বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ

সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান মোহাম্মদ নাসিমের সংক্ষিপ্ত জীবনী

মাসুদুল হাসান রিপন, সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ বঙ্গবন্ধুর সহচর্যে থেকে তার পাশে দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে রাজনীতি করেছেন বাবা মনসুর আলী। বাবার মতোই বঙ্গবন্ধু পরিবারের পাশে থেকে দেশ ও দলের জন্য আজীবন রাজনীতি করে গেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ নাসিম।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল হওয়ার কারণে কারাগারে ঘাতকের বুলেটে প্রাণ দিতে হয়েছিল বাবা মনসুর আলীর। এরপর বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে রাজনীতি করেছেন নাসিমও।

মোহাম্মদ নাসিম জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জে কাজিপুরে। মোহাম্মদ নাসিম ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রাজনীতির মাঠে রেখেছেন বাবার মতোই সাহসী ভূমিকা। ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। বিভিন্ন আন্দোলনে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পিতার মতো তিনিও দেশের রাজনীতিতে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। ছাত্রজীবন থেকে গণমানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন মোহাম্মদ নাসিম।

ছাত্ররাজনীতি ছাড়ার পরে যুবলীগের রাজনীতি করলেও ১৯৮১ সালের আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মোহাম্মদ নাসিম। ওই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের যুব সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৭ সালের সম্মেলনে তিনি দলের প্রচার সম্পাদক মনোনীত হন।

২০০২ সালের সম্মেলনের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ছিলো একটি। আর ওই সম্মেলনে বিভাগওয়ারী সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেয়া হয়। এর আগে ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিমকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব পালনে তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন।

পরে ২০০২ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দলের সম্মেলনে তাকে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য পদে রাখা হয়। এরপর ২০১২ সালের সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরপর টানা তিন মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন।১৯৮৬ সালে তিনি প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। সিরাজগঞ্জ- ১ সংসদীয় আসন (কাজীপুর) থেকে পাঁচবার বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে তাকে স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়।

২০১৪ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ১/১১ সরকারের দেয়া মামলার কারণে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ওই নির্বাচনে তার সন্তান তানভীর শাকিল জয়কে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদ নাসিমকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। বিজয়ী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। রাজনৈতিক দুরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার কারণে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আস্থাভাজন।

মোহাম্মদ নাসিম গত ১ জুন শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাংলাদেশ স্পেশালাজড হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনাভাইরাস টেস্টে তার ফলাফল পজিটিভ আসে। পরে গত শুক্রবার (৫জুন) ভোরে তিনি ব্রেন স্ট্রোক করেন। এদিনেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. রাজিউল হকের নেতৃত্বে অপারেশন হয়। তার চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডাক্তার কনক কান্তি বড়ুয়ার নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।তার সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ শনিবার সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পারি জমায় এই বর্ষীয়ান নেতা।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,রমজানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

আওয়ামীলীগ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুবিতে আনন্দ মিছিল

কুবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আনন্দ মিছিল করেছে …

error: Content is protected !!