নির্জন,নীরব ও নিস্তব্ধ জবি ক্যাম্পাস

করোনার বিষাক্ত ছোবলে নিস্তব্ধতায় ঢেকে গেছে পুরান ঢাকার অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।এখন ক্যাম্পাসে দেখা যায়  না হাজারো মেধাবীর সেই প্রাণোচ্ছল ছুটে চলা।সারাদিন যে ক্যাম্পাসে ছিল শিক্ষক,শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা, কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত বিচরণ সেই ক্যাম্পাসই প্রায় ২মাস ধরে পড়ে আছে নিথরভাবে।

প্রতিবছর রমজান মাসে বিভিন্ন সংগঠনের ইফতার মাহফিলে বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠত জবি। কিন্তু রমজান মাস প্রায় শেষের পথে থাকলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য এবার আর জবি মেতে উঠতে পারেনি চিরচেনা সেই ইফতার মাহফিল নিয়ে।

১০ একরের জবির সকালটা শুরু হত এক ঝাঁক উদ্দীপ্ত মেধাবীর কোলাহলের মধ্য দিয়ে।যারা নিজেদের স্বপ্ন পূরণে আপন করে নিয়েছে জবির প্রতিটি ইট পাথরের গলিকেও। দিনব্যাপী শান্ত চত্বরের রসালো আড্ডা, ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে সকলের জড়ো হয়ে গ্রুপ ছবি তোলা কিংবা লাল বাসের ভেতর বসে সম্মিলিত সুরে গান গাওয়া কোনটাই এখন আর হয়না। দৌঁড়ে ক্লাস ধরা কিংবা অফ পিরিয়ডে সেমিনারে বসে পড়াশোনা আর খোশগল্পে মেতে উঠার কোন দৃশ্য এখন আর চোখেও পড়েনা।

নেই প্রেজেন্টেশন,এসাইনমেন্ট বা মিডের কোন বাড়তি চাপ।ক্যান্টিনের খিচুড়ি খাওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষাও করেনা কেউ৷ দিনশেষে ভার্সিটির বাসে করে নিজ নিজ গন্তব্যে যাওয়ার কোন তাড়াও দেখা যায়না। দেখা যায়না লালবাসের পেছনের গেইটে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে একসুরে গান গাইতেও। ক্যাম্পাস রয়ে গেছে ঠিক আগের মত।শুধু পরিস্থিতি ও সময়টাই পরিবর্তন হয়ে গেছে।

শিক্ষার্থীরাও মিস করছে জবির সেই কোলাহলপূর্ণ মুহূর্তগুলো। ছুটে যেতে চাইছে প্রিয় সেই ক্যাম্পাসে।কিন্তু করোনা ভাইরাস যেন শিক্ষার্থী ও তাদের প্রাণপ্রিয় বিদ্যাপীঠের মাঝে এক বিস্তৃত দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা দ্রুতই সেই দেয়াল গুড়িয়ে দিয়ে আবারও জবিকে করে তুলবে প্রাণোচ্ছল। জবির সকল নির্জনতা ও নিস্তব্ধতা ঢেকে দিবে চিরতরে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ছোট ক্যাম্পাসের জবি মানেই আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। প্রতিদিন ক্যাম্পাসে চিরচেনা মুখগুলো চোখের সামনে পড়ত। ক্লাস শেষ করে শান্ত চত্বরে একসাথে সবাই মিলে আড্ডা দেওয়ার মুহূর্তটা সত্যিই অসাধারণ ছিল।ক্যাম্পাসে আসা,ক্লাস করা, আড্ডা দেওয়া,দিনশেষে লালবাসের পেছনের দরজায় দাঁড়িয়ে গান গাইতে গাইতে বাসায় যাওয়ার মুহূর্তগুলো খুব মনে পড়ছে।আমরা আশা করি জবি শীঘ্রই আবারও আগের মতই প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠবে।

শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট এর শিক্ষার্থী ফাহাদ হোসেন বলেন,ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে এটাই সবচেয়ে বড় ছুটি। ছুটি বললেও ভুল হবে।মনে হচ্ছে জোর করে আটকে রাখা হচ্ছে।প্রাণের ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য সেই সকাল ৬ টায় আর লাল বাসটা অপেক্ষা করে না।বন্ধুদের সাথে মিলে ভাঙ্গা গলায় গান পাওয়া হয় না কতদিন!সবই যেনো ভার্চুয়াল জগতে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে।মহান সৃষ্টি কর্তার কাছে একটাই অনুরোধ মুক্ত করুন।প্রানের ক্যাম্পাসে যেয়ে আবার প্রাণ খুলে হাসতে চাই

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

৮জুন খুলছে জবি, বন্ধ থাকবে ক্লাস-পরীক্ষা

 মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।আগামী ৮ জুন …

error: Content is protected !!