নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় এলাকায় ক্ষোভ

কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ও ৬ নং ওয়ার্ডে খাড়াকান্দি ও চড় খাড়াকান্দি এলাকায় প্রতিবছর নদী ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় এলাকাবাসী। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর ক্ষয়-ক্ষতির পরিমানটা অনেক বেশি হচ্ছে। এলাকাবাসী বলছেন ঢাকা-২ আসনে নির্বাচিত এমপি এ্যাড: কামরুল ইসলামের দুইবারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো এ এলাকায় বেড়িবাধ নির্মানের।

তবে নির্বাচিত হয়ে তিনি তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন নি বলে এলাকাবাসীর আক্ষেপ। এতে করে প্রতিবছর কলাতিয়া ইউনিয়নের অনেক জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে ঘড়বাড়ি হারা হচ্ছে অনেক জনসাধারন।

সরেজমিন কলাতিয়া ইউনিয়নের খাড়াকান্ডি ও চর খাড়াকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নদী ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে কলাতিয়া ইউনিয়নের মানচিত্র। বিলিন হয়ে গেছে কলাতিয়া ইউনিয়নের কয়েক কিলোমিটার জনপদ। গত কয়েকদিন আগেও যেখানে বাড়ি ঘর দাড়িয়ে ছিলো সেখানে আজ থৈ থৈ পানি। এবার স্রোত বেশি থাকায় ভাঙন হচ্ছেও বেশি। নদীর পানিতে সর্বস্ব হারিয়ে বিলাপ করছে কয়েকটি পরিবার। ভাঙনের কারনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এ এলাকার জনগন।

ভাঙনের শিকার মো: গফুর নামে এলাকার বয়জেষ্ঠ এক মুরুব্বী জানান, প্রতিবছরের চেয়ে এ বছর অনেক বেশি ভাঙছে। আমার ঘড় বাড়ি সব ভেঙে নিয়ে গেছে। এমপি সাহেব নির্বাচনের সময় বলেছিলো বেড়িবাধের বিষয়টা দেখবে। সে যদি আমাদের বিষয়টা দেখতো তাহলে আর আমাদের ভিটে মাটি ছাড়া হতে হতো না।

মো: ফরিদ নামে এলাকার স্থানীয় একজন জানান, এমপি সাহেব, উপজেলা চেয়ারম্যান, স্থানীয় চেয়ারম্যান সকলেই তাদের নির্বাচনের সময় বলে নির্বাচিত হলে এই বেড়িবাধটা করে দিবে। কিন্তু নির্বাচিত হলে কেউ আর কথা রাখে না। এমপি সাহেব প্রতি নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রæতি দেয় আমাদের বেড়িবাধ করে দিবে। উনি ঠিকি নির্বাচিত হয়েছে কিন্তু আমাদের ভাগ্যে বেড়িবাধ আর হয় নি। এবার আমাদের ২টা মসজিদ সহ প্রায় ৩০ টা পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আগামী কয়েক দিনে আরো ভাঙবে। আমাদের সমস্যা দেখার যেন কেউ নেই।

কান্না ভরা কন্ঠ নিয়ে মো: খোকন নামে অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, ১০৪ শতাংশ জমি ছিলো আমাদের। কয়েকদিন আগেও আমার পরিবার ছিলো হাসিখুশি একটা পরিবার। নদী গর্ভে বসত ভিটা, ক্ষেত সব হারিয়ে আজ আমি নি:শ^ হয়ে গেলাম। এলাকায় যখন ই এমপি, চেয়ারম্যান আসে আমাদের প্রতিশ্রæতি দিয়ে যায় বেড়িবাধ হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রæতি আর বাস্তবায়ন হয় নি আজ ও। যার হারায় সে বুঝে। সরকারের কাছে দাবী দ্রæত বেড়িবাধ হোক। আমার মতো আর কেউ যেন ভিটে মাটি হারা না হয়।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন জানান, আগে নদীটা সামান্য পরিমানে প্রতিবছর ভাঙতো। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে এলাকার প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ নদীর তীরবর্তী এলাকায় ড্রেজিং করছে। এর ফলে নদী ভাঙছে বেশি।

কলাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: তাহের আলী জানান, আমার ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড নদী ভাঙনের শিকার। গত ৫/৬ বছরে এই দুই ওয়ার্ডের ১ কিলোমিটারের বেশি জায়গা বিলীন হয়ে গেছে। গত জাতীয় নির্বাচনের সময় নদী এলাকায় (খাড়াকান্দি মাদ্রাসার সামনে) একটা নির্বাচনী জনসভা করেছিলাম। যার মূল প্রতিপ্রাদ্য বিষয় ছিলো এই নদীরপাড়ে একটা বেড়িবাধ তৈরী করা। সেই জনসভায় এডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি স্যারের কাছে আমরা এলাকাবাসী দাবী করেছিলাম এই এলাকায় একটা বেড়িবাধ, তিনি বলেছিলেন আমি যদি নির্বাচিত হই আপনাদের বিষয়টা দেখবো। এখন এই এলাকার যে অবস্থা সেখানে চেয়ারম্যান মেম্বারদের কিছু করার নেই। সরকারের কাছে আবেদন করছি আমার এলাকার জনগনের কথা বিবেচনা করে যেন একটি বেড়িবাধ দ্রæত করে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা ২ আসনের সংসদ এ্যাড: কামরুল ইসলাম এমপির সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলতেসি, বিষয়টা দ্রæত সমাধানের জন্য চেষ্টা করছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজি ও চীপ ইঞ্জিনিয়ারের সাথে আজকেই কথা বলবো। ইন সা আল্লাহ দ্রæত সমাধান করবো। #

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক গ্রুপের সমন্বয় কমিটি গঠিত

কেরানীগঞ্জের সামাজিক উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করা অন্যতম সামাজিক সংগঠন কেরানীগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক গ্রুপের কাজে আরও …

error: Content is protected !!