ঐতিহ্যের প্রাচীনতম

রঙিন ঘুড়িতে মেতেছে লালপুরের অাকাশ

মেহেরুল ইসলাম নাটোর (লালপুর) প্রতিনিধিঃ ঘুড়ি উড়ানো বাঙালি জাতির ঐতিহ্যের প্রাচীনতম শখ ও খেলা। অধিকাংশ গ্রামের ছেলেরা ছোটবেলা শখের বশে ঘুড়ি বা চং উড়িয়েছে। বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে যাওয়া পৃথিবীর জনজীবনে একটুুু হলেও সময় কাটানোর সুযোগ করে দিয়েছে ঘুড়ি।

শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র পর্যন্ত ঘুড়ি ওড়াচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে অনেকেই চাকুরী হারিয়ে শহরের যান্ত্রিক পরিবেশের কোলাহল ছেড়ে গ্রামে এসে বসবাস করছেন। এই পরিস্থিতিতে থমকে যাওয়া জনজীবনে স্বস্তি নিয়ে নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার আকাশে উড়ছে শতশত বাহারি রঙের ঘুড়ি। লাল, নীল, সাদা, কালো, হলুদ, খয়েরী ও গোলাপি এ যেন প্রকৃতির এক অবাক করা মনোরম দৃশ্য।

বিকাল হলেই লালপুর উপজেলার দুড়দুড়ীয়া, হালুয়া ডাঙা, কালুপাড়া, আট্টিকা, পাইকপাড়া, বসন্তপুর, জামতলা গ্রামে-গঞ্জে ,মাঠে-প্রান্তরে, চলছে ঘুড়ি ওড়ানোর এক অন্যরকম আয়োজন। হাতে লাটাই আকাশে ঘুড়ি দলবেঁধে লাইনে দাঁড়িয়ে চলছে ঘুড়ি উড়ানোর ধুম। কে কত উপরে উঠাতে পারে তার ঘুড়ি।

নাতি বায়না ধরেছে ঘুড়ি ওড়াবে নাতির আবদার মেটাতে দাদা দা হাতে করে চাঁচছেন বাঁশ আর দাদি খুঁজছেন রঙিন কাগজ। এ যেন গ্রাম বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের শোভিত এক রঙিন পরিবেশ। ছোট বড় লম্বা চিকন অনেক রকম নানা রঙের ও ঢংয়ের ঘুড়ি উড়ছে আকাশ জুড়ে। আবার কেউ কেউ ঘুড়ি ওড়ানোর টিম বানিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করছে মিসাইল ঘুড়ি ,কয়রা ঘুড়ি, চিলা ঘুুড়ি ,ঢোলক ঘুড়ি ,সাপা ঘুড়ি,কোয়াড়ে,ঢাউক,বক্স ঘুড়ি ইত্যাদ।আবার রাতের বেলায় ঘুড়ি গুলোতে লাইটিং করে চলেছে ঘুড়ি ওড়ানো ব্যাক্তিরা।ঘুড়ি ওড়ানোর এমন আয়োজনে লালপুর বাসী এখন বিমোহিত।

উপজেলার গন্ডবিল গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা আব্দুল গনি মন্ডল ও আরশাদ আলী বলেন, ঘুড়ি উড়ানো আমাদের একটি শখ,নীল আকাশে ঘুড়ি উড়াতে আমাদের অনেক ভালো লাগে।অত্র এলাকার অনেক কে এ বছর ঘুড়ি বানিয়ে দিয়েছি সেই ঘুড়িগুলো আকাশে উড়ছে তাতে আমাদের খুব আনন্দ লাগছে।

ঘুড়ি উড়ানোর এমন আয়োজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখে ভেল্লাবাড়ীয়া আব্দুল ওয়াহেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফতাব হোসেন বলেন, ঘুড়ি ওড়ানো বাঙালি ঐতিহ্যের আদি সভ্যতা ও নিদর্শন।বিশ্ব ব্যাপী প্রানঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সারাবিশ্ব থেমে গেছে মানুষ নিজ গণ্ডির মধ্যে বন্দী হয়ে আছে। বন্দীদশার জীবনকে টেনশন থেকে মুক্ত রাখার জন্য মানুষ মনের বিনোদনের জন্য ঘুড়ি উড়াচ্ছে। এরকম দৃশ্য আমি কখনো দেখিনি।এমন আয়োজনকে তিনি সাধুবাদ জানিয়ে আরও বলেন,যান্ত্রিক জীবনে করোনার টেনশনে মানুষ যখন ভীত-সন্ত্রস্ত ও আতংকিত , তখন ঘুড়ি ওড়ানোর এমন প্রয়াসকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি।

ঘুড়ি উড়ানোর এরকম দৃশ্য দেখে প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুর রশিদ মাষ্টার বলেন, ছোট বেলায় আমরা বিকেল হলেই ঘুড়ি উড়াতাম কিন্তু কালের বিবর্তনে কিছু দিন চোখে পড়ছিল না। তবে বর্তমানে মহামারী করোনাকালীন এমন সময়ে ঘুড়ি বানানো ও উড়ানোর আয়োজনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন,আমরা বাঙালী , ঘুড়ি উড়ানোর মধ্য দিয়ে আমাদের বাঙালির আদি ঐতিহ্য প্রকাশ পেয়েছে। এমন পরিস্থিতে ঘুড়ি উড়ানোর এই আয়োজন অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে মানুষের মনে। তাছাড়া বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যেও ব্যাপকভাবে সারা জাগিয়েছে ঘুড়ি ওড়ানোর এমন আয়োজন। বিষয়টিকে ইতিবাচক ভাবেই দেখছেন লালপুর উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণ এই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের হাতে দেশীয় অস্ত্রসহ তিন ডাকাত গ্রেপ্তার

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ত্রিশালে বিএনপির নবগঠিত  কমিটি বাতিলের দাবিতে  সংবাদ স‌ম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মন‌সিং‌হের ত্রিশা‌লে উপ‌জেলা বিএন‌টির নবগ‌ঠিত ক‌মি‌টি‌নি‌য়ে সংবাদ স‌ম্মেলন অনু‌ষ্ঠিত হয়ে‌ছে। র‌বিবার (২০ জুন) …

error: Content is protected !!