বৈদেশিক মুদ্রা

দেশের স্বর্ণসূত্র পাট হারিয়েছে তার প্রাচীন ঐতিহ্য

সজিবুল ইসলাম হৃদয়ঃ পাটকে বলা হয় সোনালী আঁশ। এর অর্থমূল্য বিবেচনা করেই একে সোনার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পাট মিশে আছে আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে। অতীতে পাটই ছিলো বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতি স্মারক। বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো পাট থেকে তৈরি পণ্য রপ্তানি করে।

বৃটিশ আমলে অবিভক্ত বাংলায় পাটের বর্ণময় উজ্জ্বল ও সোনালী অধ্যায় শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যুগের পরিবর্তনে পাটের দড়ি, বস্তা, চট, থলে/ব্যাগের স্থান দখল করে নিয়েছে বর্তমানে প্লাস্টিকের উৎপাদিত পন্য সামগ্রী। যার কারনেই দেশের স্বর্ণসূত্র সোনালী আঁশ হারিয়েছে তার প্রাচীন ঐতিহ্য।
অপর দিকে বছরের পর বছর দেশের পাটকলগুলোকে লোকসান গুনার কারণে পাটকলগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা হয়। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার পাটের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আছেন পাট চাষীরা। আর পাটের চাহিদা কমে গেলে পাটের দামও কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যা বাস্তবে রূপ নিলে লোকসানের মুখে পড়বে এসব চাষীরা।
তেমনি আসছে মৌসুমে পাটের ন্যায দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে নাটোরের লালপুর উপজেলার পাট চাষীরাও। তেমনি একজন লালপুর উপজেলার দুড়দুড়ীয়া ইউনিয়নের গন্ডবিল গ্রামের পাটচাষী আলতাব হোসেন গত কয়েক বছর ধরে অন্য ফসলের তুলনায় পাটের দাম ও চাহিদা ভালো থাকায় দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন তিনি।ফলনও হয়েছে ভালো।
তবে এবার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করায় ভালো দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় আছেন তিনি। কৃষি সরঞ্জামসহ কীটনাশক, ভিটামিন ও জৈব সারের দাম বেশি হওয়ায় পাট উৎপাদন খরচ বেশি।তার ওপর বৈশ্বিক মহামারি প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে পাটের দাম কেমন হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছেন মনিহারপুর এলাকার আরেক কৃষক আশরাফ আলী।
এছাড়া একাধিক পাটচাষী জানান, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা ক্ষেতে ফসল ফলান। বন্যা, খরা, অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আছেই, সাথে কীটনাশক, সার ও শ্রমিকের মজুরিসহ ইত্যাদির চড়া মূল্য। তবে এতসব সংকট মোকাবিলা করে ফসল ফলিয়েও কৃষকেরা যদি ফসল বিক্রি করে ভালো দাম না পায় তবে পাট চাষে আগ্রহ হারাবে বলে জানান তারা।
তবে লালপুর উপজেলার উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা দূর্জয় হোসেন জানান, উপজেলায় এবছর ১১,৬১০ একর জমিতে পাট চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১০,১০০.৭০। যা গত বছরের থেকে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে বলে জানান। এদিকে লেঃ কর্ণেল রমজান আলী সরকার (অবঃ) বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত সোনালী আঁশের প্রায় ৫১% পাটকলে ব্যাবহৃত হয়, ৪৪%কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি করা হয়, এবং বাকী ৫%পাট গৃহস্থালি ও কুটির শিল্পে ব্যাবহৃত হয়ে থাকে।
কিন্তু দেশে পাটকলগুলো লোকসানের কারণে বন্ধ থাকায় এ বছর পাটের দাম কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।যা প্রতিফলিত হলে আগামীতে পাট চাষ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এছাড়া দেশে পাট উৎপাদন কমে গেলে প্লাস্টিক বা পলিথিনের চাহিদা বেড়ে যাবে। যার বিরূপ প্রভাবে পরিবেশ নষ্ট হবে বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রবীন সাংবাদিক আব্দুর রশিদ মাষ্টার বলেন, কৃষি প্রধান বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট । তাই পাটকে স্বর্ণসূত্র বলা হত। পাট বা পাটজাত দ্রব্যের একসময় বিশ্ব বাজারে ব্যাপক চাহিদা ছিল।
পাট দিয়ে তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে পাটকে বাংলাদেশের স্বর্ণসূত্র বলা হতো যার কারণে পাটের সোনালী আঁশ দিয়ে তৈরি বস্তা, চট, দড়ি, ব্যাগ, বাহারি পাপোশ/পা দানি সহ রংপাটের-বেরঙের শাড়ি উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করে সিংহভাগ বৈদেশিক স্বর্ণমুদ্রা অর্জণ করা হতো। কালের বির্বতনে প্লাস্টিকের উৎপাদিত পণের ব্যাপক ব্যাবহারের ফলে পাটজাত পণ্যের চাহিদা হারিয়ে ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার করার কারণে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। তাই পাটজাত দ্রব্য ব্যবহারে আমরা সকলেই যদি উৎসাহিত হই এবং ব্যবহার বাড়াই তাহলে দেশের স্বর্ণ সূত্রপাঠ ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব সেইসাথে পাট পাতা পচে মাটি হয়ে উঠবে উর্বর। আর প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দ্রব্য মাটির উর্বরতা নষ্ট করবেনা আমরা ফিরে পাবো প্রাকৃতিক ভারসাম্যতা। আর বাংলাদেশের সোনালী আঁশ ফিরে পাবে তার প্রাচীন গৌরব ঐতিহ্য।
এছাড়াও এক সময়ের বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশী পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে মনে করেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা৷
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

হৃদয় এস সরকার,নরসিংদী প্রতিনিধিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ   ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী …