ব্যবহারের প্রচলন

হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের ঝুড়ি, কর্মহীন কারিগররা

সজিবুল ইসলাম হৃদয় ও মেহেরুল ইসলাম, নাটোরঃ এক সময় অাম, লিচুসহ নিত্য দিনের প্রয়োজনীয় নানান সামগ্রী বাজারজাত করণের জন্য বাঁশের ঝুড়ি ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় বিলুপ্তির পথে। যা কালের বিবর্তনে আধুনিকায়ন নির্ভর সভ্যতার যুগে তা হারিয়ে যেতে বসেছে। এসব ঝুড়ির পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে প্লাস্টিকের ক্যারট।

পরিবেশ বান্ধব বাঁশ দিয়ে তৈরি ঝুড়িতে অাম লিচুসহ নিত্য দিনের প্রয়োজনীয় নানান সামগ্রী প্রক্রিয়াজাত করণে বহুল ব্যবহার ছিলো যার ফলে এর কদরও ছিলো ভালো। সাথে জড়িয়ে ছিলো হাজারো পরিবারের জীবিকা। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিকের ক্যারটের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় তাদের ব্যবসায় ধস নেমেছে। ফলে কদর হারিয়েছে এসব ঝুড়ি তৈরির কারিগররাও।

প্রতিবছর জৈষ্ঠ্যতে আম ও লিচুকে কেন্দ্র করে বাঁশের তৈরি ঝুড়ির চাহিদা থাকে প্রচুর। ফলে এই সময়টায় ব্যস্ত সময় পার করতেন নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়ীয়া ইউনিয়নের কারিগরপাড়ার ঝুড়ি তৈরির কারিগররা। তবে এ বছর ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে এই এলাকায়। বিশ্ব ব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস এবং ঝুড়ির পরিবর্তে ক্যারটের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ার কারণে চাহিদা নেই এসব পণ্যের। ফলে কর্মহীন হয়ে অবসর সময় পার করছেন এসব কারিগররা।

মঙ্গলবার (২ জুন) গ্রামটি ঘুরে দেখা যায়, যেখানে প্রতিবছর আম্রকাননে বসে দল বেধে প্রতিযোগিতা করে কাঁচা বাসের চটা দিয়ে ঝুড়ি তৈরি করতো, সেখানে আজ হাত গুটিয়ে কর্মহীন হয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছে সেই কারিগররা।

ঝুড়ি তৈরির কারিগর একরামুল হোসেন বলেন, পুরাতন ঐতিহ্য ধরে রেখে বহু দিন ধরে আমাদের গ্রামে আম ও লিচুর ঝুড়ি উৎপাদন করে করে অনন্য স্বল্প আয়ের পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ সাংসারিক কাজে অর্থের যোগান দেওয়া হতো। আবার কারো কারো ঝুড়ি উৎপাদন-ই জীবিকা নির্বাহ করার একমাত্র উপায়। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রতিজন দিনে ৫০ থেকে ৬০ টি ঝুড়ি উৎপাদন করতে পারতাম কিন্তু করোনার কারণে এবং ক্যারট ব্যাবহারের ফলে অর্ডার না থাকায় এ বছরে বেকার হয়ে হাত গুটিয়ে বসে আছি।

ঝুড়ি তৈরির অারেক কারিগর জুয়েল জানান, অাগে ঝুড়ি তৈরি করে প্রতিবছরে ৭০-৮০ হাজার টাকা আয় করতেন।বর্তমানে এই বাঁশের ঝুড়িগুলো তৈরি করতে অনেক খরচ হয়। সেই হিসেবে এখন টাকা পাওয়া যায় না। তারপরও পুরনো পেশা তাই কোন রকম ভাবে বেঁচে আছি। এছাড়া এসব পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে বেহাল দশায় জীবন যাপন করছেন বলে জানান তিনি।

এমতাবস্থায়, এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তারা। এছাড়া অাধুনিকায়নের ছোঁয়ায় পরিবেশ বান্ধব বাঁশে ঝুড়ি যেন হারিয়ে না যায়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে ও কর্মক্ষেত্র বৃদ্ধিতে প্লাস্টিকের ক্যারটের পরিবর্তে বাঁশের ঝুড়ি ব্যবহারে উদ্ভুদকরণের তাগিদ সুশীল সমাজের।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,কেরানীগঞ্জে লকডাউনে প্রাণ ফিরে পেয়েছে চড়াইল খেলার মাঠ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

রাজবাড়ীর লক্ষিকোল এলাকায় কাঠমিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যা

রাজবাড়ী জেলা শহরের লক্ষিকোল এলাকায় মোঃ তুহিন শেখ নামে এক কাঠ মিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে …