কুপিয়ে জখম

কেরানীগঞ্জে আ’লীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম

কেরানীগঞ্জে তারানগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি মেম্বার দুলাল খানকে (৫৫) কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত রোববার সকাল ১১টার দিকে বড় মনোহরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুলাল খান সাংবাদিকদের জানান, তারানগরের বড় মনোহরিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির কাছে একটি দোকানের সামনে তিনি দাড়িয়ে ছিলেন। এসময় ঢকা জেলা আ,লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সিদ্দিকের নেতৃত্বে শিফাত, ফাহাদ, জাবেদ, শুক্কুর, মজিবুর সহ ১০/১২ জন সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে।

পরে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। দুলাল খান আরও জানান, আবু সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা রয়েছে। সে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু। বিভিন্ন সময় তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বাধাঁ দেয়ায়ার জের ধরে আবু সিদ্দিক তাকে কুপিয়ে জখম করেছে।

এ ব্যাপারে আবু সিদ্দিকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনস্থলে আমি ছিলাম না। ঘটনাস্থলের কাছে আমার ভগ্নিপতি আব্দুল হাই ছিল, লেবাররা তাকে দৌড়ানী দেয়। তবে মারামারি হয় নি।

সরেজমীন তারানগর ইউনিয়নে গিয়ে আবু সিদ্দিকের বিষয়ে খোজ নিয়ে জানা যায়,আবু সিদ্দিক ঢাকা জেলা আ,লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। একাধিকবার এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে বিতর্কিত হয়েছে সে।  এলাকায় গালকাটা সিদ্দিক নামেও পরিচিত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় আবু সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ২৫ টার উপরে মামলা থাকলেও অদৃশ্য এক শক্তির কারনে তার মামলাগুলোর কোন বিচার হয় না। পুলিশ তাকে কখোনো গ্রেপ্তার করে না। দিন দিন তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অনেকেই অতিষ্ঠ। তার ছেলের বিরুদ্ধেও অনেকের অভিযোগ রয়েছে। দিন দিন লাগামহীন ভাবে তাদের খারাপ কাজ বেড়েই চলেছে।

তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক জানান, আবু সিদ্দিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অনেক অভিযোগ আছে। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আমার উপর ও বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে সে। আমার বাড়িতে ভাংচুর চালিয়েছে। থানায় অভিযোগ জানানোর পরেও কোন এক অজানা কারনে তার বিচার হয় না। একজন চিহ্নিত অপরাধীর সঠিক বিচার হোক এটা এলাকাবাসী সবাই চায় । এভাবে যদি একজন অপরাধী বারবার অপরাধ করার পরেও ছাড় পেয়ে যায় তাহলে সমাজে অবক্ষয় বাড়বে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি শুনে তিনি হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছেন।তবে এব্যাপারে আবু সিদ্দিকের পক্ষে একটি অভিযোগ পেয়েছি দুলালের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ এখনো পাইনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। #

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,অব্যক্ত কিছু স্মৃতির অনূভূতিতে লুকায়িত এক ব্যক্তিত্ব “শাহীন আহমেদ”

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে বন্ধ হলো বাল্য বিবাহ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ৯৯৯ এ ফোনের মাধ্যেম পুলিশের হস্তক্ষেপে মাহি (১৩) নামে এক নাবালিকা মেয়ের বন্ধ …

error: Content is protected !!