ভারত এ চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই মুসলিম পরিবারের উপর হামলা

ভারত এ চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই মুসলিম পরিবারের উপর হামলা

মুসলিম বিদ্বেষী আচরন ভারতে দিন দিন বেড়েই চলেছে। এবার ভারত এর উত্তর প্রদেশে চলন্ত ট্রেনের ভিতরে আক্রান্ত হলো এক মুসলিম পরিবার। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার ও করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি গেল বুধবারের। নিকট আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ট্রেনে ফিরছিল ওই মুসলিম পরিবারটি। ৩০-৩৫ জনের একটি দল ট্রেনের ভিতর ই তাদের উপর চড়াও হয়।  লোহার রড, লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয় তাদের উপর । তাদের অনেক মারধর করা হয় । সাথে থাকা মোবাইল, গয়না গাটি সহ সব জিনিস পত্র ছিনিয়ে নেয়া হয় । এমনকী, মহিলাদের শ্লীলতাহানি করতে ও দ্বিধা বোধ করে নি হামলাকারীরা ।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের কে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সকলের মাথায় এবং পেটে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানায় চিকিৎকরা। ঘটনার সুত্রপাত হয় মোবাইল কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে।দুষ্কৃতীরা মোবাইল কেড়ে নেয়ার পর পাশের কামরা থেকে সঙ্গীদের ডেকে আনে।তারপর হামলাকারীরা সামনের একটি স্টেশনে ট্রেন থামায় । ।ঐ  সময় ভয় পেয়ে অন্য যাত্রীরা কামরার সব দরজা-জানলা বন্ধ করে দেন। হঠাৎই ট্রেনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েক জন যুবক জানলার কাচ ভেঙে কামরায় ঢোকে । এর পরই শুরু হয় বেদম মারধর।

পরিবাবের প্রধান বছর পঞ্চাশের ‌মহম্মদ শাকিরের হাত ভেঙেছে  এ ঘটনায়।মাথাতেও জোর চোট লেগেছে তার। পরে শাকির বলেছেন, ‘ওরা কাউকে ছাড় দেয়নি আমাদের প্রতিবন্ধী ছেলেটাও বাদ যায় নি। হামলার সময়ে ওরা বলছিল, এরা মুসলিম। এদের মার।’’

শাকিরের ছেলে আরসান বলেছেন, ‘ওরা আমার মা বোনের জামা কাপড় ছিড়ে ফেলছিলো। সোনার গয়না গাটি ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে। ’ কামরায় থাকা অন্য যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, সাহায্যের জন্য ১০০ নাম্বারে ডায়েল করেও কোন কাজ হয় নি। প্র্তিবার ই ফোন কেটে দেয়া হচ্ছিলো।

ফারুকাবাদের রেল পুলিশ সুপার ও পি সিংহ বলেন, মুসলিম পরিবারটির ৪ জনের মাথায় আঘাত লেগেছে এবং পেটে চোট পেয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ভাবে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরপরে আরো ধারা  যোগ করা হবে।” উত্তর প্রদেশ সরকার বলেছে আইন তার নিজিস্ব গতিতে চলবে।

গরু রক্ষার নামে মুসলিমদের উপর জায়গায় জায়গায় হামলার ঘটনায়  অনেক সমালোচনায় মুখে উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্য নাথের সরকার।মুখ্যমন্ত্রী যোগী  চাপে পড়ে এধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন ।

এমনকী, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদীও  বলেছিলেন, গরু রক্ষার নামে মানুষ খুন মেনে নেয়া হবে না। আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না।’’  কিন্তু, হামলা থামেনি তাতেও।

বুধবারের ঘটনা ফের প্রমাণ করল প্রধানমন্ত্রীর বার্তা সমাজের সব স্তরে পৌঁছচ্ছে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু

নোয়াখালীতে মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এক মাসের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নোয়াখালী সোনাইমুড়ীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আতাউর রহমান ভূঁইয়া স্কুল এন্ড …

Leave a Reply

Your email address will not be published.