কেরানীগঞ্জে নির্ধারিত কিছু স্থানে নিয়মতি ছিনতাই

ঢাকার কেরানীগঞ্জের ১২ টি ইউনিয়নের নির্ধারিত কিছু জায়গায় নিয়মিত চলছে ছিনতাই এর ঘটনা। এ ঘটনার শিকার ভুক্তভোগীরা নানান কারনে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন না। থানায় মামলা না হবার কারনে পুলিশ ও অনেক ছিনতাই এর ঘটনা সম্পর্কে অবগত নয় ফলে তারা ব্যবস্থা নিতে পারে না। আবার কিছু ঘটনায় অবগত হলেও পুলিশ তেমন কোন পদক্ষেপ নেয় না। ঈদকে সামনে রেখে এই স্পটগুলোতে ছিনতাই বেড়ে গেছে ।

গত ২৫ জুলাই রাত ১ টার দিকে কদমতলী থেকে আব্দুল্লাহপুর যাচ্ছিলেন কেরানীগঞ্জের একজন মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল গাফফার। পথিমধ্যে জেলখানা পার হলে একদল সশস্ত্র ছিনতাইকারী তার সিএনজির গতিরোধ করে। তাকে আটকিয়ে নগদ টাকা ও দুটো স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। অনেক রাত হয়ে যাওয়ার কারনে থানা পুলিশকে আর অবগত করেন নি তিনি। আব্দুল গাফফার বলেন, শুনেছি এ যায়গাটাতে নাকি প্রায় ই ছিনতাই হয়। আমার এক আত্মীয়ও ছিনতাইকারীর কবলে পরেছিলো মাস দুয়েক আগে একই জায়গায়, তখন তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলো, কিন্তু পরে আর কোন কাজ হয় নি। তাই আর আমি জানাই নি, কারন পুলিশকে জানিয়ে কোন লাভ হয় না।

গত ২২ জুলাই ঢাকা – মাওয়া মহাসড়কের ছিনতাইকারীর কবলে পরেন সঙ্গীত শিল্পি জেমসের বিজনেস ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন। রবিন জানায়, বুধবার রাত ২.৩০ এর দিকে প্রাইভেট কারে করে তার বন্ধুসহ মাওয়া থেকে ঢাকার দিকে আসছিলেন। ঢাকা মাওয়া মহাসড়কের তেঘরিয়া এলাকায় আসতেই রাস্তায় থাকা একটি রডের (রডটি ডাকাতরা রেখেছিলো) সাথে তাদের গাড়ির টায়ার পাংচার হয়ে যায়। পাংচার হবার ১ মিনিটের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হয় দক্ষিন কেরানীগঞ্জের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) আবুল কালাম মুরাদের টহল গাড়ি। এসআই মুরাদ রবিনের গাড়ির চাকায় গেঁথে যাওয়া লোহার রড টেনে বের করেন।

এরপর পরই এসআই আবুল কালাম ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। রবিন বার বার থাকার অনুরোধ করলেও তা কানে নেন নি এসআই আবুল কালাম । এর মিনিট খানেক পরই ছুরি আর লোহার রডসহ হাজির হয় ২০/২৫ জনের ডাকাত দল। রবিন ও তার বন্ধুকে মারধর করে তারা ৪টি দামি আইফোন, স্যামসং নোট-৮ ও সঙ্গে থাকা টাকা পয়সা, ক্রেডিট কার্ড কেড়ে নেয়।

রবিন আরো জানায় রহস্যজনক ভাবে ডাকাতদল চলে যাবার আবার কিছু সময়ের মধ্যেই হাজির হয় সেই টহল পুলিশের গাড়িটি। বিষয়টি অবহিত করলে এসআই মুরাদ এবারও কোন ধরনের গুরুত্ব না দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আলামত লোহার রডটি নিয়ে চলে আসে বলে জানায় । পরদিন দুপুরে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় স্বশরীরে হাজির হয়ে ডিউটি অফিসারকে বিস্তারিত ঘটনা অবহিত করি। কিন্তু থানার ডিউটি অফিসার ডাকাতি বা ছিনতাই মামলা না নিয়ে একটি সাধারণ ডাইরীর পরামর্শ দেয়। ডিউটি অফিসারের কথা মতই জিডিতে (জিডি নম্বর ৯৮৫) শুধুমাত্র লেখা হয়, ‘আমার ও আমার বন্ধুর ৪টি মোবাইল অসাবধানতা বশত হারিয়ে গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের সাতপাখি, জগন্নাথপুর, খাড়াকান্দি, ঘাটারচর, বলসূতা, মালঞ্চ, কোনাখোলা, দেউসূর, রাজাবড়ি , মালিভিটা, করের গাও, রতনের খামার,পোড়াহাটি,সোনাকান্দা, গোয়াইল মোচর, আমবাগিচা, জিনজিরা বাশপট্টি, আগানগর বেড়িবাধ, বাবু বাজার ব্রীজের উপর, পোস্তগোলা ব্রীজের উপরে, বেউতা, শুভাঢ্যা পশ্চিম পাড়া, নুড়ন্ডি মোর, ঝিলমিল এলাকা,ঢাকা মাওয়া মহাসড়কের নতুন চৌড়াস্তা, তেঘরিয়া , রাজেন্দ্রপুর, আব্দুল্লাপুর এলাকাসহ নির্ধরিত বেশ কিছু পয়েন্টে ছিনতাই ডাকাতি নিয়মিত ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার কিছু পুলিশ জানছে, আবার কিছ ু ঘটনা জানছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন সাধারন ভুক্তভোগীর সাথে কথা হলে তারা জানান, এসব ঘটনায়, থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে তারা কোন মামলা নেয় না। শুধু মাত্র একটা সাধারন জিডি করে থানায় ফেলে রাখে। পরবর্তীতে আর কোন খোজ খবর ও নেয় না। মামলা না নেয়ার কারনে আমাদের জিনিসপত্র ও উদ্ধার হয় না। শুধু শুধু হয়রানি আর ঝামেলায় পড়তে হয়। একে তো জিনিস পাওয়া যায় না তার উপরে আবার অহেতুক হয়রানী তাই থানা পুলিশকে আর কেউ অবগত করার আগ্রহ দেখায় না।

এ বিষয়ে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ জামান বলেন, ২২ জুলাই ছিনতাই এর ঘটনায় একটা মামলা হয়েছে থানায়। এরপর থেকে আমরা টহল জোড়দার করেছি। বাকি ঘটনা ভুক্তভোগীরা আমাদের জানায় না, ফলে আমাদের জানার বাইরে থাকে।#

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

টাঙ্গাইলে চার বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতন, অভিযুক্ত আটক

  নাসির উদ্দিন টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ গোপালপুরে চার বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের পর তার …

error: Content is protected !!