কেরানীগঞ্জের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কি বলছেন তারা ?

কেরানীগঞ্জে প্রতিদিন বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এরমধ্যে রবিবার  ২জন ডাক্তারসহ একজন পুলিশ আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৮ জন।  সব মিলিয়ে দিন দিন খারাপ হচ্ছে কেরানীগঞ্জের করোনা পরিস্থিতি। জনগনের অসেচতনাতা, নিয়মনীতি না মানা ও লকডাউনকে উপেক্ষা করাকে এ জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

কেরানীগঞ্জের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মীর মোবারক হোসেন জানান, কেরানীগঞ্জের জনগন অনেক অসেচতন। প্রতিদিন করোনা রোগী বাড়ার পরেও এরা সচেতন হচ্ছে না।বুধবার পর্যন্ত কেরানীগঞ্জে মোট ১৩৫ টি করোনা টেস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৫ টির রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ জন।  এদের মধ্যে ৪ জন মারা গেছে। ১০ জন হোম কোয়ারেইন্টাইনে আছে বাকিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জে সামাজিক ভাবেই করোনা ছড়াচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ত্রান দিতে গিয়েও অনেক লোকের ভীড় হয়। এখান থেকেও করানো ছড়ায়। গত কয়েকদিন এমন কয়েকজনের করোনা পজেটিভ পেয়েছি যারা ত্রান দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সবার অন্তত ১ বেলা কম খেয়ে হলেও ঘরে থাকতে হবে।

কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামানন্দ সরকার বলেন, কেরানীগঞ্জের মানুষকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করার জন্য আমাদের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় মাইকিং, লিফলেট বিতরন সহ জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে শুরু থেকেই। কেরানীগঞ্জের জনগনকে আরো সচেতন হতে হবে। অধিকাংশ এলাকায় পুলিশকে দেখলে মানুষ পালিয়ে যায়, পুলিশ টহল দিয়ে এসে পড়লে আবার বাহিরে বের হয়ে আড্ডা দেয়। এতা দু:খ জনক, জনগনকে পুলিশের সাথে লুকাছুপি খেলা বন্ধ করতে হবে। তাদের নিজেদের স্বার্থে নিজেদের ভালো রাখার জন্য ঘড়ে থাকতে হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ জানান, কেরানীগঞ্জে ভাসমান জনগন বেশি থাকায় করোনা ঝুকি অনেক বেশি। এছাড়া কেরানীগঞ্জের পাশেই নারায়নগঞ্জ ।নারায়নগঞ্জে করোনা পরিস্থিতি বেশি খারাপ হওয়ায় নারায়নগঞ্জ থেকে জনগন নদীপাড় হয়ে কেরানীগঞ্জে চলে আসছে। তাই কেরানীগঞ্জের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হচ্ছে। তাছাড়া কেরানীগঞ্জের আগানগর জিনজিরা শুভাঢ্যায় জনবহুল এলাকা হওয়ায় এই এলাকাগুলোতে করোনা রোগী সংখ্যা বেশি। তার পরেও এখানে মানুষ সামাজিক দুরুত্ব মানছে না। কেরানীগঞ্জকে করোনাভাইরাস থেকে বাচাতে  হলে জনগনকে আরো সচেতন হতে হবে। আরো সতর্ক হতে হবে। সবাই মিলে সচেতন হলেই করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, কেরানীগঞ্জকে করোনা ঝুকিমুক্ত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।  ইতিমধ্যে করোনা রোগী পাওয়ায় আগানগর, শুভাঢ্যা, কোন্ডা, শাক্তা , জিনজিরা ইউনিয়ন লক ডাউন করে দেয়া হয়েছে। কেরানীগঞ্জের অসহায় ও হতদরিদ্ররা যেন খাবারের কষ্টে না থাকে সে জন্য আমরা নিয়মিত খাদ্য সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু তারপরেও মানুষ ঘরে থাকছে না। কারনে অকারনে বের হচ্ছে বাহিরে, মানছে না সামাজিক দুরুত্ব। ব্যবসায়ী এলাকা হওয়ায় নারায়নগঞ্জ গাজীপুর সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ কেরানীগঞ্জে আসছে এ কারনেও করোনা রোগী বাড়ছে। কেরানীগঞ্জবাসী নিজেরা সচেতন হলেই একমাত্র করোনা রোধ করা সম্ভব।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে বন্ধ হলো বাল্য বিবাহ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ৯৯৯ এ ফোনের মাধ্যেম পুলিশের হস্তক্ষেপে মাহি (১৩) নামে এক নাবালিকা মেয়ের বন্ধ …

error: Content is protected !!