ত্রান বিতরণ

প্রধানমন্ত্রীর ত্রান বিতরণ করলো জামাত-শিবিরের কর্মী, আওয়ামীলীগ নেতাদের ক্ষোভ

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি:‌ গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত ত্রান বিতরণ করলেন জামায়াত শিবিরের কর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় না করে বিতর্কিত জামাত-শিবিরের কর্মীদের মাধ্যমে ত্রান বিতরণ করা হয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত শনিবার নগরীর ৪৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসে জামাত-শিবির কর্মী কতৃক এই ত্রান বিতরণ করা হয়।

জানা যায়, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ, গরিব, অসহায় ও দিনমজুরদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে ত্রান বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই ত্রানসামগ্রী সঠিক বন্টনের জন্য নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ত্রান কমিটি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ৪৭ নং ওয়ার্ডে ত্রান বিতরণে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোন সমন্বয় না করে বিতর্কিত জামাত-শিবিরের কর্মীর মাধ্যমে ত্রান বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ত্রান বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম ও লুকোচুরির অভিযোগও তোলা হয়েছে। উপেক্ষিত করা হয়েছে স্থানীয় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাদেক আলি। তার অনুপস্থিতিতে ওয়ার্ড সচিব ও কাউন্সিলরের পরিবারের লোকজন ত্রান বিতরণ কাজ করছেন। ওয়ার্ডে ১৫০০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী, পাঁচশ রেশন কার্ড ও সাতশো পরিবারের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়মঅনুযায়ী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত ত্রান কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে এসব ত্রান বিতরণের কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত শনিবার কাউন্সিলর কার্যালয়ে বেশ কয়েকটি অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রান সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর ওই ত্রান তুলে দেন স্থানীয় জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জামায়াতের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত রবিউল্লাহ খান ও শিবির কর্মী শাহ আলম পাটোয়ারী রিগান। রবিউল্লাহ খানকে জামায়াতের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকারি দলের নেতাকর্মীরা৷ অন্যদিকে শিবির কর্মী শাহ আলম পাটোয়ারী রিগানের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদির মুক্তি দাবি, বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সরকার বিরোধী বিভিন্ন তীর্যক মন্তব্য পোস্ট করা হয়েছে যা এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, রবিউল্লাহ খান এক সময় জামায়তের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এখনও তিনি ওয়ার্ডে জামায়াতের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত। জামায়াত নিষিদ্ধ হওয়ায় খোলস পাল্টে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন, তবে আওয়ামী লীগে তার কোন পদ নেই। অপরদিকে, রবিউল্লাহ খানের বড় ভাই নুর-ই মোস্তফা খান ৪৭নং ওয়ার্ড বিএনপির বর্তমান সভাপতি। মেঝো ভাই সাইফুল ইসলাম খান জাতীয় ছাত্রসমাজের সাবেক নেতা এবং আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার পলাতক আসামী নুরুল ইসলাম দিপুর ‘ক্যাডার বাহিনীর’ সদস্য। ১৯৯৯ সালে টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাইফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে মামলা হলে তিনি ইতালি পালিয়ে যান।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে রবিউল্লাহ খানের জামায়ত সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া রয়েছে। প্রতিবেদনে জামায়াতের ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘ডোনার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে রবিউল্লাহ খানকে।

এসব বিষয়ে ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক মনির হোসেন সাগর জানান, যারা কখনও জয় বাংলার স্লোগান দেয়নি, আওয়ামী লীগের জন্য একটা মিছিল করেনি তাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান বিতরণ করা হচ্ছে। ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক হিসেবে গরীবের জন্য আমাকে মাত্র একটি রেশন কার্ড বরাদ্ধ দিয়েছে কাউন্সিলর। অথচ বিএনপি ও জামাত-শিবিরের লোকজন ২৫-৩০ টি রেশন কার্ড পাচ্ছে। জামায়তের লোকজন প্রধানমন্ত্রীর ত্রান বিতরণ করছে এর চেয়ে বড় লজ্জা আমাদের জন্য আর কি হতে পারে?

৪৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ বলেন, ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান এবং নগদ সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে অথচ আমরা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কেউই জানি না। কে ত্রান দিচ্ছে, কারা ত্রান পাচ্ছে, কি পরিমানে ত্রান দেওয়া হচ্ছে কোন ধরনের তথ্য আমাদেরকে জানানো হয়না। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোন ধরনের সমন্বয় ছাড়াই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের দিয়ে ত্রান বিতরণ করা হচ্ছে। ত্রান বিতরণে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রান বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সচিব তারিফুল ইসলাম রুবেল বলেন, ত্রান বিতরণে কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ সহযোগী সংগঠনের সকলের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর ত্রান বিতরণ করছে এমন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, রিগান শিবির কর্মী কিনা আমার জানা নাই। রবিউল্লাহ খানের বড় দুই ভাই বিএনপি-জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে রবিউল্লাহ খান বিগত চার-পাঁচ বছর যাবত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন।

জামায়ত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে রবিউল্লাহ খান বলেন, আমি আওয়ামী লীগের কোন পদ চাইনি। তাহলে অনুপ্রবেশকারী হলাম কিভাবে? আমি আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানবিক কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ আমার কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে এসব ষড়যন্ত্রমূলক বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
###

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,কেরানীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

প্রধান শিক্ষক এখন গরু খামারের কেয়ারটেকার

তাসনীমুল হাসান মুবিন,স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহের ত্রিশালের আলহেরা একাডেমী এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক …

error: Content is protected !!