যুবককে পেটানোর

কেরানীগঞ্জে ইয়াবা ব্যবসায়ে রাজী না হওয়ায় যুবককে নির্মম ভাবে পিটানোর অভিযোগ

সানমুন আহমেদ, (কেরানীগঞ্জ) :কেরানীগঞ্জে ইয়াবা ব্যবসায়ে রাজি না হওয়ায় মো: লাবীব (৩৮) নামে এক যুবককে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন: মো: রানা(২৭), শুভাঢ্যা ৩ নং ইউপি মেম্বার মো: মুরাদ, মো: ইয়াসিন (৩০), মো: গাফফার (৪৫)। ঘটনাটি ঘটেছে ২২ জুন সোমবার রাতে চুনকুটিয়া চৌধুরী পাড়া এলাকার।

আহত লাবীব ও লাবীবের খালাতো ভাই মন্টি জানান, লাবীবের পিতার নাম মো: নাসির, তারা জিনজিরা নজরগঞ্জ এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে। লাবীব গত ৬ মাস ধরে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া চৌধুরী পাড়া এলাকায় ইউনিলিভার কোম্পানীর এস আর হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার মূল হোতা মো: রানা (২৭) ও একই কোম্পানীর এস আর হিসাবে দীর্ঘ দিন যাবৎ চাকরী করে আসছিলো। চাকরীর খাতিরেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরী হয়। গত ১৭ জুন রানা লাবীবকে বলে, আমরা যে কয় টাকা বেতন পাই তা দিয়ে কি হয়। আমি ইয়াবা ব্যবসা করছি তাতে ভালো লাভ হয়, আপন্ওি আমার সাথে যোগ দিন , ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন, আমার সাথে প্রশাসনের অনেকের সম্পর্ক আছে এছাড়া মুরাদ মেম্বার আমার বড়ো ভাই তাই ঝুকিও কম। এ কথা বলে রানা লাবীবকে ৭ দিনের সময় দেয় ভেবে দেখার।

এরপরে গত ২২ জুন সোমবার রাতে রানা লাবীবকে গুরুত্বপূর্ন কথা আছে বলে চুনকুটিয়া চৌধুরী পারা এলাকায় তার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। লাবীব রানার বাসায় গেলে রানা লাবীবকে জিঞ্জাস করে ইয়াবা ব্যবসায়ের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নিলেন। লাবীব অস্বীকৃতি জানালে রানা লাবীবকে ব্যবসা করানোর জন্য জোড় করে। লাবীব কিছুতেই রাজি হয় না এবং প্রশাসনকে সব বলে দিবে বলে জানায়। এতে রানা ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগী তার মামা আজাদ (৪০), গাফফার (৪৫), ল্যাংরা রাজিব (২২), ইয়াসিন (৩০)কে ডেকে আনে এবং লাবীবকে ব্যাপক মারধর করে।

লাবীব আরো বলে, এরপরে রানা শুভাঢ্যা তিন নং ইউপি মেম্বার মো: মুরাদকে কল দেয় এবং লাবীবকে বস্তায় ভরে মেরে ফেলার কথা বলে। মুরাদ মেম্বার রানা কে বাধা দেয় এবং সে ঘটনা স্থলে আসতেসে বলে জানায়। মুরাদ মেম্বার ঘটনা স্থলে আসলে লাবীবকে সবাই মিলে আবার মারধর করে এবং তার সহযোগীরা লাবীবের সাথে থাকা ৯ হাজার টাকা এবং ৪৫ হাজার টাকা দামের একটি স্যামসাং মোবাইল নিয়ে নেয়।

লাবীবের বাসায় ফিরতে দেড়ি দেখে ওর বাবা মো: নাসির লাবীবের মোবাইলে ফোন দেয় । রানা লাবীবের ফোন রিসিভ করে ওর বাবাকে রানার বাসায় আসতে বলে। লাবীবের বাবা ঘটনা স্থলে আসলে রানা ও তার লোকজন লাবীবের বাবার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা চাদা দাবী করে। লাবীবের বাবা তার সাথে থাকা ৪ হাজার টাকা তাদের দেয়। এর পরে একটি কাগজে আগামী ৫ দিনের মধ্যে বাকি ৩৬ হাজার টাকা লাবীবের বাবার দিতে হবে এমন স্বাক্ষ্যর রেখে লাবীবকে ছেড়ে দেয়।

এরপরে লাবীবকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করে লাবীবের বাবা।

পরদিন লাবীবের খালাতো ভাই মন্টি রানার কাছে ফোনের মাধ্যমে লাবীবের মোবাইল ফোনটি ফোনটি ফিরত চাইলে রানা বলে মুরাদ মেম্বারের অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোন ফেরত দেয়া যাবে না।

এ বিষয়ে মুরাদ মেম্বারের সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এর কিছুই জানি না। এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটে নি।

দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার এস আই সাক্রাতুল ইসলাম জানান, লাবীবের পক্ষ থেকে থানায় একটা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ঘটনাটির বিস্তারিত জানা যাবে।#

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,করোনা সংকট নিরসনে জবি ছাত্রলীগের ৫দফা দাবি

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বুড়িগঙ্গায় গোসল করতে নেমে শিশু নিখোঁজ ; একদিন পর লাশ উদ্ধর

বুড়িগঙ্গা নদীতে সুমন মিয়া নামের (০৯) বছরের এক শিশু গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়। পরদিন …

error: Content is protected !!