শ্লীলতাহানি
শ্লীলতাহানি

কেরানীগঞ্জে মসজিদের ঈমামের স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে মসজিদের ঈমাম সাহেবের স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এক যুবলীগ নেতার ৩ দেহরক্ষী ও তার ড্রাইভারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কলাতিয়া ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামে।

অভিযোগকারী জৈনপুর মসজিদের ঈমাম হাফেজ মো: কামরুল ইসলাম জানান, আমি জৈনপুর জামে মসজিদের ঈমামতি করি এবং কলাতিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। গত ১৮-০৪-২০ রাত ৮.৩০ মিনিটে আমার স্ত্রী প্রতিদিনের মতো বাসার সামনে হাটাহাটি করছিল। আমি এবং আমার দুই ছেলে মসজিদে ছিলাম এশার নামাজের জন্য। ওই সময় ঢাকা জেলা যুবলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আব্দুল বারেকের গাড়ির ড্রাইভার রিপন (৩৬) মদপ্য অবস্থায় বাড়ির সামনে থেকে আমার স্ত্রীকে জোড় করে টেনে হেচরে পাশের একটি চকে নিয়ে যায়। তাকে সহযোগীতা করে আব্দুল বারেকের তিন দেহ রক্ষী শেখ দিপু, আলামত, ও মামুন বেপারী। তারা চকে নিয়ে আমার স্ত্রীর শ্লীলতাহানি করে এবং মারধোর করে ও গালিগালাজ করে। আমার স্ত্রী তাদের পা পর্যন্ত ধরে।

পরে আমার স্ত্রী পরিচয় দিলে আমার বাসার পাশের মহিলাকে জিঞ্জাসাবাদ করে জানতে পেরে ওরাই আমার স্ত্রীকে আমার বাসায় রেখে যায়। এরপরে আমি আব্দুল বারেকের বাসায় গিয়ে অভিযোগ করলে বারেক সাহেব বলে, এ বিষয়টা আপনি কারো কাছে বলবেন না আমি নিজেই এর বিচার করে দিবো। ১ দিন পার হয়ে গেলেও তিনি বিচার না করায়, আশে পাশের লোকজন জানাজানি হয়। পরে ঐ দিন রাত্রেই আমি মসজিদের সভাপতিকে বিষয়টা জানাই। মসজিদের সভাপতি মসজিদ কমিটির কয়েকজনকে নিয়ে বারেক সাহেবের সাথে কথা বললে বারেক সাহেব আগামী রমজানের পরে বিচারের ডেট দেয়। কিন্তু তারা তা না মেনে আজকে ২৪ তারিখ বিচারের ডেট দেয়। বারেক সাহেব তা না মেনে গতকাল ২৩ মার্চ ডেট দেয়।  এই চারজনের বিরুদ্ধে আগে পরেও অনেক মা বোনের ইজ্জত নষ্ট করার অভিযোগ আছে কিন্তু ক্ষমতাবান হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে কেও কিছু বলতে পারে না।

বৃহস্পতিবার এলাকার অনেকে এই অপরাধীদের সুষ্ঠ বিচার দেখার জন্য জৈনপুর ঈদগা মাঠে জড়ো হয়। বারেক সাহেব নিজে বিচার ডেকে তিনি নিজেই কলাতিয়া পুলিশ ফাড়িকে খবর দেয় যে এখানে অনেক লোক জড়ো হইসে হাঙ্গামা করার জন্য। খবর পেয়ে কলাতিয়া ফাড়ির পুলিশ এসে মাঠে থাকা মুরব্বী সহ অনেককেই লাঠি পেটা করে । বিচার ডেকেও কোন বিচার হলো না। পরে আমি সুষ্ঠ বিচার না পাওয়ায়, কলাতিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ, কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাব বরাবর অভিযোগ দায়ের করলাম। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই । তারা যেন আর কোন মা বোনের শ্লীলতাহানি না করতে পারে সবার কাছে এই দাবী জানাই।

ঢাকা জেলা যুবলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আব্দুল বারেক এ বিষয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার বিচার আমি ডাকিনি বিচার ডেকেছিল মসজিদ কমিটি, দেশের করোনা পরিস্থিতিতে এতলোক একসাথে জড়ো হওয়ায় আমি কলাতিয়া পুলিশ ফাড়িতে বিষয়টা জানাই। তারা এসে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।। আর রিপন অপরাধী তার বিচার অবশ্যই হোক সেটা আমিও চাই। কিন্তু বাকি ৩জন নির্দোশ তারা না থাকলে সেদিন একটা অঘটন ঘটে যেতে পারতো।

কলাতিয়া পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো: নয়ন মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার আমাদের কাছে অভিযোগ আছে জৈনপুরে অনেক মানুষ জড়ো হচ্ছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা জড়ো হওয়া মানুষদের মাইকিং করে ছত্রভঙ্গ করে দেই।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

আমান উল্লাহ আমানের সুস্থতা কামনায় মসজিদে মসজিদে দোয়া

মোঃ মাসুদ করোনা আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক …

error: Content is protected !!