নাটোরে ভুয়া পরিচয়ে বিজিবি সদস্যের দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নাটোরের লালপুরে স্ত্রী সন্তান রেখে নিজের ঠিকানা ও নাম পরিবর্তন করে বিজিবি সদস্যের দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর পূর্বে উপজেলার রহিমপুর গ্রামের এস,এম নুরুল ইসলামের ছেলে এস,এম তরিকুল ইসলাম (ল্যান্স নায়েক বিজিবি) এর সাথে একই উপজেলার দুড়দুড়ীয়া গ্রামের শিউলি খাতুনের পারিবারিক সূত্রে মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়েও রয়েছে।তবে গোপনে নাটোর সদর উপজেলার গুনারিপাড়ার হেকিম আলীর মেয়ে স্কুল শিক্ষকা মর্জিনা কে বিয়ে করে এবং গত ১০ জুলাই একতা ক্লিনিক নামে স্থানীয় এক বেসরকারি হাসপাতালে তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়।

এ বিষয়ে প্রথম স্ত্রী শিউলি খাতুন বলেন, আমি আমার স্বামীর বাড়ির পাশে একটি সরকারি প্রাইমারী স্কুলে চাকরি করতাম কিন্তু ২০১৯ সালের জানুয়ারীতে তরিকুল ইসলামে নির্দেশে তার বাবা, মা, তিন ভাই অমানুষিক নির্যাতন করে আমার ঘরে তালাবদ্ধ করে তাড়িয়ে দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। যার কারণে আমি বাবা বাড়ির নিকটস্থ স্কুলে বদলি নেয়। বর্তমানে আমার বাবার বাড়িতে থেকে শিক্ষকতা করি এবং এস,এম তরিকুল ইসলাম (ল্যান্স নায়েক,কার্ড নম্বর-৭৬৩১০) বিজিবি সেক্টর বান্দরবানে চাকুরি করেন।

এর আগে, প্রায় বছর কয়েক আগে লোকমুখে জানতে পারি যে তারিকুল নাটোর জেলার সদর উপজেলার ৫নং হরিশপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড গুনারী পাড়া গ্রামের মোঃ হেকিম আলীর মেয়ে মোসাঃ মর্জিনা খাতুনের সঙ্গে ভুল ঠিকানা দিয়ে ফের ২য় বিয়ে করেছে। বিষয়টি সঠিক ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করি। সে আমার ও সন্তানদের কোন খোঁজ খবর ও ভরণপোষণ না করায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি (মামলাটি বর্তমানে চলমান, মামলা নং- সিঅার-৩২১/১৯ লাল)। বিজিবি সেক্টর বান্দরবান কর্মকর্তাদের অবগত করলেও তারা কোন আইনগত সহযোগিতা করেন নি, শুধুমাত্র তরিকুলের একটি লিখিত জবানবন্দি নিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন। সেখানে তরিকুল ইসলাম বলেছেন আমি ২য় বিয়ে করি নাই।যদি দ্বিতীয় বিয়ে করে থাকি তবে শিউলি খাতুনের (১ম বউ) অভিযোগ মেনে নিবো।

এরই পেক্ষাপটে তরিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে প্রমাণ করার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে নিরুপায় হয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিষয়টি অবগত করলে সাংবাদিকরা বিষয়টি নজরে নিয়ে তরিকুল ইসলামের ২য় স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের বাবার বাড়িতে অনুসন্ধান করতে ঐ এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ওসমান গনিকে অবগত করলে তিনি স্থানীয় গ্রাম পুলিশ নিযুক্ত করে অনুসন্ধানের অনুমতি দেন।

পরে, গ্রাম পুলিশ সহ অনুসন্ধান করতে গিয়ে মর্জিনা খাতুনের ভাই আবির হোসেন জানান, বাবা (হেকিম আলী) বাড়িতেই নেই। মসজিদে মিটিংয়ে গেছে। তার পিতার নাম্বার চাইলে সে জানে না বলে জানায়৷ পরবর্তীতে স্থানীয় মসজিদে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় নি। মসজিদে তালা দেওয়া দেখা যায়।

পেশায় স্কুল শিক্ষকা মর্জিনা বেগমের সাথে কথা বলতে চাইলে তার ভাই বলেন, তিনি পর্দাশীল মহিলা আপনাদের সাথে কথা বলবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার বোনের বিয়ে হয়েছে নাটোরের সিংড়া উপজেলা সজিব নামে ব্যবসায়ীর সাথে। বর্তমানে তিনি ব্যবসার কাজে ঢাকা অবস্থান করছেন। তবে সজিব সম্পকে আর কোন তথ্য জানান নি তিনি।

এদিকে একতা ক্লিনিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১০ জুলাই মর্জিনা বেগমের একটি পুত্র সন্তান হয় এবং ভর্তি ফরমে মর্জিনা বেগমের পিতার নাম উল্লেখ ছিলো বলে জানায় হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মর্জিনার ভাই আবির বলেন ক্লিনিকে বাচ্চা হয়েছে এটা সঠিক, বাচ্চার বাবার নাম গোপন রাখা হয়েছে কেন জানতে চাইলে আর কিছুই বলতে পারবেন না বলে বাড়ির ভিতরে চলে যায়।

অপরদিকে, গ্রাম পুলিশ হাসানসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের বিজিবি সদস্য তরিকুল ইসলামের ছবি দেখালে এটাই হেকিম আলীর জামাই বলে স্বীকার করে বলেন, এই ছেলেই মর্জিনা ওরফে লাকীর স্বামী বলে আমরা দেখি, জানি এবং শুনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মহিলা জানান, আপনারা আজকে এসেছেন গত কাল এই ছেলের বাবা-মা নাতীর আকীকা অনুষ্ঠান করে গেল। কবে এসেছিল জানতে চাইলে বলেন মর্জিনার শ্বাশুড়ি বাচ্চা হওয়ার আগের দিন এসেছিল আর শ্বশুর আকীকার আগের দিন এসেছিল। আকীকা দিয়ে ঐ দিনই তারা চলে গেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

প্রধান শিক্ষক এখন গরু খামারের কেয়ারটেকার

তাসনীমুল হাসান মুবিন,স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহের ত্রিশালের আলহেরা একাডেমী এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক …

error: Content is protected !!