কেরানীগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক দুরুত্ব কিছুই মানা হচ্ছে না !

জীবন ও জীবিকার তাগিদে সরকার গত ৩১ মে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব কিছু খুলে দিয়েছে। সারা দেশের ন্যায় কেরানীগঞ্জেও খোলা হয়েছে মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গন পরিবহন। তবে সরকারের দেয়া বিধি নিষেধ ও শর্ত মানা হচ্ছে না।  কেরানীগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক দুরু্ত কিছুই মানা হচ্ছে না। তাই এ পর্যন্ত ৫০০ ছাড়িয়েছে কেরানীগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিনই কেরানীগঞ্জে বাড়ছে করোনা রোগি।

সরেজমিন কেরানীগঞ্জের জিনজিরা, কদমতলী, আটি, রামেরকান্দা, শুভাঢ্যাসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কে বিপুল সংখ্যক সিএনজি, অটোরিক্সা, রিক্সা চলাচল করছে। অধিকাংশের মুখেই মাস্ক নেই। রাস্তা-ঘাটে একসাথে জটলা করে থাকে সবাই।  সিএনজি গুলোতেও আগের মতো ৫ জন যাত্রীই গাদাগাদি করে উঠানো হচ্ছে। রাস্তাঘাটে যানবাহনের ভীড় বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি। কেরানীগঞ্জের কম বেশি সব এলাকাতেই এমন চিত্র । কোথাও মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরুত্ব।

কেরানীগঞ্জের অলিতে গলিতেও এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দোকানে দোকানে ভীড় করছে মানুষ। পাশাপাশি অনেকেই গা ঘেষাঘেষি করে দাড়িয়ে থাকছে। গলির মোড়ে মোড়ে জড়ো হয়ে আড্ডা দিচ্ছে অনেকে এদের অধিকাংশের মাস্ক নেই। কেরানীগঞ্জের জনসাধারনের চিত্র দেখে বোঝা মুসকিল দেশে করোনাভাইরাস নামে ভয়াবহ সংক্রমণ ব্যাধি হানা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেরানীগঞ্জে ভাসমান জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারনে এমনিতেই ঝুকিপূর্ন এড়িয়া। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই কেরানীগঞ্জকে করোনার হটস্পট হিসাবে ঘোষনা করেছেন।  সব কিছু খুলে দেয়ার পরে কেরানীগঞ্জবাসীর এই অসতর্কতা কেরানীগঞ্জকে আরো ঝুকিপূর্ন করে তুলবে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামনের দিনগুলোতে কেরানীগঞ্জের করোনা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, আমাদের দুই এসিল্যান্ড করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন আছে, তাই ডিসি অফিস থেকে একজন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেয়া হয়েছে আমাদের। যারা স্বাস্থ্য বিধি মানছে না তাদের কে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ,সেনাবাহিনী টহল অব্যহত রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো যখন ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ টহল থাকে তখন সবাই যতটুকু সম্ভব স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলে ।

কিন্তু তারা চলে গেলেই আবার আগের মতো অসচেতন হয়ে যায়  । সাধারন জনগন চোর পুলিশ খেলছে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিধি না মানাতে তারা নিজেদের ই বিপদে ফেলে দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু সবার আগে প্রতিটি জনগনকে নিজ থেকে সচেতন হতে হবে। একমাত্র ব্যাক্তি সচেতনতাই পারে আমাদের করোনার হাত থেকে রক্ষা করতে। এই সময়টা যদি জনসাধারন স্বাস্থ্যবিধি না মানে আগামী দিনগুলো আমাদের জন্য আরো ভয়াবহ হবে। তাই সবাইকে অনুরোধ করছি অবশ্যই মাস্ক পরুন, সামাজিক দুরুত্ব মেনে চলুন।#

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে জিনজিরা

জিনজিরা ঘাটে ট্রলারের ভাড়া বাড়লেও কমে নি যাত্রী সংখ্যা ; করোনা ঝুকিসহ ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঢাকার কেরানীগঞ্জে জিনজিরা ইউনিয়নের কয়েকটি ঘাট থেকে ট্রলারে করে প্রতিদিন কয়েক হাজার লোক বুড়িগঙ্গা নদী …