গার্মেন্টস পল্লী
গার্মেন্টস পল্লী

করোনাভাইরাসের কারনে পথে বসতে পারে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর অনেক ব্যবসায়ী

*) ব্যাংক লোন নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা
*) দোকান ভাড়া মওকুফের দাবী ব্যবসায়ীদের
*) সরকারের সহযোগীতা কামনা ব্যবসায়ী নেতাদের

করোনা ভাইরাসের কারনে ক্ষতিকর প্রভাব পরেছে বিশ্ব বানিজ্য। দেশের ব্যবসায়ীরাও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। দক্ষিন এশিয়ার সর্ববৃহৎ গার্মেন্টস এলাকা কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লী। এখানকার ব্যবসায়ীদের মুখের হাসিও কেড়ে নিয়েছে এই করোনা ভাইরাস কভিড-১৯। ঈদ মৌসুমে ব্যবসা করতে না পারায় পুজি হারিয়ে পথে বসতে পারে কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লীর অনেক ব্যবসায়ীকে।

আগানগর ও শুভাঢ্যা ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে এই গার্মেন্টস পল্লীতে সোরুম রয়েছে প্রায় ১০ হাজার, কারখানাও রয়েছে ৬ হাজারের কাছাকাছি। এসকল প্রতিষ্ঠানে কাজ করে প্রায় ৮ লক্ষাধিক শ্রমিক। দেশের তৈরী পোষাকের শতকরা ৭০ ভাগ চাহিদা মেটায় কেরানীগঞ্জের এই গার্মেন্টস পল্লী। এখানে ব্যবসায়ীদের মধ্য ৭০ ভাগ ব্যবসায়ী নিজেরা পোষাক উৎপাদন করে বিক্রি করে, বাকি ৩০ ভাগ ব্যবসায়ী চায়না,ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পোষাক আমদানী করে বিক্রি করে বলে জানা যায়।

মুঠোফোনে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারনত রোযার ঈদের মৌসুমকে কেন্দ্র করেই এখানকার সারা বছরের ব্যবসা বানিজ্য। অন্যান্য সময় বেচা কেনা তেমন একটা হয় না। তখন ব্যাংক থেকে লোন করে,ধার দেনা করে সোরুম খরচ স্টাফ বেতন, কারখানা খরচসহ সব খরচ মেটাতে হয়। কম বেশি প্রায় প্রতিমাসেই লসগুনতে হয় এখানে। কিন্তু রোযার ঈদের আগে ২ মাস ব্যবসা করে সারা বছরের লস মিটিয়ে মুনাফা হয় তাদের। গত ২৩ মার্চ থেকে সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়াতে এবার ঈদ মৌসুম ভেস্তে গেছে। লকডাউন খোলার পরে ধার দেনা পরিশোধ করে আবার কিভাবে তারা ব্যবসা করবেন এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ও হতাশাগ্রস্থ বেশিরভাগ ব্যবসায়ী।

জাহাঙ্গীর হাসান নামে এক আমদানীকারক ব্যবসায়ী জানান, রোযার ঈদের জন্য আমরা মূলত জানুয়ারী/ ফেব্রুয়ারী  মাসে পন্য চীন থেকে পোষাক আমদানী করে থাকি। এবার এটা সম্ভব হয় নি। দেকানে যা মাল ছিলো তাও লকডাউন থাকায় বিক্রি করতে পারছি না। একদিকে ব্যাংক লোনের বোঝা, অন্যদিকে দোকান ভাড়া, স্টাফদের বেতন ও আনুষাঙ্গিক খরচ কিভাবে মেটাবো কিছু বুঝতে পারছি না। আমার মতো আশেপাশের ব্যবসায়ীদেরও একই অবস্থা। অনেকেই লোন ও অন্যান্য খরচ মিটাতে গিয়ে পথে বসতে পারে।

ভাই ভাই শার্ট এর সত্তাধিকারী মো: আমির হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ঈদের সিজনে বিক্রির আসায় বিভিন্ন ভাবে টাকা ম্যানেজ করে কারখানায় প্রায় ১৪ হাজার পিস শার্ট তৈরী করেছিলাম। এই শার্টগুলো বিক্রি করতে পারলে আমার সারা বছরের কারখানা খরচ, স্টাফ খরচ মিটিয়ে আমার খরচ ও হয়ে যেত। সবকিছু বন্ধ থাকাতে সবমাল কারখানাতেই পরে আছে। সিজন শেষে এগুলা কারকাছে বিক্রি করবো? আমি আমার শ্রমিকদের কিভাবে বেতন দিবো ? নিজে খাবো কি ?

এছাড়া আরো কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তারা কয়েক মাসের দোকান ভাড়া মওকুফের দাবী তোলেন। তাদের ভাষ্য মতে যেহুতু এ বছর কেও ব্যবসা করতে পারে নি। তাই গত কয়েক মাসের দোকান ভাড়া তাদের পক্ষে দেয়া প্রায় অসম্ভব। জমিদাররা যেন দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সদয় দৃষ্টি দিয়ে কয়েক মাসের ভাড়া মওকুফ করে দেয় এ বিষয়ে সদয় দৃষ্টি দেয়ার জন্য যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টিপাত কামনা করেন তারা।

খবর নিয়ে আরো জানা যায়,লকডাউন শেষে কেরানীগঞ্জে অধিকাংশ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ব্যাংক লোন, ও অন্যান্য খরচ মিটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হবে তাদের। অনেককেই পুজি হারিয়ে পথে বসতে হবে অনেকের।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ শেখ কাওসার বলেন, প্রতিবছর এই সময়টাতে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী জাক জমক থাকে। এই বছর রয়েছে শুনশান নীরাবতা। এ বছর ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির মূখে পড়বে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীরা তাদের পুজি হারিয়ে ফেলবে।

ব্যবসায়ী নেতা ও কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এই ঈদ মৌসুমের জন্য। এই মৌসুমে কারখানা ও সোরুম বন্ধ থাকাতে আমাদের ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হবে। অধিকাংশ ব্যবসায়ীদেরই ব্যাংক লোন নেয়া আছে। তারা এই সময়টাতে বেচা কেনা করে ব্যাংক লোন পরিশোধ করবে। এছাড়া শ্রমিকদের বেতন, প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য খরচ তো আছেই। কিন্তু এখন তো আর তা সম্ভব হচ্ছে না। তারা কিভাবে ব্যাংক লোন পরিশোধ করবে , দোকান ভাড়াই কিভাবে পরিশোধ করবে, শ্রমিকদের কিভাবে বেতন দিবে সব মিলিয়ে একটা খারাপ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা সরকারসহ যথাযথ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে সহযোগিতা চাই। আমাদের ব্যবসায়ীরা লসের ধাক্কা কাটিয়ে আবারো ঘুড়ে দাড়ানেরা সুযোগ চাই।

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি স্বাধীন শেখ বলেন, গত ২৩ মার্চ থেকে কেরাণীগঞ্জ গার্মেন্সস পল্লীতে লক ডাউন চলছে। কবে নাগাদ আবার সব কিছু খুলে তা ঠিক বলতে পারছি না। খোলার ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি আমরা, কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত আসে নি। আশা রাখি দ্রুতই আবার সব কিছু আগের মতো হয়ে যাবে।

newsdhaka24

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক গ্রুপের সমন্বয় কমিটি গঠিত

কেরানীগঞ্জের সামাজিক উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করা অন্যতম সামাজিক সংগঠন কেরানীগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক গ্রুপের কাজে আরও …

error: Content is protected !!