লালপুরে কোরবানির পশু নিয়ে বিপাকে খামারিরা

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ করোনাভাইরাসের ভয়াবহ প্রকোপের কারণে এবার গরু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার খামারিরা। ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও করোনার প্রাদুর্ভাব ও লাগাতার বৃষ্টিতে ক্রেতা না থাকায় ও বাজারে পশুর সঠিক দাম না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে তারা।

লালপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে উপজেলার প্রায় ৭৭৬টি খামারে ১৫হাজার ৫৮৩টি গরু এবং ২৫ হাজার ৪১০টি ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট খামার গুলিতে ৩-৫টা ও বড় খামার গুলিতে ৫-১০টি করে কোরবানি উপযোগী পশু এখনো অবিক্রীত রয়েছে।

স্থানীয় খামারিরা জানান, কোরবানির ঈদে ভালো দামে বিক্রির আশায় করোনা পরিস্থিতিতে উচ্চ মূল্য দিয়ে পশুকে খাবার খাওয়ানোর ফলে ঈদের আগে সঠিক দামে পশুগুলোকে বিক্রি করতে না পারলে লোকসানে পড়তে হবে তাদের।

সজীব হোসেন নামের এক খামারি জানান, এবার তার খামারে ঈদ উপলক্ষে ৭টি দেশীয় জাতের গরু প্রস্তুত করেছেন। প্রতিটি গরু ৬৭ হাজার থেকে ১লক্ষ ২০ হাজার টাকায় কিনে ৮ মাস ৩৫-৪০ হাজার টাকা খরচ করে লালন-পালন করেছেন। কিন্তু ঈদের আর কয়েকদিন বাকি থাকলেও এখনো গরু কেনার জন্য তেমন কোন ক্রেতা আসেনি। এবার করোনার কারণে বাজারেও গরুর তেমন চহিদা না থাকায় দাম খুব কম।

তদলু মোল্লা নামে আরেক খামারি জানান, কোরবানির ঈদে বিক্রয়ের জন্য তার খামারে অনেক যত্নে ৭টি গরু প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে কোন ক্রেতা নেই, বাজারেও দাম নেই। তাই এখন পর্যন্ত বিক্রি হয়নি গরুগুলো। কোরবানির ঈদ যতই এগিয়ে আসছে ততই তাদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে তার। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে গরু তুলে তা বিক্রি করে আসল তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় পশু ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর যে গরু বিক্রি হয়েছে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় এ বছর একই সাইজের গরু বিক্রয় হচ্ছে ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া ছোট সাইজের একটি দেশীয় গরু ৪০-৫০ হাজার টাকা, মধ্যম সাইজের একটি গরু ৫৫-৬৫ হাজার টাকা এবং বড় সাইজের একটি গরু ১ লাখ থেকে ১ লক্ষ ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগল ছোট সাইজের ৫-৬ হাজার টাকা, মধ্যম ৭-১২ হাজার টাকা এবং বড় সাইজের ছাগল বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ হাজার টাকায়।

লালপুর উপজেলা উপ-সহকারী প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম ক্রেতা না থাকা ও দাম কমের কথা স্বীকার করে জানান, এবছর খামারিরা তাদের পালনকৃত পশু বিক্রয় নিয়ে অনেকটা বিপদে রয়েছেন। করোনা ও অতিবৃষ্টির কারণে ক্রেতা কম, বাজারেও এবার গরুর দাম কম থাকায় খামারীদের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

আওয়ামীলীগ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুবিতে আনন্দ মিছিল

কুবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আনন্দ মিছিল করেছে …

error: Content is protected !!