দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কায় এস এ টিভির সাংবাদিক সজল ভূ্ঁইয়া

নরসিংদীর রায়পুরায় ইউপি চেয়ারম্যানের হামলার শিকার এস এ টিভির জেলা প্রতিনিধি সজল ভূঁইয়ার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি বর্মতানে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের ৪২৭ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সজল ভূঁইয়া জানান, ‘আমার নাক, মুখ,চোখ ,বুক এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চেয়ারম্যান ও তার সন্ত্রসীরা পিটিয়ে জখম করেছে। ঐ সময়ই আমার চোখের আঘাত লাগে। এখন বাম চোখ দিয়ে সবকিছু ঝাপসা দেখি আমি। স্পষ্টভাবে বাম চোখটি দিয়ে কিছুই দেখতে পারিনা। চোখের দৃষ্টিশক্তি কি এই ভাবেই চলে যাবে! না ফিরে পাবো তাও জানি না। হাসপালের বেডে শুয়ে শরীরের কি যে যন্ত্রণার মধ্যদিয়ে আমার দিনগুলো কাটছে তা একমাত্র আমিই জানি।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক শুভনা আলম জানান, ওনার চোখে আঘাত পাওয়ার কারণে ঝাপসা দেখছেন। বাম চোখটি নিয়ে ঝুঁকি আছে।কিন্তু আমাদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। আশা করি ওনার আঘাতপ্রাপ্ত চোখ ভালো হয়ে উঠবে।

গত ২৭ এপ্রিল নরসিংদী সদর হাসপাতালে আহত সাংবাদিক সজল ভূঁইয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার চোখে সমস্যা দেখা দিলে গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সাংবাদিক সজল ভূইয়া জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) নরসিংদীর রায়পুরা আমিরগঞ্জে ১০ টাকা কেজি সরকারি চালচুরির বিষয়ে এশিয়ান টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার বাতেন বিপ্লবকে সাথে নিয়ে অনুসন্ধানী নিউজ করতে গেলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খানের নেতৃত্বে তার তার সন্ত্রাসী বাহিনী এস এ টিভির জেলা প্রতিনিধি সজল ভূঁইয়াকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এই ঘটনায় (২৭ এপ্রিল) সোমবার আহত সাংবাদিক নিজে বাদী হয়ে চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খান, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ ২০ জনকে আসামী করে রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করেন।কিন্তু মামলা দায়ের করার ১১দিন অতিক্রান্ত হবার পরেও আটক হয়নি অভিযুক্ত প্রদান আসামী ইউপি চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন।

এই বিষয়ে বুধবার (৬ মে) রাতে মুঠোফোনে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির নিউজ ঢাকাকে জানান, সাংবাদিক সজল ভূঁইয়ার দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত আমার দুই জনকে গ্রেফতার করতে পেরেছি। চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগের অন্যান্য অভিযুক্তরা এলাকায় নেই, তারা পলাতক রয়েছে। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ত্রিশালে বিএনপির নবগঠিত  কমিটি বাতিলের দাবিতে  সংবাদ স‌ম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মন‌সিং‌হের ত্রিশা‌লে উপ‌জেলা বিএন‌টির নবগ‌ঠিত ক‌মি‌টি‌নি‌য়ে সংবাদ স‌ম্মেলন অনু‌ষ্ঠিত হয়ে‌ছে। র‌বিবার (২০ জুন) …

error: Content is protected !!