্ছে আমার মতন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী ও কুচক্রী মহল একের পর এক ষড়যন্ত্র করে আসছে। বিভিন্ন সময় অপপ্রচার চালিয়ে আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। বর্তমানে পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের সংযোগ সড়কে পাথর সাপ্লাইয়ের দুটি ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছি। এই ওয়ার্ক অর্ডারকে কেন্দ্র করে আমার বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী হিংসা করছে। তারা একের পর এক ষড়যন্ত্র করে চলেছে আমার বিরুদ্ধে।

প্রশ্ন: আপনি একজন সফল মানুষ। যে কেউ আপনার মতন সফল হতে চাইলে কোন কাজটি করা অপরিহার্য বলে মনে করেন?

মো. এরশাদ আলী: জীবনে সফল হতে হলে অবশ্যই কর্মঠ ও পরিশ্রমী হতে হবে। একই সাথে থাকতে হবে সততা। পরিশ্রমী না হলে জীবনে বড় হওয়া যায় না। আর সততা না থাকলে কেউ তার উপর আস্থা পায় না। আজকের দিনে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরেও বছরের পর বছর বেকার থাকছে। এর প্রধান কারণ তারা পরিশ্রমী না। যে কোনো বিষয়ে পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই। কে কি বলল গুলিতে কান দেওয়া যাবে না। কোনও কাজকেই ছোট ভাবা যাবে না।

প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আপনি কি করতে চান ?

মো. এরশাদ আলী: আমাদের সমাজের অন্যতম সমস্যা বেকারত্ব। আমি নিজেও জীবনে অনেক খারাপ সময় পার করেছি। বেকারত্বের অভিশাপ কতটা ভয়াবহ তা খুব কাছ থেকে দেখেছি। এজন্য আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বেকারত্ব কমাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। আমি চাই ভবিষ্যতে যেনো কোনো মানুষই কর্মহীন না থাকে। তাই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিধি আরও বাড়াতে চাই। যাতে সেখানে আরও অনেক শিক্ষিতরা কাজের সুযোগ পান। শিক্ষিতদের মধ্যে যারা আমার মতন অত্যন্ত পরিশ্রমী আমি তাদের খুঁজে বের করি। কাজের সুযোগ করে দিই। তাদেরকে আমার মতো তৈরি করতে আমি আনন্দ পায়।

আপনাকে ধন্যবাদ
মো. এরশাদ আলী:  অপনাকেও ধন্যবাদ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

দুর্গা সেজে সমালোচনার মুখে নুসরাত

মহালয়ার দিন স্বামী নিখিল জৈনের বস্ত্র বিপণি সংস্থার বিজ্ঞাপনে মা দুর্গার বেশে ধরা দিয়েছেন নুসরাত …

error: Content is protected !!