প্রচারবিমুখ এক এমপি !

বিশ্বব্যাপী এক আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)। আর এর নাম শুনলে যে কেউ ভয়ে ভীত হয়। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাংলাদেশেও বেড়ে চলছে। জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাওয়া করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কোনো ভাবেই থামানো যাচ্ছে না। এই মরনব্যাধী করোনা ভাইরাসে দেশে এখন লাখো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ঠিক এমন সময়ে দেশের বহু বিত্তবানরা হাত গুটিয়ে বসে রয়েছেন। অনেক এমপি মন্ত্রীদের দেখা না গেলেও কিছু মানুষ তাদের সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ঠিকই।

সহযোগিতা করলেও নেই তেমন কোন প্রচারণা। নেই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে ছবি। শুধুই নিরবে করে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষদের সহযোগিতা। করোনা ভাইরাস পজেটিভ রোগীদের চিকিৎসা সেবা, থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে এমন কোনো সহযোগিতা নেই যা করছেন না। এমনকি নিজ অর্থায়নে অসহায় কর্মহীন মানুষদের খাদ্য দিয়ে সহযোগিতাও করে যাচ্ছেন।

সেই প্রচারবিমুখ এমপি আর কেউ নন, তিনি হলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এমপি। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হওয়ার পর যেন চিন্তায় পড়ে যান এমপি রিমি। কিভাবে নিজ এলাকা করোনা মুক্ত রাখবেন। তবে গত ১০ এপ্রিল ঠিকই কাপাসিয়ায় করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয় একজনের। কাপাসিয়া উপজেলার দস্যুনারায়নপুর এলাকার ছোঁয়া এগ্রো লিমিটেড কারখানার ওই শ্রমিক শনাক্ত হওয়ার পর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। একে একে আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে পৌঁছায় ৭০ জনে।

আর ওই সময় ঠিক ঠিক সিদ্ধান্ত নেন তাজউদ্দীন কন্যা রিমি এমপি। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, থানার ওসি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে করোনা ভাইরাস থেকে কাপাসিয়া মুক্ত করতে নেন নানা উদ্যোগ। সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ ও একটি বেসরকারি হাসপাতালকে করোনা আইসলোশন সেন্টারে রূপান্তরিত করেন।

এতেই শেষ নয়, আইসলোশনে থাকা রোগীদের চিকিৎসায় ওষুধ, খাবার সরবরাহসহ সকল কিছুর ব্যবস্থা নেন এমপি। এমনকি করোনা ভাইরাস পজেটিভ রোগীদের সাথে ফোনে কথা বলে সাহসও জুগিয়েছেন। শুধু করোনা রোগীদের সহযোগিতা করেছেন তা নয়, উপজেলার ১১ ইউনিয়নের কোথাও কোনো দরিদ্র মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নিয়েছেন। প্রয়োজনে গাজীপুর বা ঢাকা হাসপাতালে ভর্তি করায়ে চিকিৎসা দেয়ার যাবতীয় খরচ বহন করেছেন এমপি রিমি। আর উনার তৎপরতায় কাপাসিয়ায় করোনা আক্রান্ত ৭০ জনের মধ্যে (একজনের মৃত্যু হয়) ৬৯ জনই সুস্থ হয়ে উঠেন।

যদিও এখন আবার নতুন করে লকডাউন তুলে নেয়ার পর কয়েক জন আক্রান্ত হয়। এমপি রিমির তৎপরতায় ইতোমধ্যে কাপাসিয়া উপজেলাকে শতভাগ গর্ভকালীন মার্তৃমৃত্যু মুক্ত করা হয়েছে। এমনকি ঢাকা বিভাগে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা সেবায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এসব সম্ভব হয়েছে একমাত্র এমপি রিমির সাহায্য সহযোগিতায়।

কাপাসিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সালাম সরকার নিজে প্রায় সময় বলেন সিমিন হোসেন রিমি এমপির সহযোগিতায় আজ কাপাসিয়া চিকিৎসা সেবায় এক নম্বর। এদিকে করোনা থেকে বাঁচতে কাপাসিয়া উপজেলা লকডাউন করে দেয়ার পরও আক্রান্ত বেড়ে যাওয়ায় একে একে উপজেলার সকল হাট-বাজার বন্ধ করে দেয়া হয়।

এমনকি উপজেলায় প্রবেশ সকল পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। এপ্রিলের শেষের দিকে এ উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা একেবারেই শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। অপরদিকে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা: ইসমত আরা এমপির পরামর্শে এই করোনাকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বিভিন্ন সময় আলাপকালে সিমিন হোসেন রিমি এমপি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে নয়, একজন মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। আর এই বোধ থেকেই আমি কাপাসিয়া উপজেলার মানুষের কাজ করে যাচ্ছি এবং যাবো। কাপাসিয়ায় যখনই করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। তখন থেকেই উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নার্স স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ প্রসাশনকে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করতে জোর দেই।

তিনি বলেন, প্রতিদিন খোঁজ-খবর নেয়ার পাশাপাশি কিভাবে আক্রান্তদের সুস্থ করে তোলা যায় এবং আক্রান্ত যেন আর না হয় সে ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে থাকি। তাজউদ্দীন কন্যা রিমি বলেন, মানুষকে দেখিয়ে লোকদেখানো দান করার কোনো কারণ নেই। আমার বাবা ও মা আমৃত্যু এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। আমি ও আমার পরিবারের অন্যরা মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।

আমি কাপাসিয়ার মানুষদের কাছ থেকে কখনো কিছু নিতে আসিনি, দিতে এসেছি। এদিকে এমপি রিমির নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে ৩ হাজার অসহায় ও দুস্থ পরিবারকে ঈদের সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। এ ছাড়া করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার পরিবারকে কয়েক ধাপে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। যা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে করা হয়।

উল্লেখ্য রিমি এমপির বাবা দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েন শত্রুর সামনে। দেশকে পরাধীন মুক্ত করতে সকল চেষ্টা করেছেন। নির্লোভ তাজউদ্দীন আহমদ বঙ্গবন্ধুর একান্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ১৫ আগষ্টের পর দেশের ক্ষমতার অফার পেয়েও নেননি। আর এ কারনে জেলখানায় নির্মমভাবে মরতে হলো বঙ্গতাজকে। অপরদিকে রিমির মা আওয়ামী লীগের দুই: সময়ে হাল ধরেন। হন আওয়ামী লীগের কান্ডারি। কখনও ক্ষমতার লোভ কাজ করেনি আমৃত্যু আওয়ামী লীগের কান্ডারি সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের। এ তো গেলো বাবা মার কথা। একমাত্র ভাই সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ মন্ত্রীত্ব ও এমপি পদ ছেড়ে দেন। এই পরিবারের সদস্যরা সব সময় মানুষের কাজ করে যেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

 

লেখক: শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ্

(সিনিয়র সাংবাদিক)।

e-mail: sazinnah@gmail.com

whatsApp: +88 01712200533

fb/ Sheikh Safiuddin Zinnah

 

নিউজ ঢাকা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু

নোয়াখালীতে মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এক মাসের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নোয়াখালী সোনাইমুড়ীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আতাউর রহমান ভূঁইয়া স্কুল এন্ড …