শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর জেনারেল জিয়াউর রহমান যে মন্তব্যটি করেছিলেন

শেখ মুজিবুর রহমান অন্যান্য দিনের মতো ১৯৭৫ সালের ১৪ই অগাস্ট রাত ৮টা নাগাদ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে ফেরেন।

রাত ১২টার মধ্যে খাওয়া দাওয়া সেরে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। শেখ মুজিবুর রহমান এর ব্যক্তিগত সহকারী এ এফ এম মুহিতুল ইসলাম সে বাড়ির নীচ তলায় একটি কক্ষে কর্মরত ছিলেন। তিনি ও ঘুমিয়ে যান রাত ৩ টা নাগাদ।

এর কিছুক্ষন পরেই বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আক্রমন হয়। বঙ্গবন্ধু লুঙ্গি আর গেঞ্জি পরে নিচ তলায় নেমে আসেন। রিসিভারটা নিয়ে তিনি হ্যালো বলার সাথে সাথে বৃষ্টির মতো গুলি আসা শুরু হলো। উনি গাড়ি বারান্দায় এসে বললেন, আর্মি সেন্ট্রি, পুলিশ সেন্ট্রি এতো গুলি চলছে তোমরা কি করো ?

এ গোলাগুলির সময় শেখ মুজিবুর রহমান সহ তাঁর বাড়ির কেউ ঘটনা সম্পর্কে আঁচ করতে পারেন নি।

মুহিতুল ইসলাম বলেছিলেন শেখ কামালকে যখন বাড়ির নিচ তলায় গুলি করে হত্যা করা হয় তখন ঘটনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল।

রাষ্ট্রপতির বাড়িতে যখন আক্রমণ হয় তখন হত্যাকারীরা পুরো বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল  কোন ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই ।

মুহিতুল ইসলাম বলছিলেন, সাধারনত একজন রাষ্ট্রপতির বাড়িতে যে ধরণের নিরাপত্তা থাকে  ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে তা ছিল না। তাছাড়া রাষ্ট্রপতির বাড়িতে আক্রমণের পরেও কোন ধরনের সহায়তা আসেনি।

সর্বপ্রথম শেখ কামল কে নিচ তলায় হত্যা করা হয়। তার পর হত্যাকারীরা উপরের দিকে উঠছিলো। নির্বিচারে হত্যাকান্ড শুরু হয় উপরে উঠেই। চারদিকে তখন শুধু গুলির শব্দ।

উপরে চলছিলো তান্ডব লীলা। বীভৎস একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ঠিক সেই  মুহুর্তে উপর থেকে  চিৎকার শুনা যায় পাইছি পাইছি। ্‌এর পরই বঙ্গবন্ধুর কন্ঠ শোনা যায় : তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাস ? এরপরে ব্রাশ ফায়ারের শব্দ। তার পরে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ   আর শুনতে পাইনি,” সে রাতের ঘটনা এভাবে বর্ণনা করেন মুহিতুল ইসলাম ।

শেখ মুজিবুর রহমান কে সপরিবারে হত্যার সাথে জড়িত ছিল সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা। আমিন আহমেদ চৌধুরী  সে সময় ঢাকা সেনানিবাসে লেফট্যানেন্ট কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন , পরে তিনি মেজর জেনারেল হয়েছিলেন। ২০১৩ সালে মারা যান তিনি

বিবিসি বাংলাকে দেয়া ২০১০ সালে এক সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট হত্যাকান্ডের সাথে জরিত মেজর রশিদের নেতৃত্বে একদল সেনা তার বাড়ি ঘিরে ফেলে।

রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে  হত্যা করা হয়েছে তখনো তা জানতেন না  আমিন আহমেদ চৌধুরী। সৈন্যরা আমিন আহমেদ চৌধুরী এবং তৎকালীন কর্নেল শাফায়াত জামিলকে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাড়িতে নিয়ে যায় । তখন  সেনাবাহিনীর উপ-প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল জিয়া ।

জিয়াউর রহমানের বাড়িতে ঢোকার সময় রেডিও তে আমিন চৌধুরী জানতে পারেন যে বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলা হয়েছে।

“জেনারেল জিয়া অর্ধেক সেভ করে স্লিপিং স্যুটে দৌড়ে আসলেন। শাফায়াতকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘শাফায়াত কী হয়েছে?’ শাফায়াত উত্তর দিলেন, ‘এপারেন্টলি দুই ব্যাটালিয়ন স্টেজ এ ক্যু। বাইরে কী হয়েছে এখনো আমরা কিছু জানি না। রেডিওতে এনাউন্সমেন্ট শুনতেছি প্রেসিডেন্ট মারা গেছেন।’ তখন জেনারেল জিয়া বললেন, সো হোয়াট? লেট ভাইস প্রেসিডেন্ট টেক ওভার। উই হ্যাভ নাথিং টু ডু ইউথ পলিটিক্স।

মাত্র ২টি ব্যাটালিয়ন এ অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত থাকলেও পুরো সেনাবাহিনী এটার পক্ষে ছিলো না বলে জানান আমিন চৌধুরী। এ অভ্যুত্থানের খবর  ঢাকা সেনানিবাসে যখন  ছড়িয়েছে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

আগে থেকে কেন এ অভ্যুত্থানের খবর জানা সম্ভব হয়নি এবং কেন সেনাবাহিনীর অন্য কোন ইউনিট এগিয়ে আসে নি সেটিও আজ বিরাট প্রশ্ন।

 

আরো পড়ুন: কেরানীগঞ্জ এর মানুষের ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই : শাহিন আহমেদ  

তথ্য সুত্র: বিবিসি বাংলা

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ত্রিশালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ৪ জনকে কারাদণ্ড!

রাকিবুল হাসান সুমন,ত্রিশাল ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :- ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!