করোনায় চিত্ত-বিনোদনের খোরাক জোগাচ্ছে ঘুড়ি

করোনাভাইরাস থমকে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। ব্যাহত করে দিয়েছে সবার স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সবাই আবদ্ধ লকডাউনে। তাতে একঘেয়েমি চলে এসেছে জনজীবনে। অার একঘেয়েমি দূর করতেই কেউ ঘুড়ি উড়াচ্ছেন বাড়ির ছাদে। কেউ বা আবার খোলা মাঠ বা নদীর ধারে। তাতেই বিকেল হলেই রং-বেরঙের ঘুড়ি উড়তে দেখা যাচ্ছে নাটোরের আকাশে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে স্কুল-কলেজ বন্ধ, অন্যদিকে খেলাধুলারও উপায় নেই। সারাদিন টিভি, কম্পিউটার, ফেসবুক চালিয়ে যেন হাঁপিয়ে উঠেছে শিশু-কিশোররা। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে এখন খোলা জায়গায় বা বাড়ির ছাদে ঘুড়ি উড়িয়ে আনন্দ লাভের চেষ্টা করছেন। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পিছিয়ে নেই বয়োবৃদ্ধরাও।

বুধবার (৬মে) সরজমিনে দেখা যায়, প্রাণঘাতী ভাইরাসের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে খোলা মাঠে বা বাড়ির ছাদে লাটাই হাতে রং-বেরঙের ঘুুুড়ি উড়াচ্ছেন অনেকে। তবে তাদের কিছু জন মাস্ক পরলেও অধিকাংশের নেই করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। মানছেন না সামাজিক দূরত্বও।

এসময় ঘুড়িপ্রেমী মেহেদী হাসান নামে এক তরুণ বলেন, ঘরে বসে টিভি দেখতেও ভালো লাগছে না, ফেইসবুকিং করতেও বিরক্ত লাগে। তাই মাঝে মধ্যে বিকেলে ঘুড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। তবে অবশ্যই সবাইকে সামাজিক দূরত্বের কথা মাথায় রাখতে হবে। এছাড়া রাব্বি নামে অারেক তরুণ জানান, ঘরে বন্দি থেকে বিরক্ত হয়ে গেছি, এখন বিকালে ঘুড়ি উড়াই। রোজার মাসে বিকালটাও ভালো কাটছে।

এছাড়া ক্রিয়া শিক্ষক মতিউর রহমান জানান, লকডাউনের মধ্যে সুযোগ থাকলে ঘুড়ি ওড়াতে পারলে তা এই মহামারীতে মানুষের মৃত্যুর খবর আর নিজের আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কার মানসিক চাপ থেকে কিছুটা হলেও রেহাই দেবে। সাথে মিলবে ক্ষণিকের মুক্তি দূর হবে একঘেয়েমি।

এদিকে, ফানাস কাগজ, সুতাসহ ঘুড়ি ওড়ানোর সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে তবে যোগান কম থাকায় এসব পণ্যে দামটা একটু বেড়েছে, এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় দোকানীরা।

অাবার, ফিরে এসেছে ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দ। এমন আনন্দের চিত্র এখন নাটোরের প্রতিটি গ্রামীণ জনপদে। তবে এতো কিছুর মধ্যেও আছে ভয় শঙ্কা। নেই পারস্পরিক সৌহার্দ্য, হাত করমর্দন ও কোলাকুলি। এসবের শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে মরণব্যাধি করোনা। কাউকে ছোঁয়া যাবে না, ধরা যাবে না। করা যাবে না কোলাকুলি। কারণ এসবেই ছড়াচ্ছে করোনার ঝুঁকি। এতোকিছুর পরও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানুষের মনে চিত্ত-বিনোদনের খোরাক জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

অসুস্থ মায়ের জন্য দোয়া চাইলেন সাংবাদিক রানা আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক শুভদিন পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও আলোর বার্তা ২৪.কম এর প্রকাশক ও …

error: Content is protected !!