করোনায় পোশাক শিল্পে অনিশ্চয়তা, ক্রয়াদেশ আসলেও কমেছে দাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহামারী করোনার প্রকোপে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক খাত আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর পথে। বাতিল ও স্থগিত হওয়া বড় বড় অর্ডার ধীরে ধীরে ফেরত আসতে শুরু করলেও তা সক্ষমতার তুলনায় অনেকাংশেই কম। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের অর্থ পরিশোধে নানাবিধ শর্তজুড়ে দিচ্ছে বড় ক্রেতাগুলো।

পোশাক রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়,এপ্রিল মাসেই গত অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি কমেছে প্রায় ২২০ কোটি ডলার।গত অর্থবছরের এপ্রিল মাসে রপ্তানি হয়েছিল ২৫৪ কোটি ডলারের পণ্য।কিন্তু এবছরের এপ্রিলে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৩৭ কোটি ডলারের পণ্য।

বিভিন্ন দেশের লকডাউন তুলে দেওয়ায় মে ও জুন মাসে পোশাক রপ্তানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।মে মাসে রপ্তানি হয় ১২৩ কোটি ডলারের পণ্য এবং জুন মাসে তা আরও বেড়ে হয় ২১২ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এর তথ্যানুযায়ী, করোনা ভাইরাসের কারণে ৩দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারের আদেশ বাতিল এবং স্থগিত হয়েছে। যার ফলে প্রায় ৩৪৮টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে। ফেরত এসেছে প্রায় ৮০ শতাংশ অর্ডার।তবে অর্থ পরিশোধ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে ক্রেতারা বিল পরিশোধের সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিজিএমইএ এর চালানো এক জরিপে দেখা গেছে করোনাভাইরাসের সুযোগে বিদেশী ক্রেতারা পোশাকের দাম গড়ে ১৪ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে।সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে পুরুষদের অন্তর্বাস এবং ছোটদের পোশাকে।প্রতি পিস শার্টের মূল্য কমেছে ১৬ শতাংশ। ছোটদের পোশাকের দাম কমেছে ৩৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এর সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় শুধুমাত্র এপ্রিল-মে মাসেই দেশের তৈরী পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ এর সদস্যভুক্ত ৩৪৮টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। যেসব কারখানায় প্রায় ৩লাখ ২৪ হাজার ৬৪৮ জন শ্রমিক কাজ করতেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ত্রিশালে বিএনপির নবগঠিত  কমিটি বাতিলের দাবিতে  সংবাদ স‌ম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মন‌সিং‌হের ত্রিশা‌লে উপ‌জেলা বিএন‌টির নবগ‌ঠিত ক‌মি‌টি‌নি‌য়ে সংবাদ স‌ম্মেলন অনু‌ষ্ঠিত হয়ে‌ছে। র‌বিবার (২০ জুন) …

error: Content is protected !!